তারিখ: শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share:

প্রসেনজিৎ দাস, ভারতের প্রতিনিধি ঃঃ

সরকার পরিবর্তনের আঁচ করতে পেরে রাতারাতি সিপিএমের মুখপত্র ডেইলি দেশের কথার মালিকানা তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি সােসাইটির হাতে। আর তা করতে গিয়ে এবার আইনী বেড়াজালের মুখে পড়েছেন পত্রিকার পরিচালকমন্ডলী। এই পত্রিকার মালিক কিংবা প্রকাশনা নিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসকের কাছে একটি অভিযােগ করেছেন জনৈক শ্যামল দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি। এই ইস্যুতে দুই দিন ধরে শুনানি চলে। শুনানির পরে জেলাশাসক অভিযােগকারীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে এবার উত্থাপিত অভিযােগ সম্পর্কে দেশের কথার পরিচালকমন্ডলীর বক্তব্য জানতে খুব শীগ্রই আইনি নােটিশ পাঠাতে চলেছেন বলে খবর। সিপিএম দলের সমস্ত স্থরের নেতা কর্মী কিংবা সমর্থকই হােন বা বিরােধী যে কোনাে দলের নেতা-কর্মী সমর্থক। ডেইলি দেশের কথা ত্রিপুরা সিপিআইএমের মুখপত্র বলে আপামর রাজ্যবাসীই জানেন। তদুপরি দলের মুখপত্রে যে ঘােষণা প্রতিদিন প্রকাশিত হতাে তাতেও উল্লেখ ছিল, এই পত্রিকার মালিকানা হলাে ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি’। পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন গৌতম দাশ এবং প্রকাশক ছিল জনশিক্ষা প্রিন্টিং ওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড। নির্বাচনের মুখে পরিবর্তনের ঢেউ আগেভাগেই আঁচ করতে পেরে সিপিএম নেতারা একটি সােসাইটি গঠন করে তার মালিকানা তুলে দেন। ওই সােসাইটির নামকরণ করা হয়ডেইলি দেশের কথা সােসাইটি। প্রকাশনার উল্লেখ করা হয়- ত্রিপুরা প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড। লক্ষ্যণীয় ঘটনা হলাে- পত্রিকার মালিকানা কিংবা প্রকাশনা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে দলীয় কোনাে সিদ্ধান্ত ছিল কি না তারচেয়ে বড় কথা হলাে-এই পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে আরএনআইকে কিছুই জানানাে হয়নি। অথচ পত্রিকার মালিকানা কিংবা ঘােষণা সংক্রান্ত যে কোনাে বিষয়ে, এমনকি পত্রিকার দামের পরিবর্তন করতে হলেও আরএনআইয়ের সম্মতি সবার আগে প্রয়ােজন। জেলাশাসকের মাধ্যমে একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা সম্পূর্ণ করতে হয়। আরও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলাে- কয়েক বছর আগে সিপিএমের সর্বশেষ পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্তক্রমে ডেইলি দেশের কথার সম্পাদক পদ থেকে গৌতম দাশকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরিবর্তে সম্পাদক করা হয় সমীর পালকে। কিন্তু এখনাে আর এনআইয়ের কাছে সম্পাদক, প্রকাশক হিসাবে রয়ে গেছে। গৌতম দাশের নাম! মূলতঃ এ নিয়ে বিভ্রান্তির জেরেই শ্যামল দেবনাথ ‘দ্য প্রেস এন্ড রেজিষ্ট্রেশন অব বুকস অ্যাক্ট ১৮৫৭’এর ৫ ও ৮ ধারা লঙ্ঘিত হচ্ছে। বলে জেলাশাসকের কাছে অভিযােগ করেন। অভিযােগকারীর বক্তব্যএকই প্রকাশনার দুই রকম ঘােষণায় সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র বিভ্রান্তই হচ্ছেন।এটা পাঠকের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর অভিযােগটি সম্পর্কে দুইদিন যাবৎ শুনানি হয় জেলাশাসকের অফিসে। গত ২৭ আগষ্ট সর্বশেষ শুনানি হয়। এবং শুনানিতে অভিযােগের যথার্থতাও প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার দ্বিতীয় পক্ষ তথা ডেইলি দেশের কথার সম্পাদক ও প্রকাশককে এবার নােটিশ পাঠাতে চলেছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসক। দ্বিতীয় পক্ষের সাথে আলােচনার পরেই সেকশন ১০ অনুযায়ী জেলাশাসক এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে মান্য করা না হলে ডেইলি দেশের কথা প্রকাশনা বন্ধও করে দেওয়া হতে পারে।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::