তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

বিশেষ প্রতিবেদক::

কলাতলীর সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এখনো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে দখলবাজ চক্রের অবৈধ শতাধিক স্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে ঘাপটি মেরে থাকা চিহিৃত ওই দখলবাজচক্রটি সুগন্ধা পয়েন্টের ড্রাগন মার্কেটের পাশে রাতের আঁধারে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সরকারী জমি দখল করে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ দোকান নির্মাণ।

পাশাপাশি একই স্থানে রাস্তার উত্তর পাশে রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়ে দখলবাজ সিন্ডিকেটের সারিবদ্ধ হরেক রকমের দোকান। প্রশাসনের একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারী জমিতে অবৈধ দোকান নির্মাণের কারণে পর্যটন এলাকার সর্বস্তরের লোকজনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তবে ৭ জুলাই (রবিবার) সকালে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মোক্তারের নেতৃত্বে সুগন্ধা এলাকায় মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় হয়েছে।

প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে যদি নিজ উদ্যোগে তা সরানো না হয় তাহলে ৮ জুলাই সোমবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে বলে ওই সময় হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে-সৈকত এলাকার শীর্ষ দখলবাজদের তালিকায় রয়েছে মহেশখালীর মুফিজ, কলাতলীর নুর মোহাম্মদ, রবিন, তার বড় ভাই নাছির, রাসেল, হাজী জসিম, আব্দুর রহমান, মোঃ হানিফ, আরিফ, বাবু, আলম, জয়নাল, মনিয়া, মিঠু, নজু, সোহেল, সৈকত, আল্লার দান হোটেলের মালিক মনির, নয়ন, কিবরিয়া, ইয়াহিয়া, ভারুয়াখালী খালেক, মোঃ মেহেদী, হালিম, হামিদ সওদাগর, ছোট হামিদ, সাদেক ও সাহেদ।

সূত্রমতে, এদের নেতৃত্ত্ব দিয়ে যাচ্ছে শীর্ষ দখলবাজ রহমান, হাজী জসিম, জয়নাল ও মিঠু। মূলত তাদের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে নির্মাণ করা হয় অহরহ অবৈধ স্থাপনা। এই অবৈধ স্থাপনা/দোকান নির্মাণের পর একেকটি দোকান বিক্রি হয় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায়।

জানা যায়-সুগন্ধা পয়েন্টের ড্রাগন মার্কেটের পূর্ব পাশের ওই স্থানে ইতোপূর্বে ৯ বার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় অর্ধশত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল। উচ্ছেদ করে উদ্ধারকৃত সরকারী জমিতে তারকাটা দেয়াসহ ৯০টি নারকেল গাছের চারা রোপন করা হয়েছিল।

এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানের কিছু দিন যেতে না যেতেই তারকাটা, নারকেল গাছ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে যায় সৈকত এলকার শীর্ষ দখলবাজ জয়নাল, মনিয়া ও মিঠুর নেতৃত্বাধিন দখলবাজচক্রটি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ওই চিহিৃত দখলবাজ সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে সরকারী জমিতে দোকান নির্মান করলেও প্রশাসনের কোন খবর নেই। অনেক সময় দিনের আলোয় প্রকাশ্যে সরকারি জমি দখল হয় সুগন্ধা পয়েন্টে। দখলকৃত টিনের তৈরী স্থাপনা বছরের শেষে আবার ইটের তৈরীও করে নিয়েছে অনেকেই।

সচেতন মহলের মতে, যদি প্রশাসন ম্যানেজ হয়ে না থাকে তাহলে কেমন করে দখলবাজ চক্র প্রকাশ্যে সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করে যাচ্ছে।

ড্রাগন মার্কেটের পাশেই নতুন দখল করে দোকান নির্মানের মালিক আলাউদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা দখল হচ্ছে সত্য। যদি প্রশাসন ছেড়ে দিতে বলে তাহলে জায়গা ছেড়ে দেব। এখানে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানও হয়েছে তাও সঠিক। কিন্তু একদিকে বারংবার উচ্ছেদ হওয়ার কারনে অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কারন রহমান ও হাজী জসিমের নেতৃত্তেব সরকারি জমিতে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তাতে প্রশাসন কখনো হাত লাগাইনা। সুতারাং তাতে বুঝা যায় এই উচ্ছেদ উদ্দেশ্যমূলক।

উচ্ছেদের ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং-এর বিষয়টি স্বীকার করে সুগন্ধা বৃহত্তর শুটকী, রেষ্টুরেন্ট, ফিস ফ্রাই ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান বলেন-বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেরাই বিপদে ও অনেক টেনশনে আছি।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মোক্তার বলেন-৭ জুলাই (রবিবারের) এর মধ্যে সুগন্ধা পয়েন্টের প্রবেশ মুখ (প্রধান সড়ক) থেকে শুরু করে সৈকতের মুখ পর্যন্ত দু’পাশে গড়ে তোলা অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। না হয় ৮ জুলাই সোমবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।

এদিকে প্রশাসন থেকে মাইকিং করে সময় বেধে দেয়ার পরও এই অবৈধ স্থাপনা গুলি উচ্ছেদ না হওয়ার জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::