বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

বর্ষায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ১৪, ২০১৮ ৯:০৩ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ১৪, ২০১৮ ৯:৩১ অপরাহ্ণ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমরু সীমান্তের জিরো লাইনে পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা। জায়গাটি তুমব্রু খাল সংলগ্ন হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যায়। আর এতে চরম দূর্ভোগের আশঙ্কায় রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা। আশ্রিতরা সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা পেলেও আসন্ন বর্ষায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিতায় দিনাতিপাত করছেন।

জানা যায়, জিরো লাইন হওয়ায় তারা মিয়ানমারও যেতে পারছে না বাংলাদেশেও ঢুকতে পারছে না। তাই বর্ষা মৌসুমে জিরো লাইনে অস্থায়ী বসবাস তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ কমাতে কিছু ব্যবসায়ী সেখানে মাচাং ঘর তৈরির কাজ শুরু করেছে। ঘরগুলো নির্মাণে প্রশাসন ও বিজিবি সহযোগিতা করছেন। গত বছরের আগষ্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক সহিংসতায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমরু সীমান্তে জিরো লাইনে ৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা এসে অবস্থান নেন। তবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সব রোহিঙ্গা সরিয়ে নিলেও জিরো লাইনে এখনো ৫ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

জিরো লাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা জানান, অবস্থানরত জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ বর্ষায় এই এলাকা তুমরু খালের পানিতে তলিয়ে যায়। তখন চরম কষ্টের মধ্যে পড়তে হবে। কারণ আমরা মিয়ানমারেও যেতে পারব না এবং বাংলাদেশেও যাওয়া যাবে না পানিতে ভাসতে হবে। তবে আমাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ঢাকার কিছু ব্যবসায়ী মাচাং ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। এতে করে আমাদের জন্য কিছটাু সুবিধা হবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, বর্ষা আসার আগেই প্রশাসন, বিজিবি, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ সব র্কতৃপক্ষকে অবহতি করা হয়েছে। তবে ঢাকার কিছু ব্যবসায়ীর সহায়তায় বাঁশ, বেড়া, টিন দিয়ে সেখানে কিছু মাচাং ঘর তৈরি করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ৪৫ পরিবারের জন্য ৯টি শেড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পরর্বতীতে আরো ৬০টি ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। ফলে কিছুটা হলেও দুর্ভোগ কমবে। কারণ জিরো লাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা মিয়ামারেও যেতে পারবে না এবং বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে পারবে না।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে নাইক্ষ্যংছড়ির অন্য সব জায়গা থেকে কক্সবাজারের উখয়িার কুতুপালং শিবিরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র তুমরু সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা সেইখানে রয়ে গেছে। তবে বর্ষা মৌসুমে জিরো লাইন এলাকা যদি প্লাবিত হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা নিয়ে তাদেরকে ভালো পরিবেশে রাখার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য গত বছরের ২৫ আগষ্ট মিয়ানমারে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকরে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::