বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

বঙ্গোপসাগরে ফের ফিশিং ট্রলার ডাকাতি : মুক্তিপন দাবিতে তিন জেলে অপহরণ

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ৭, ২০১৮ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ৭, ২০১৮ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

লিটন কুতুবী,কুতুবদিয়া:
বঙ্গোপসাগরের জাহাজখাড়ি নামক স্থানে গত রবিবার (৬মে) গভীর রাতে এবং সোমবার সকালে পাঁচ ফিশিং ট্রলার গণডাকাতির কবলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় জলদস্যুরা পাঁচ ফিশিং ট্রলারের মূর‌্যবান মালামাল লুট করার পরও ট্রলারের ৩ মাঝি মোঃ চৌধূরী (৪৫) মোঃ আজম (৩৫) লোকমান (৪০)কে মুক্তিপণের জন্য তুলে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। গতকাল সোমবার বিকালে জলদস্যুদের কবলে পড়া জেলেরা কুতুবদিয়া উপকূলে ফিরে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের এ খবর নিশ্চিত করেন। কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর ধুরুং ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির (উত্তর) সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন জানান, কুতুবদিয়া উপকূলের উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আকবরবলী ঘাট হতে এফ.বি. আলম,এফ.বি.মানিক, এফ.বি. সাগর নামক ফিশিং ট্ররারগুলো প্রায় অর্ধশত জেলে নিয়ে গত ২মে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। ট্রলারগুলো সাগরের জাহাজখাড়ি নামক স্থানে মাছ ধরারত অবস্থায় জলদস্যুরা তাদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে জলদস্যুরা ক্ষান্ত না হয়ে মুক্তিপণের দাবি ট্রলারের তিন মাঝিকে তুলে নিয়ে যায়। এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত অপহৃত তিন জেলেদের ছেড়ে দেয়নি জলদস্যুরা। এফ.বি. আল্লারদান ফিশিং ট্রলারের মালিক নুরুল হুদা জানান, গত শনিবার রাতে কুতুবদিয়া উপকূলের আকবরবলী ঘাট হতে তার ৬৫ অশ্বশক্তি ফিশিং ট্রলারটি ঘাট থেকে রাতের অন্ধকারে জলদস্যুরা নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করা হয়েছে বলে ট্রলার মালিক ও ইউনিয়ন আ,লীগ নেতা আবদু রাজ্জাক এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেন। এ ছাড়াও জেলে অপহরণের খবর তাদের পরিবারের নিকট পৌছলে কান্নার আহাজিতে পরিবেশ ভারি হয়ে পড়ে। জলদস্যুদের কবলে পড়া জেলে আবদু গফুর জানান, একটি নতুন ফিশিং ট্রলার নিয়ে ১৮/২০জন অস্ত্রধারী জলদস্যু অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তাদের ট্রলারে হামলা চালায়। তার দেখা মতে কুতুবদিয়া,বাশঁখালী,আনোয়ারা,পেকুয়া, এলাকার প্রায় ১০/১৫টি ফিশিং ট্রলারে গণডাকাতি চালিয়ে মালামাল লুট করে। অনেক জলদস্যু জেলেদের পরিচিত হলেও মুখ খূলছে না মৃত্যুর ভয়ে। কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউসের সাথে ট্রলার ডাকাতির ব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, গভীর সাগরে ডাকাতি হলে পুলিশের করার কিছু নেই। যেহেতু নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সাগর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। গত ৫মাসে থানার তালিকাভূক্ত ডাকাতসহ কুতুবদিয়া উপকূলের প্রায় শতাধিক ডাকাত আটক করা হয়েছে। অবশ্য কিছু কিছু ডাকাত জামিনে মুক্তি পেয়ে পূনরায় সাগরে ডাকাতি কাজে নেমে পড়েছে বলে তাদের নিকট খবর এসেছে। দীর্ঘদিন জলদস্যুরা পুলিশের আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে গিয়ে অবস্থান নেয়। কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধূরী বলেন, কুতুবদিয়া উপকূলের জেলেরা জলদস্যুদের তান্ডবে সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছে না। কুতুবদিয়া,বাশঁখালী,পেকুয়া,চকরিয়া,মহেশখালী উপকূলের জলদস্যুরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রেখে সাগরে জলদস্যুতা করে বেড়াচ্ছে। এসব জলদস্যুদের কারণে কুতুবদিয়া উপকূলের শত শত জেলে ভয়ে সাগরে মাছ ধরার জন্য যাচ্ছে না। তিনি সাগরে নৌবাহিনী ও সোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::