মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় বসতিতে এস,আলমের সাইনবোর্ড

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ২৩, ২০১৮ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ২৩, ২০১৮ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়ায়::
পেকুয়ায় বসতবাড়িতে সাইনবোর্ড পুতেছে এস,আলম। অবিক্রিত ও নিষ্কন্টক জমিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো ও আরসিসি পিলার স্থাপনকে কেন্দ্র করে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিএনপি ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা এস,আলমের জমি দখল দিতে কন্টাক নেয়। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের বিপুল ভূমিতে এস,আলম শিল্প গ্রুপের সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিষ্কন্টক ও অবিক্রিত ব্যক্তি মালিকানাধীন বিপুল জমিতে এস,আলম শিল্প গ্রুপ সাইনবোর্ড পুঁতে দেয়। তারা এস,আলম গ্রুপের নিজস্ব সম্পত্তি উল্লেখ করে বিভিন্ন প্রান্তে সাইন বোর্ডে সয়লাব করে। প্রায় অর্ধশতাধিক সাইন বোর্ড লবণ মাঠে ও মানুষের বসতবাড়িতে পুতে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, এস,আলম শিল্প গ্রুপ গত ৩/৪ বছরের ব্যবধানে উপজেলার উজানটিয়া ও মগনামা থেকে প্রায় ৪০০ একরেরও বেশী জমি খরিদ করে। উজানটিয়া ইউনিয়নে প্রায় ২০০ একর জমি কবলা নেয়। সুত্র জানায়, খরিদ এ সব জমি থেকে বিপুল সম্পত্তি এস,আলম কতৃপক্ষের দখলে নেই। এ সব বেহাত সম্পত্তি তারা দখল নিতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেয়। সুত্র জানায়, মাদার খতিয়ান থেকে তারা জমি কবলা নেয়। তবে স্বত্তের মালিক এ সব জমি এর আগে অন্য কবলাদারকে রেজিষ্ট্রি দেয়। এ সব জমি মাদার খতিয়ান থেকে কর্তন হয়নি। দালাল চক্র তথ্য গোপন করে এ সব বিক্রিত সম্পত্তি ফের এস,আলমকে কবলা দেয়। অভিযোগ উঠে, উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া মিয়াপাড়ায় আবদু রশিদ, আবদুল হাকিম গংদের ২ একর জমিতে আরসিসি পিলার দেয় এস,আলম। একই এলাকার জামাল উদ্দিন প্রকাশ জামু গংদের ৮০ শতক জমিতে একইভাবে পিলার পুতে তারা। মধ্যম উজানটিয়ায় দারগা আমানুল্লার ২ একর জমিতেও সাইনবোর্ড পুতে দেয়। এ সব জমি ৫০ থেকে ৬০ বছর আগে তারা ননীগোপাল সহ ভূমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে কবলা নেয়। ভেলুয়ারপাড়া ও ষাটদুনিয়াপাড়ায় বিপুল পরিমান ব্যক্তি মালিকানাধীন অবিক্রিত ও নিষ্কন্টক জমিতে এস,আলম শিল্প গ্রুপ সাইন বোর্ড পুতে জমি দখলে নেয়। এ সব জমি এস,আলম গ্রুপ ক্রয় করেনি। তারা ভিন্ন দাগ থেকে জমি ক্রয় করে। তবে দখল করছে একই মালিকের আগের রেজিষ্ট্রি দেয়া জমি। জামাল উদ্দিন জামু জানায়, আমার পিতা ননীগোপাল ও মকবুল বহদ্দার থেকে পৃথক কবলায় ৮০ শতক জমি রেজিস্ট্রি নেয়। এ সব জমি ৪০ বছর ধরে আমাদের ভোগ দখলে। এস,আলম আরসি পিলার পুতে দেয়। শরিয়ত উল্লাহ, জালাল উদ্দিন, আমির হোসাইনসহ লোকজন আমার জমিতে অন্যায়ভাবে পিলার দেয়। শরীয়ত উল্লাহ আ’লীগ করে। জালাল উদ্দিন বিএনপি করে। তারা গায়ের জোরে খুটি দেয়। কিছু বললে এস,আলমের ভয় দেখিয়ে মামলা মোকদ্দমা ও হয়রানির হুমকি দেয়। শরীয়ত উল্লাহ ইউনিয়ন আলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি তোফাজ্জল করিমের অনুগত। জালাল উদ্দিন উপজেলা যুবদলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। তিনিও তোফাজ্জল ও বিএনপির চেয়ারম্যান ওয়াসিমের অনুগত। আমির হোসাইন বারবাকিয়ার লোক। তিনি ফাসিয়াখালীর ক্ষমতার দাপট দেখায়। জমি দখলে নিতে আ’লীগ ও বিএনপির মধ্যে ঐক্যমত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, এস,আলম দাবার গুটি চালছে। বিএনপির এক শীর্ষ জাতীয় নেতার মাধ্যমে এ সব জমি এস,আলম পেকুয়ায় ক্রয় করে। বিএনপি চায়, এস,আলমকে দিয়ে জনগনকে ক্ষেপাতে। বিএনপির মিশন বাস্তবায়নে আ’লীগের এ সব নেতা ভূল পথে পা দেয়। শরীয়ত উল্লাহ জানায়, তিনি পারিশ্রমিক নিয়ে এস,আলমের সাইনবোর্ড টাঙ্গাচ্ছে। চেয়ারম্যান ওয়াসিম তাকে দৈনিক এক হাজার টাকা করে বেতন দেয়। যুবদল নেতা জালাল উদ্দিন জানায়, আমরা এস,আলমের প্রতিনিধিত্ব করছি। ওয়াসিম চেয়ারম্যান একাজে আমাকে নিয়োগ দেয়। নিউজ করবেনা। চেয়ারম্যানের সাথে বোঝাপড়া করুন। সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হউক আর জনগনের কি হবে না হবে এ গুলো আমার দেখার বিষয় না।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::