তারিখ: বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

পেকুয়া অফিস:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে সংসার ছাড়া করল ইউপি সদস্য। দাম্পত্য জীবনে সাংসারিক কলহের জের ধরে পাষন্ড ইউপির ওই সদস্য তার ঔরসজাত দু’শিশু সন্তানকে মায়ের কুল থেকে কেড়ে নিয়েছে।

এক পর্যায়ে দু’শিশু সন্তানকে আটকিয়ে রেখে মায়ের স্নেহ আদর, মমতা ও দুদ্ধ থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছে। স্বামীর এমন নিষ্টুর আচরণ ও বর্বরতার শিকার হতভাগা স্ত্রী গত কয়েক দিন ধরে মানুষের দ্বারে ঘুরছে। যৌতুক থেকে নিষ্কৃতি ও দু’শিশু পুত্রকে ফিরিয়ে পেতে ব্যাকুল মা।

১৮ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত ১২ টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কুতুবপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম আরেফা বেগম (২৬)। তিনি পেশায় একজন এনজিও কর্মী।

প্রাপ্ত সুত্র জানায়, আরেফা বেগম মগনামা ইউনিয়নের বহদ্দারপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী মিয়ার মেয়ে। ৭ বছর আগে কুতুবপাড়া গ্রামের মৃত মাওলানা শফিকুর রহমানের ছেলে ছরওয়ার উদ্দিন ও আরেফার বিয়ে হয়। ছরওয়ার বারবাকিয়া ইউপির ৭ নং ওয়ার্ড থেকে মেম্বার নির্বাচিত হন।

অপর দিকে আরেফা বেগম বেসরকারী সংস্থা (এনজিও)তে মাইক্রো ক্রেডিট প্রোগ্রামে কাজ করছিলেন। ওই দম্পতির সংসারে দু’ছেলে মেয়ে রয়েছে।

সুত্র জানায়, আরেফা ও ছরওয়ারের দাম্পত্য জীবন কিছুদিন সুখে ছিল। তবে যৌতুক লোভী স্বামী প্রায় সময় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করে। আরেফা ওই মেম্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সংসার গোপন করে এনজিও কর্মী আরেফাকে ফুঁসলিয়ে বিবাহ করে। বিবাহের পর থেকে সংসারের অন্ন, বস্ত্র ও এমনকি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যয়ভার স্বামী কখনো দিতে সক্ষম হয়নি। স্ত্রী যে টুকু বেতন পান তা দিয়ে সংসার চালায়। এরই মধ্যে নানান অজুহাতে স্ত্রীর কাছ থেকে বেতনের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে একাধিকবার।

একদিকে সংসারের গ্লানি টানা অন্যদিকে নিজ সন্তানদের পড়ালেখা ও ভবিষ্যতের জন্য মেয়েটি নিরলস পরিশ্রম করছে। ওই মেম্বার তিন থেকে চারবার টাকা নিয়েছে। গত ৪ বছরে এ সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক হয়েছে। স্ত্রীকে নির্যাতন চালিয়ে সংসার থেকে বিতাড়িত করেছে। এর নিস্পত্তি বৈঠক করেছে বহুবার। প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার দিয়ে স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়েছে একাধিকবার। ওই দিন রাতে স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দেয়। এ সময় স্ত্রী টাকা কোথায় পাবে তার তো টাকা নেই এমন বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই ইউপি সদস্য লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আরেফাকে রাতেই বের করে দেয়। তবে দু’শিশুকে মায়ের কুল থেকে কেড়ে নেয় নিষ্টুর ওই ব্যক্তি।

আরেফা বেগম জানায়, আমি সর্বনাশ হয়েছি। একজন কুমারীকে ওই ব্যক্তি অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিবাহ করেছে। আমাকে আগুনের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সংসার নামে সর্বনাশ করেছে। নির্যাতন এ ভাবে আর সহ্য হচ্ছে না। আমার দু’শিশুকে আটকিয়ে রেখেছে। বার বার টাকার জন্য করছে। আমি কি সংসার চালাবো। নাকি তাকে যৌতুক দেব। এর বিচার চাই।

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!