মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

প্রেমিকার চুল কেটে সিগারেটের ছ্যাকা দিলো স্ত্রী, শ্যালিকা…

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০১৯ ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১৭, ২০১৯ ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম ::

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে এক যুবককে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ গ্রেফতার করেছে সদরঘাট থানা পুলিশ। আর পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে নির্যাতিত মেয়েটিকে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মেয়েটির প্রেমিক নিজাম উদ্দিন (৩০), তার স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৭), তানিয়ার বোন সোনিয়া বেগম (২২), সোনিয়ার স্বামী মো: লিটন (২৯) তাদের খালা পপি বেগম (৩০) ও নানী ফিরোজা বেগম (৬৫)।

সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, মায়ের মৃত্যুর পর নির্যাতিতা কিশোরীর রিকশাচালক বাবা আবার বিয়ে করলে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে সে চট্টগ্রামে ফুফুর বাসায় চলে আসে এবং আগ্রাবাদে একটি গার্মেন্টে চাকরি নেয়।

গার্মেন্টে যাওয়া-আসার পথে সিএনজিচালক নিজামের সাথে পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক হয়। নিজাম নিজেকে তার কাছে অবিবাহিত বলে পরিচয় দেয় এবং বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে ৮-৯ মাস ধরে প্রেম করে আসছিল। বিয়ের কথা বলে ওই কিশোরীকে গত ১ এপ্রিল ফুফুর বাসা থেকে নিয়ে এসে চৌমুহুনি এলাকায় নতুন বাসায় উঠায় নিজাম। তারা সেখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসবাস করছিল। কিন্তু টাকার সঙ্কটসহ নানা কথা বলে বিয়ে করতে সময় ক্ষেপণ করছিল নিজাম। পরে মেয়েটি জানতে পারে নিজামের স্ত্রী-সন্তান আছে। এরই মধ্যে বিষয়টি আচ করতে পেরে নিজামের স্ত্রী তানিয়া স্বজনদের নিয়ে ওই বাসা থেকে দুইজনকে ধরে নিজের বাসায় নিয়ে যায়।

ওসি বলেন, পশ্চিম মাদারবাড়ি এক নম্বর গলিতে সোনিয়ার বাসায় এনে মেয়েটিকে সবাই মিলে মারধর করে চুল কেটে দেয়। ফিরোজা বেগম মেয়েটির মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়। এ ঘটনা তারা মোবাইলে ভিডিও করে রাখে এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়, যাতে কাউকে না বলে। মেয়েটি যাতে মামলা না করে সেজন্য তারা এসব কাজ করেছে এবং সোমবার সকালেও মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে আসে। পরে এক পরিচিত মহিলার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন উল্লেখ করে ওসি জানান, আমরা তাকে ফুফুর বাসা থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে মামলা রেকর্ড করি সোমবার রাতে। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে নিজামসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। মেয়েটিকে উদ্ধারের পর ভিডিও ধারণ করা দু’টি মোবাইল ফোন, চুল কাটায় ব্যবহৃত কাঁচিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয় বলে তিনি জানান।

ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, সিএনজিচালক নিজাম বাসায় ফিরে গিয়ে নিজের মোবাইল বন্ধ করে স্ত্রীর মোবাইল ব্যবহার শুরু করে, যাতে তাকে কেউ না পায়। অভিযোগের পর সোমবার রাতে আগ্রাবাদ মিস্ত্রি পাড়ার গ্যারেজ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে, নারী ও শিশু নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারায় মামলা হয়েছে।

এদিকে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিজাম ও ফিরোজা বেগম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন বলেও ওসি নেজাম জানিয়েছেন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::