তারিখ: বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

পেকুয়া প্রতিনিধি::

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিদ্যুতের ট্রান্সফারমার চুরির ঘটনায় নির্দোষ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অভিযোগে ওঠেছে। এঘটনায় আটককৃত ৪জনের পরিবার তাদের সন্তান এ ঘটনায় জড়িত নয় বলে দাবী করেন।

আটককৃতরা হলেন, পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকার আবদু রহিমের পুত্র ইলেক্ট্রশিয়ান মোঃ হাবিব, তার সহযোগী মোঃ সেলিমের পুত্র মোঃ আরফাত, নুরুল হকের পুত্র মিনার ও মুহাম্মদ উল্লাহর পুত্র কৃষক জকরিয়া।

গতকাল রাত ২টা থেকে ৩টার ভিতর আটককৃত জকরিয়ার বাড়ির সামনে বিদ্যুতের খুটি থেকে ট্রান্সফারমার দুটি চরুি হয়।

আটককৃত হাবিবের পিতা আবদু রহিম সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে টইটং ইউনিয়নে বিদ্যুতের মিস্ত্রি হিসাবে কাজ করে থাকে। তার সহযোগী হিসাবে থাকেন আরফাত ও মিনার। দীর্ঘদিন ধরে তারা তিনজন সাধারণ জনগণের বিদ্যুতের লাইন পেতে সহযোগীতা করে আসছি। কয়েকটি পাড়ায় ইতোমধ্যে নতুনভাবে লাইন চালু করেছে। যেখানে তারা প্রতি মিটার বাবদ খরচ নিয়ে থাকে ১৪৫০টাকা করে। একদিন স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ছেলেকে ডেকে বললেন, প্রতি মিটারে ২২৫০টাকা করে নিয়ে তাকে টাকা দিতে হবে। না হলে কাজ করতে দিবেনা। তার কথায় রাজি হয়নি আমার ছেলে। বিদ্যুতের ট্রান্সফারমার চুরির ঘটনায় সকালে চেয়ারম্যান কৌশলে চারজনকে পৃথকভাবে ফোন করে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। ওখানে তাদের চারজনকে বর্বরভাবে পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। তাদেরকে আহত দেখে থানার ওসি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে। আমার ছেলেসহ ৪জন চুরির ঘটনায় জড়িত না থাকলেও চেয়ারম্যান ইচ্ছাকৃতভাবে তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে।

এছাড়াও আমার বাড়িতে যে মালামাল পাওয়া গেছে উল্লেখ করা হয়েছে তার কারণ হল, সকালে কয়েকজন লোক আমার ছেলেকে বলল ট্রান্সফারমারের কিছু পরিত্যক্ত মালামাল পড়ে আছে। ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী হিসাবে ওই মালামালগুলো তিনি বিদ্যুত অফিসে জমা দেওয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসে। বলা হচ্ছে সে মালামাল তিনি চুরি করে বাড়িতে রেখেছে। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এদিকে জকরিয়ার পিতা মুহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আমরা কৃষক পরিবার। বিদ্যুতের খুটিটি বাড়ির সামনে এটা আমাদের দোষ। ছেলে সারাদিন পরিশ্রম করে ঘুমিয়ে পড়ে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে সামান্যতম কোন অভিযোগ নাই। তাকে চুরির ঘটনায় জড়িত করায় আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। আমার ছেলে সম্পূর্ন নির্দোষ।

এবিষয়ে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোঠোফোনে যোগাযোগ করলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, এঘটনায় মামলায় রুজু হওয়া চার আসামীর মধ্যে কেউ জড়িত না থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!