তারিখ: মঙ্গলবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া:
পেকুয়ায় জমি দখল প্রতিহত করল গ্রামবাসী। গভীর রাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসী জড়ো করে ভাইয়ের জমি জবর দখল চেষ্টা চালায় আপন সহোদর। ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে তারা ওই স্থানে স্থাপনা নির্মাণ প্রচেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে বহিরাগত ভাড়াটে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এমআর মামলা রেকর্ড হয়। স্থিতিবস্থা বজায়সহ শান্তি শৃংখলা রক্ষাসহ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত। জমি দখলের আধিপত্য নিয়ে সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী গ্রামে দু’সহোদরের মধ্যে দ্বন্ধ চরম আকার ধারন করে। যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ সংঘাত দেখা দেয়। সুত্র জানায়, বাইম্যাখালী এলাকার মৃত তৈয়ম গোলালের ছেলে আলী আহমদ ও নুরুল হোসেন গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তৈয়ম গোলাল ৪ সন্তান,৫ কন্যা ও স্ত্রীসহ ওয়ারিশ রেখে যায়। পেকুয়া মৌজায় পৃথক ১০ টি খতিয়ানে তার সম্পত্তি সৃজিত। হারাহারি অংশে প্রতি ওয়ারিশ ১৯.৯২ শতক জমির মালিক। তবে তার ছেলে নুরুল হোসেন পৈত্রিক অংশের সব সম্পত্তি বিক্রি করে নি:স্বত্তবান হন। বর্তমানে তার কুক্ষিগত প্রায় ৪০ শতক জমি আছে। ওই ব্যক্তি প্রাপ্ত অংশ বিক্রি করে দেয়। ৪০ শতক জমি জবর দখলে রাখে। অভিযোগ উঠেছে, তার ভাই আলি আহমদ পৈত্রিক অংশের পাশাপাশি আরও কিছু জমি খরিদ করেন। দালিলিক ও পৈত্রিক অংশে ওই ব্যক্তি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ করছিলেন। সম্প্রতি নুরুল হোসেন আলী আহমদের জমি জবর দখল প্রচেষ্টা চালায়। ঘটনার দিন রাতে নুরুল হোসেনের নেতৃত্বে তার ছেলে জয়নাল, বেলাল, আবদু শুক্কুর, আবু ছৈয়দ, জহির উদ্দিন সহ একদল ভাড়াটে অস্ত্রধারী বাইম্যাখালীতে হানা দেয়। এ সময় আলী আহমদের ওয়ারিশদের ভোগ দখলীয় ৬ শতক জমি জবর দখল প্রচেষ্টা চালায়। তারা গভীর রাতে জমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। জমির মালিক আলী আহমদের ছেলে শামশুল আলম ও ছৈয়দ নুর গং কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি এম আর মামলা রুজু করে। যার নং ৬৬৯/১৮। ১৪৪ ধারা বলবৎ ও স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে আদালত নির্দেশ দেয়। পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শনে যায়। পেকুয়া থানায় কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলিলাদি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। কোন পক্ষকে অনুপ্রবেশ না করতে পুলিশ বারন করে। পুলিশ স্থিতিবস্থা বজায়সহ অনুপ্রবেশ ও শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেয়। নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, ওই জমির দখল নিয়ে একই ব্যক্তিরা ফের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা ভাড়াটে লোকজনসহ জমিতে ফের অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারে। এর সুত্র ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত প্রদান করুন ::