শিরোনাম :
বিভিন্নস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরলো ২০ প্রাণ মৃত্যু নিশ্চিত করতে পর পর দুটি গুলি করেন ওসি প্রদীপ দীর্ঘদিন পর অনুশীলনটাকে চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে মুমিনুলের বৈরুতে নেতাদের ওপর ক্ষোভ বাড়লেও উদ্ধার কাজে এসেছে গতি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কৃষি-গ্রাজুয়েট তৈরি করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিকের তথ্য চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবশেষে করোনামুক্ত অভিষেক, এক মাস পর হাসপাতাল ছাড়লেন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অনুসন্ধানে প্রবাসীদের সহযোগীতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনহা হত্যা মামলার ৪ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ, ৩ আসামীকে এখনো রিমান্ডে নেয়নি কেরালার বিমান দুর্ঘটনায় অলৌকিক ভাবে বেঁচে গেল এক পরিবার
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় বনের রাজা জাহাঙ্গীরের রাজত্ব, জিম্মী ৫ গ্রামের ৭হাজার মানুষ!

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: June 22, 2020 10:40 am | সম্পাদনা: June 22, 2020 10:40 am

পেকুয়া প্রতিনিধি::

‌কক্সবাজারের পেকুয়ায় মুর্তিমান আতংকের একটি নাম বনের রাজা নামে খ্যাত জাহাঙ্গীর আলম। তার কাছে জিম্মি রয়েছে ৫ গ্রামের প্রায় ৭হাজার মানুষ।

উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী ছনখোলা গ্রামে তার বসবাস। বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের লোকজন তার কাছে জিম্মি রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে তার একটি শক্তিশালী বাহিনী। বনের রাজা বাহিনী নামে পরিচিত এ বাহিনী। পাহাড়ে ২০/২৫ জনের অস্ত্রধারী ও ডাকু প্রকৃতির যুবক নিয়ে ওই বাহিনী গঠিত।

এ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর নিজেই। ডাকাতি, জায়গা দখল বেদখল, চুরি, বনের গাছ পাচার, চাঁদাবাজি, বালি পাচার, মহিলাদের ইজ্জত লুন্টনসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে বনের রাজা বাহিনী। এসব কিছুর নিয়ন্ত্রক বনের রাজা জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর একটি মুর্তিমান আতংক। পাহাড়ি এলাকায় চলছে তার রাম রাজত্ব।

টইটং ও বারবাকিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলের লোকজন জানায়, জাহাঙ্গীর একজন ভয়ংকর ও ডাকু প্রকৃতির লোক। ২০/২৫জনের অস্ত্রধারীদের নিয়ে পাহাড়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। জাহাঙ্গীরকে বনের রাজা নামে সবাই চিনে। বনের রাজা ও তার বাহিনীর কাছে জিম্মি রয়েছে পাহাড়ে বসবাসরত প্রায় ৭হাজার মানুষ।

বারবাকিয়ার ছনখোলার জুম, ছনখোলা পাড়া, পুটিবিন্না, টইটংয়ের হারকিলারদারা ও আবাদিঘোনায় চলছে তার রাম রাজাত্ব। এসব এলাকার রাজা জাহাঙ্গীর। আর মানুষগুলি যেন তার প্রজা। স্থানীয়রা জানায়, জাহাঙ্গীর দিনে সাধু মানুষ। রাতে হয়ে ওঠে ভয়ংকর। তার রয়েছে বিশাল অস্ত্র ভান্ডার। চাঁদাবাজি, বালি পাচার , বনের গাছ পাচার,অস্ত্র বেচাকেনা,দখল বেদখলে জড়িত রয়েছে। তার অত্যচারে অতিষ্ট গ্রামবাসি। শত অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও কেউ তার বিরুদ্ধে টু-শব্দ করার সাহস পায়না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসে অত্যচার,নিপীড়ন।

স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যা নামলে এক অজানা আতংকে থাকে লোকজন। বিশেষ করে নারীরা ভয়ে তটস্থ থাকে। অনেক গৃহবধু ও উঠতি যুবতীরা লালসার শিকারও হয়েছেন। কিন্তু কেউ লোক লজ্জা ও ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায়না।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম বারবাকিয়া ইউপির পাহাড়িয়াখালী এলাকার জাফর আলমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া থানা ও চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র আইনে মামলা, বন মামলা, মারামারি, দখল বেদখল মামলাসহ এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সে ৬/৭বার কারাবরন করে। বিভিন্ন মেয়াদে ৭/৮বছর জেল খাটেন।

সম্প্রতি একটি চাঁদাবাজি মামলায় কয়েক মাস জেল খেটে জামিনে বের হন। এরপর ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন বনের রাজা। কিছুদিন আগে পাহাড়ি ছড়া থেকে বালি উত্তোলন আধিপত্য নিয়ে নিজের জন্মদাতা পিতা জাফর আলম ও চাচা জাবের আহমদকে প্রকাশ্যে দুই দফা পিটিয়ে মারাত্বক জখম করে।

পেকুয়া থানা পুলিশ মুমর্ষ অবস্থায় জাবের আহমদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে জাবের আহমদ বাদি হয়ে পেকুয়া থানায় এজাহার দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের পিতা জাফর আলম জানায়, জাহাঙ্গীর একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত। সে এখন বনের রাজা। তার রয়েছে বিপুল অস্ত্র। মহেশখালীর কয়েকজন ডাকাত তার বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করে। তার বাড়িতে অস্ত্র তৈরি করে বেচা কেনা করে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পাহাড়ি অঞ্চলে এসে বসবাস করছে।

৫টি গ্রামে হাজারও পরিবার রয়েছে। প্রত্যেক বাড়ি থেকে তাকে চাঁদা দিতে হয়েছে। তার অত্যচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছ লোকজন। এলাকাবাসি তার নির্যাতন থেকে বাচতে চায়। এ ব্যাপারে র‍্যাবের কাছে অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এলাকাবাসিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাঙ্গীর এক সময় ডাকাত ছিলেন। খারাপ কাজ থেকে ফিরে আসতে চেয়েছিল। গত নির্বাচনে আমরা ভোট দিয়ে মেম্বার নির্বাচিত করি। মনে করছিলাম এবার সে অন্ধকার পথ থেকে আলোর পথে ফিরে আসবে। কিন্তু চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী। সে জনগনের কাছে দেয়া তার ওয়াদা রক্ষা করেনি। ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে সে আরো বেশি অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এখন সে বনের রাজা।

জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর, চাচা জাবের আহমদ জানায়, জাহাঙ্গীর একজন অস্ত্রধারী। প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি, দখল বেদখলে মেতেছে। পাহাড়ি এলাকার লোকজন তার কাছে জিম্মি। সে আমাদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজি করছে। বনের বিপুল সরকারি গাছ তার বাড়িতে বিশেষ কায়দায় মজুদ আছে। সে অস্ত্র বেচা কেনায় জড়িত। বনের রাজার নাম শুনলে চমকে উঠে মহিলারা। আমরা তার অত্যচার থেকে বাচতে চাই। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::