শিরোনাম :
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় রোহিঙ্গা শিবিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ১৫, ২০১৮ ২:৫১ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ১৫, ২০১৮ ২:৫১ পূর্বাহ্ণ

বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা করছে গবেষকরা। তবে সেই দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো।

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় ২ লক্ষ রোহিঙ্গা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এরমধ্যে পাহাড় ধসের অতি ঝুঁকিতে রয়েছে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে না পারলে প্রায় ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। যেখানে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করতে ব্যাপক তৎপরতা চলানো হচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের পাহাড় ধস এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত করার জন্য সচেতনতা মূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। আর অন্যদিকে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ এবং খাল খনন করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করারও প্রক্রিয়া চলছে।

পানি চলাচল স্বাভাবিক করতে না পারলে হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যার ঝুঁকি কাটাতে হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে ৯ কিলোমিটার খাল খনন করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ অংশ খনন হয়ে গেছে। এটি খনন হলে পানি চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বর্ষা মৌসুমে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো শিবিরে রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সেতু তৈরীর কাজ করছে।

আইওএম এর ন্যাশনাল কমিউনিকেশন কর্মকর্তা শিরিন আখতার বলেন, এই খাল খননের ফলে বর্ষা মৌসুমে শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষা পাবে তা নয়, স্থানীয়রাও ব্যাপক উপকৃত হবে। কারণ পানি চলাচল হলে চাষাবাদ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

রোহিঙ্গা শিবিরের প্রতিটি সেন্টারে কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় পাহাড় ধস এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা এবং করণী সম্পর্কে নাটক মঞ্চায়ন করা হচ্ছে। বিনোদনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হওয়ায় নাটক গুলো দেখতে রোহিঙ্গাদের মধ্যেও বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

রোহিঙ্গা আবুল কাশেম (৫৪) বলেন, নাটকটি দেখতে তাদের খুব ভাল লাগে। তারা জানতে পেরেছেন কিভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়।

বিভিন্ন সেন্টারে নাটক মঞ্চায়ন করা হচ্ছে ইউএনএইচসিআর এর পক্ষ থেকে। নাটকটি সংকলন করেছেন ইউএনএইচসিআর এর বিশেষজ্ঞ ও শেল্টার কর্মকর্তা মারিনা ড্রাজবা।

ইউএনএইচসিআর এর হেড অব কমিউনিকেশন ক্যারোলিন গ্লাক বলেন, বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য ভূমিধ্বস সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কয়েকজন অভিনয় শিল্পী, শিল্পী এবং বাদক দল নিয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ধারাবাহিকভাবে নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। এর মূল ম্যাসেজ হলো বর্ষা মৌসুমে তারা কিভাবে তুলনামূলকভাবে ভাল থাকতে পারে সেই সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, কোন একটি বিষয়কে শক্তিশালী হিসেবে বোধগম্য করার জন্য নাটক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শিশুদেরও আকৃষ্ট করতে এতে হাসির কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্যে হলো, নাটকের মাধ্যমে জরুরি কিছু ম্যাসেজ রোহিঙ্গাদের কাছে পৌছে দেওয়া।

বর্ষা মৌসুমে যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে টানা একমাস খাদ্য বিতরণ করারর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ^খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি)। এরজন্য সংস্থাটি মধুরছড়া রোহিঙ্গা শিবিরে লজিষ্টিক হাব তৈরী করছে।

ডব্লিউএফবি সূত্রে জানা গেছে, মধুরছড়া রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থিত এই লজিষ্টিক হাব ৫ হাজার বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এই লজিষ্টিক হাবে ১৬ টি মোবাইল স্ট্রোরেজ ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। এখানে খাবার এবং নন-ফুড আইটেম রাখা হবে। হাবটি শুধু ডব্লিউএফপি নয়, প্রয়োজনে মানবিক সহায়তাদানকারি সংস্থা গুলোও ব্যবহার করতে পারবে। বর্ষা মৌসুমে যাতে প্রতিজন রোহিঙ্গা শরণার্থী খাবার পেতে পারে সেজন্য জোর প্রচেষ্টা করছে ডব্লিউএফপি।

ডব্লিউএফপি এর কর্মকর্তা প্রিয়া প্রধান জানান, মধুরছড়া এলাকার লজিষ্টিক হাব থেকে উখিয়া এবং টেকনাফে বসবাসকারি প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে দুর্যোগকালিন সময়ে তাৎক্ষণিক খাবার বিতরণ করা হবে। প্রতি ১৫ দিন পর একটি রাউন্ড বিতরণ করা হবে। এই হাবে এক সঙ্গে দুই রাউন্ডের খাবার মজুদ করা যাবে।

ইন্টারসেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) এর কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিআই কর্মকর্তা নায়না বোস বলেন, বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। তবে এটি কাটিয়ে উঠতে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, আশা করি সব ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সম্প্রসারিত রোহিঙ্গা শিবিরে অবকাঠামো তৈরী প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে সম্প্রসারিত রোহিঙ্গা শিবিরে ঝুঁকিপূর্ণ অনেক রোহিঙ্গা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি গুলোও শিগগিরই সরিয়ে নেওয়া হবে। ঝুঁকি এড়াতে যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই করা হচ্ছে। সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::