শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

বন্যা ও জোয়ারে প্লাবিত ডজনাধিক চিংড়ি ঘের : সাগরে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুন ২১, ২০১৮ ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: জুন ২১, ২০১৮ ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

আতিকুর রহমান মানিক ::
সদ্যগত বৃষ্টিজনিত বন্যা ও সামুদ্রিক প্রবল জোয়ারে কক্সবাজার সদর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় ডজনাধিক চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে। উপকূলীয় পোকখালী, চৌফলদন্ডী ও ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ হাজার একর আয়তনের ক্ষতিগ্রস্হ ঘেরে এখন জোয়ার ভাটা চলছে। এসব ঘেরে উৎপাদিত চিংড়ি ও অন্যান্য প্রজাতির বিভিন্ন মাছ সাগরে ভেসে গেছে। এতে চিংড়ি চাষীরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছেন।
গোমাতলীর ক্ষতিগ্রস্হ চাষী ও ঘের মালিক হান্নান মিয়া জানান, গত ১০ জুন থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির ফলে ঈদগাঁও নদীর উজান থেকে প্রবল পাহাড়ী ঢল নেমে আসে। ঢলের তোড়ে ১৪ জুন পশ্চিম পোকখালীতে বেড়িবাধ ভেঙ্গে যায়। এর ফলে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয় ফরাজী ঘোনা, নতুন ঘোনা, বাইদ্যা খালী, কামিজ্জি ঘােনা, বাইক্কা চড়া দক্ষিন ঘোনা ও মাঝের ঘোনা নামক চিংড়ি ঘের। অপরদিকে একই সময় সাগরে অমাবস্যা তিথির প্রবল জোয়ারের তোড়ে বেড়িবাধ উপচে ভিতরে ঢুকে পড়ে জোয়ারের পানি। এতে পোকখালীর রশিদের ঘোনা, শহর মিয়ার ঘোনা, ১০ একর, মোক্তার মৌলভীর ঘোনা, নেছার ঘোনা, বোরাক, কাঁটাঘোনা প্লাবিত হয়। একই সময় চৌফলদন্ডীর ২ টি বড় আকারের ঘের ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ঘের প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে মাছ সাগরে ভেসে যাওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছেন চাষীরা।
চিংড়ি চাষ ও চিংড়ির রোগ-বালাই প্রতিরোধ বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট এ্যাকোয়া কনসালটেন্সি কর্তৃপক্ষ জানান, গত মে মাসে লবন উৎপাদন মৌসূম শেষ হলে এসব ঘেরে পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। তখন থেকে বেড়িবাঁধ মেরামত, স্লুইচ গেইট নির্মান, চুন-সার প্রয়োগ, মাটি-পানি পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ঘের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন চাষীরা। এরপর ঘেরে বাগদা চিংড়ি পোনা মজুদ করা হয়। গতমাসে মজুদ করা এসব চিংড়ি পোনা (পি এল) এখন কিছুটা বড় হয়ে “জুভেনাইল ষ্টেজ” এ রয়েছে। আর কিছুদিন পরেই এসব পোনা পরিপূর্ণ চিংড়িতে রূপান্তরিত হয়ে আহরণযোগ্য হত। এখন ঘের ভেঙ্গে মাছ সাগরে ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্হ চাষীদেরকে আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) ডঃ মঈন উদ্দীন আহমদ জানান, ক্ষতিগ্রস্হ চিংড়ি চাষীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে ও প্লাবন পরবর্তী সম্ভাব্য রোগবালাই প্রতিরোধে তাদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::