শিরোনাম :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় ভবন ও আসবাবপত্র নেই স্কুলে

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১২, ২০১৯ ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১২, ২০১৯ ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া::

পেকুয়ায় ভবন ও আসবাবপত্র নেই নব প্রতিষ্টিত জারুলবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। আসবাবপত্র না থাকলেও শিক্ষার্থীর নেই কমতি। ঠাসাঠাসিতে বসা ও দাড়ানো অবস্থায় নিতে হচ্ছে ক্লাস।

নব প্রতিষ্টিত মাধ্যমিক লেবেলের ওই শিক্ষা প্রতিষ্টানে বিপুল শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। ক্লাস নিচ্ছে মেঝেতে বসে। উপজেলার পাহাড়ী জনপদ জারুলবুনিয়ায় নব প্রতিষ্টিত হয়েছে একটি হাই স্কুল। নামকরন করা হয়েছে জারুলবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।

সুত্র জানায়, চলতি ২০১৯ সালে এ বিদ্যালয়ের যাত্রা সুচিত হয়। উপজেলার পূর্ব প্রান্তের শিলখালী ইউনিয়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক লেবেলে একটি মাত্র প্রতিষ্টান ছিল। শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় এ ইউনিয়নের মাধ্যমিক স্তরের একমাত্র বিদ্যাপীঠ।

বর্তমান শিক্ষা প্রসারের যুগে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে পুরো ইউনিয়নের চাহিদা মেটানো দুষ্কর। ছাত্র-ছাত্রীর প্রচন্ড চাপ তৈরী হয়েছিল। অনেক শিক্ষার্থী একটি মাত্র হাই স্কুল হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী সমাপ্তি করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হতে চরম সংকট দেখা দেয়।

অপরদিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুবর্ন সুযোগ তৈরী করতে শিলখালী ইউনিয়নে অপর একটি স্কুলের যাত্রা সুচিত হয়েছে। জারুলবুনিয়া হাই স্কুলটি চলতি বছরের শুরুতে নব প্রতিষ্টিত হয়েছে। জানুয়ারী মাস থেকে ওই প্রতিষ্টানে ভর্তি কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়। প্রথম ধাপে দুটি শ্রেনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ৬ষ্ট ও ৭ম শ্রেনীতে বর্তমানে ক্লাস চলছে।

সুত্র জানায়, এ দুটি শ্রেনী কার্যক্রমে প্রায় ৩শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছে। এরই মধ্যে ৬ষ্ট শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৭০ জন ও ৭ম শ্রেণীতে ১০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এলাকার একজন শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তি ওই প্রতিষ্টান গড়তে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার নাম ডাক্তার দিদারুল ইসলাম। তিনি পেশায় একজন চক্ষু চিকিৎসক। ওই ব্যক্তি নিজস্ব জায়গায় বিদ্যালয় প্রতিষ্টিত করেছেন। নিজ অর্থায়নে বিদ্যালয়ের জন্য দুটি একাডেমিক ভবন তড়িগড়ি করে নির্মাণ করে। আসবাবপত্র ও অস্থায়ী একাডেমিক ভবন তিনি সরবরাহ ও যোগান দেন।

সুত্র জানায়, সম্পূর্ন ব্যক্তি উদ্যোগে নব গঠিত এ প্রতিষ্টান আত্মপ্রকাশ করে। নেই নিজস্ব কোন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি। ৬/৭ জনের শিক্ষক-কর্মচারী এ স্কুলে নিয়মিত পাঠদান ও কার্যক্রমে সম্পৃক্ত। শিক্ষা প্রসারে শিক্ষকদের বেতন ভাতাও ব্যক্তি উদ্যোগ থেকে নিস্পত্তি হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, জারুলবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেনীতে ক্লাস নিচ্ছে দুই সেকশনে। ভবন সংকুলান দুরীভূত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ক্লাসে দুটি ধাপ তৈরী করেছে। ৭ম শ্রেনীতেও ক্লাস নিতে একই ভোগান্তি। আসবাবপত্র সংকট আরও ঘনীভূত। প্রথম ধাপে কিছু আসবাবপত্র বিদ্যালয়ে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। তবে এ সব খুবই নগন্য। শারমিন আক্তার, সাইজুন্নেছা আরজু, কাউসারুল ইসলাম নামক তিন শিক্ষক ৭ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ক্লাস নিচ্ছিলেন। এ সময় দুই ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বিপুল।

দেখা গেছে, অর্ধেক শিক্ষার্থী বেঞ্চে বসার সুযোগ পেয়েছে। অর্ধেক শিক্ষার্থী দাড়িয়ে নিচ্ছেন ক্লাস। জানতে চাইলে শিক্ষক শারমিন আক্তার জানায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ওই শিক্ষক জানায়, আমরা নব প্রতিষ্টিত। সরকারী উদ্যোগ পেলে এর সুদুরপ্রসারী উন্নয়ন অবশ্যই। আসবাবপত্র নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা দাড়িয়ে ক্লাস নিচ্ছে। পাহাড় ও দুর্গম এলাকা থেকে বিপুল শিক্ষার্থী আমাদের প্রতিষ্টানে এসে ভর্তি হয়েছে। তারা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান।

প্রধান শিক্ষক বখতেয়ার উদ্দিন জানায়, আমরা মাত্র শুরু করেছি। শিক্ষার মান অত্যন্ত সন্তোষজনক। শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতিও ভাল। সংকট আসবাবপত্র ও একাডেমিক ভবনের। এটি প্রতিষ্টিত হওয়ায় দুর্গমে শিক্ষার সম্ভার সম্ভাবনার নতুন দ্বার উম্মোচিত হয়েছে। আমি চিকিৎসক দিদার সাহেব সহ যারা একনিষ্ট কাজ করে যাচ্ছেন এদের প্রতি কৃতজ্ঞ। দ্রুত আসবাবপত্রের যোগান পেলে সংকট দুরীভূত হবে।

শিক্ষানুরাগী নুর মোহাম্মদ, আবদু রহিম হিমু ও নুরুল মোস্তফাসহ স্থানীয়রা জানায়, এ স্কুল দরিদ্র মানুষের সন্তানদের জন্য খুবই প্রয়োজন হয়েছে। শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দুরত্ব অনেক দুর। পাহাড় থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বেশী। এটি না হলে অনেক মা-বাবার সন্তান বিদ্যালয় সংকটের দরুন লেখাপড়া থেকে ছিটকে পড়ত। সরকারকে আহবান করব এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ বজায় রাখতে আসবাবপত্র ও ভবন সংকট দুরীভূত করা হউক।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::