তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ৫ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া ::
পেকুয়ায় সরগরম হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে। মানুষের মাঝে এখন শুধু একটাই আলোচনা। চেয়ারম্যান কে হবে? কোন প্রার্থী ভোটে এগিয়ে রয়েছে। বিজয়ের মুকুট কার গলায় ঝুলবে? হাওয়া লেগেছে পেকুয়ার প্রত্যন্ত জনপদে। পেকুয়ায় ভোট যুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছেন তিন হেভিওয়েট প্রার্থী। নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন এক সময়ের রাজপথ কাঁপানো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বর্তমান উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাসেম। জোট সরকারের আমলে একাধিক মামলার আসামী হয়ে দীর্ঘ বছর কারাভোগ করেন তিনি।
আনারস প্রতিক নিয়ে ভোট যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন এস.এম গিয়াস উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভিপি। বর্তমান কক্সবাজার জেলা আ’লীগের প্রভাবশালী সদস্য। পেকুয়ায় ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ বলে বেশ পরিচিতি রয়েছে তার।
দোয়াত কলম মার্কা নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চষে বেড়াচ্ছেন আরেক প্রার্থী তারুন্যের অহংকার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য। তার রয়েছে বিশাল যুব সংগঠন। বিশেষ করে যুবকদের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয়জন। তার রয়েছে অসংখ্য কর্মী বাহিনী। তিন প্রার্থী কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে ভোট যুদ্ধে। প্রতিদিন পথ সভা, গনসংযোগসহ জনগনের সাথে কুশল বিনিময় করে যাচ্ছে। চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায়। নিজেদের প্রতীকের কথা বলে ভোট প্রার্থনা করছেন।

আরো পড়ুন ::  চকরিয়ায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দু দফা হামলা শিশু ও নারী সহ ৬ জন আহত স্বর্ন সহ নগদ ১২ লক্ষ টাকা লুট

তবে পেকুয়ায় এবার নৌকা মার্কার গলার কাটা হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ভোটের হিসেব-নিকেশ পাল্টে দিচ্ছে তারা। আ’লীগের মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন বিদ্রোহী এ দু’প্রার্থী। গিয়াস উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম নাগরিক কমিটির ব্যানারে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। নৌকা প্রতিকের পক্ষে বৈরী আবহাওয়া বইছে এখন।

শুরুতে বিষয়টি কিছুটা হাল্কাভাবে নিলেও এখন চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থানও ততোটাই শক্তিশালী ও বেগবান হচ্ছে। আ’লীগের নেতাকর্মীরা আগে থেকে হতাশায় ভুগছিল। পাওয়া না পাওয়াসহ নানা বঞ্চনায় অন্তর জ্বালায় পুড়ছিল নেতাকর্মীরা। এখন আওয়ামীলীগের বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের সমর্থনও পাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
জেলা আ’লীগের সদস্য এস. এম গিয়াস উদ্দিন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তিনি নাগরিক কমিটির ব্যানারে ভোট করছেন। একইভাবে যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দোয়াত কলম মার্কা নিয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছেন।

আরো পড়ুন ::  নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবাসহ চার রোহিঙ্গা আটক

জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরাতে নানা কৌশল অবলম্বন করছিল একটি পক্ষ। এনিয়ে কয়েক দফায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুুই হয়নি। ওই পক্ষের কথায় কর্ণপাত করেননি বিদ্রোহী প্রার্থীরা । নিজেদের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন তারা।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::