শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

বর্ষায় ফের পানি ডুবির আশংকা : কুতুবদিয়ায় ৯২ কোটি টাকার বেড়িবাঁধের কাজে ধীরগতি

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ২৪, ২০১৮ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ২৪, ২০১৮ ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

এম. এ মান্নান :
প্রতিবছরই কুতুবদিয়ায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও ঘূণিঝড়ে দ্বীপের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সমুদ্র গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। দেড় লাখ মানুষের প্রাণের দাবী দ্বীপের চতুর পাশে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মান। তারই ধারাবাহিকতায় উন্নয়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রি দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অপার পর্যটন সম্ভবনাময় দ্বীপকে রক্ষা করার জন্য ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। পাউবোর কক্সবাজারের ৭১ নং পোল্ডারের ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁেধর মধ্যে পশ্চিম তাবালের চর,আজম কলোনী,পেয়ারকাটা,আকবর বলী পাড়া,কাইছার পাড়া,চুল্লার পাড়া,পিল্লার পাড়া এলাকায় ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য টেন্ডার দেয় সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে অতিঝুকিপূর্ণ ৪.৫ কিলোমিটার প্রটেকটিভ ব্লকের মাধ্যমে বাকী ৯.৫ কিলোমিটার মাটি দ্বারা নির্মাণ করা হবে। সকলের প্রাণের দাবী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে বেড়িবাধে কাজ বাস্তবায়ন করা। এরই আলোকে ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওর্য়াকস লি: ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পেয়ে গত বছরের ১৭ ড়িসেম্বর কাজ শুরু করেন। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় ১০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে এলাকাবাসিরা জানান। এমন ধীর গতিতে কাজ করলে আগামী ৫মাসে ২০-২৫ ভাগ কাজ করা সম্ভব হবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বেড়িবাঁধ নির্মান করা সম্ভব না হলে দ্বীপ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে সেই সাথে প্রধান মন্ত্রির স্বপ্ন এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তাই দ্বীপের সর্বস্ত’রের মানুষের প্রাণের দ্বাবী বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে দ্বীপ রক্ষার জন্য অতিদ্রুত সময়ে বেড়িবাধ নির্মাণ করে দ্বীপের মানুষ এবং দ্বীপকে রক্ষা করার জন্য অন্যতাই প্রাকৃতিক দূর্যোগ,রোয়ানো,আইলার মত ঘূণিঝড়ে ্দ্বীপের মানুষকে আবারও উদ্বাস্ত হতে হবে। এ ব্যাপারে উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আকবর বলি পাড়া বাসিন্দা মফিজ আলম জানায়,গত বছর বেশ কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। তখন আমরা এ দ্বীপে বসবাস করার আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তৎকালিন পানি সম্পদ মন্ত্রি ব্যারিষ্টার আনিসুল হক সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রানায়লের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকসহ অন্যান্যরা পরিদর্শন করে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা আশ্বাস প্রদান করেছিল।
সংশ্লিষ্ট ঠিদাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ অত্যন্ত ধীরগতি। এভাবে কাজ করলে আবারও দ্বীপের মানুষকে প্রাকৃতিক দূযোর্গের সাথে লড়াই করতে হবে। সেই সাথে অপার সম্ভাবনাময় এ দ্বীপটি সমুদ্র গর্ভে হারিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে পাউবোর (এস.ও ) এলটন চাকমা জানায়,বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্বাবধানে বেড়িবাধে কাজ শুরু হয়েছে গত বছরের ড়িসেম্বর মাসে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুব ধীর গতিতে কাজ করে যাচ্ছে ,অর্ধেক সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ১৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হবেনা বলে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে যে হারে কাজ চলছে তাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে অর্ধেক সম্পন্ন হওয়া কাজও সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই কাজের গতি বাড়িয়ে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে অতিঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর জানান,বাংলাদেশের সবচেয়ে দূযোর্গ প্রবন এলাকা হচ্ছে বাংলাদেশের মূলভূ-খন্ড থেকে বিচ্চিন্ন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। পাউবোর ৭১ নং পোল্ডারের ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁেধ মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গত বছর স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক এর একান্ত প্রচেষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। নৌবাহিনীর তত্ববধানে বেড়িবাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা করে গত বছরের ড়িসেম্বর মাসে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও এখনো পর্যন্ত ১০ ভাগও সম্পন্ন হয়নি। কাজের গতি বাড়িয়ে আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সম্পন্ন করতে হবে। না হলে আবারও প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে দ্বীপের মানুষকে লড়াই করতে হবে। সেই সাথে দ্বীপ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রির প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সেই সাথে সরকারের ভাবমূতি নষ্ট হবে। তাই অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্ঠি কামনা করেন তিনি।
স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক,কাজের ধীর গতি শুনে দু:খ প্রকাশ করেন এবং কাজের দ্রুতগতি ফিরিয়ে আনার জন্য দায়ীত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ের কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রির সাথে সাক্ষাত করে কাজের গতি বাড়িয়ে বেড়িবাধেঁর কাজ বাস্তবায়ন করা হবে জানান।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::