তারিখ: শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share:

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া:
পেকুয়ায় বানিজ্যিক ভবন সামান’সে দোকান বরাদ্ধ নিয়ে হযবরল অবস্থা দেখা দিয়েছে। ওই মার্কেটে দোকান বিক্রি চলছে। তবে একটি দোকান বিক্রিতে দলিল সম্পাদিত হয়েছে একাধিক। দোকান ক্রেতা প্রথম ধাপে ওই মার্কেট থেকে দোকান ক্রয় করে। একই দোকান মার্কেট নির্মাণ কর্তৃপক্ষ একাধিক ক্রেতার অনুকুলে বরাদ্ধ দেয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে ওই মার্কেটে কোন কোন দোকান বিক্রিতে প্রতি দোকানের অনুকুলে সর্বোচ্চ ৫ টি দলিল সৃজিত হয়েছে। পেকুয়ায় বানিজ্যিক ভবন সামান’সের দোকান বরাদ্দ ও মালিকানা নিয়ে ব্যাপক সংঘাত দেখা দিয়েছে। এর সুত্র ধরে দলিল গ্রহীতাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। গত ১ মাস ধরে ওই মার্কেটের স্বত্তাধিকারী কয়েক পক্ষের মধ্যে মারপিটসহ ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। নির্মিত প্রতিষ্টান সামান’সের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এ নিয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত দিতে অপারগ হয়েছে। তারা মার্কেট নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংঘাতের দিকে ধাবিত করে। এতে করে ওই কতৃপক্ষের এমডি বর্তমানে সটকে পড়ে। সামান’স মার্কেটে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্তত ১০ থেকে ১৫ টি ঘটনা সংঘটিত হয়। সুত্র জানায়, পেকুয়ায় কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে সামান’স গ্রুপ একটি বানিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে। জমির মালিক কবির আহমদ চৌধুরীর নাতি সাজ্জাদুল কবির চৌধুরী। সামান’স গ্রুপ লিমিটেড নামে একটি নির্মাণ প্রতিষ্টান এ ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে। বহুতল বানিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রথম ও দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা গত কয়েক বছর আগে থেকে এ মার্কেট থেকে দোকান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। সুত্র জানায়, প্রথম ও দ্বিতল ভবনের তৈরীকৃত সব দোকান বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় প্রতি ফটক দোকান বিক্রি হয়। সামান’স গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক চট্রগ্রামের লোহাগাড়া থানার আধুনগর এলাকার মোহাম্মদ আয়ুবের ছেলে আনোয়ার হোসেন মিজবাহ ওই মার্কেটের দোকান বিক্রি করে। তিনি গ্রহীতা হিসেবে কোম্পানীর পক্ষে এ মার্কেটের দোকান ক্রেতাদের বিক্রি করে। সুত্র জানায়, মগনামা ইউনিয়নের মরি”্যাদিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাষ্টার ছগির আহমদের ছেলে এস,এম বেলাল উদ্দিন ওই মার্কেট থেকে ৪টি দোকান ঘর কিনে নেয়। দাতা আনোয়ার হোসেন ওই দোকান রেজিষ্ট্রি দেয়। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর দলিল সম্পাদিত হয়। এ মার্কেটের ১৩,১৪,৩১ ও ৩২ নং দোকান নিচ তলায় বিক্রি হয়। ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুল্যে এ সব দোকান বিক্রি হয়। গ্রহীতা সমস্ত টাকা পরিশোধ করে। সামান’স সেন্টারের নিচ তলার এ সব দোকান নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে সম্প্রতি এ সব দোকানে অপর একটি পক্ষ কাজ আরম্ভ করে। সামান’স কর্তৃপক্ষ একই দোকান নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে দলিল মুলে হস্তান্তর করে। লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নের ফজু মিয়ার ছেলে নাজিম উদ্দিন গং এ দোকানগুলি সামান’স থেকে কিনে নেয়। তারা ২০১৭ সালে কবলা নেয় এ সব দোকান। দলিলে স্পষ্ট লিখা আছে গ্রহীতাগন চকরিয়া থেকে দোকান ক্রয় করছিলেন। সেখানে সামান’স দোকান বরাদ্দ দিতে সক্ষম হননি। সমন্বয় বজায় রাখতে চকরিয়ার পরিবর্তিত স্থানে পেকুয়ায় মার্কেট দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে পেকুয়ায় সামান’স এর দুরন্ত প্রতারনা ধরা পড়েছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। তারা একটি দোকানে অন্তত ৫ টি দলিল সৃজন করে। সাংঘর্ষিক দলিলের ছড়াছড়িতে সামান’স এর বানিজ্যিক ভবন বরাদ্ধে হযবরল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দোকানের স্বত্তাধিকারী বেলাল উদ্দিনের ছোট ভাই মিফতা উদ্দিন মেনন জানায়, আনোয়ার দুর্দান্ত প্রতারক। এ মার্কেট থেকে দোকান কিনে সর্বস্ব খুইয়েছে। ব্যবসায়ীদের সর্বনাশ হয়েছে। এমডি আত্মগোপনে। মোবাইল ধরে না। তার বিরুদ্ধে প্রতারনায় শতাধিক মামলা মোকদ্দমা ও অভিযোগ হয়েছে। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন দেখিয়ে এ মার্কেটের দোকান গ্রাহকদের বিক্রি করে। পেকুয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন দেখানো হয়। এ সব ভূয়া। আসলে পেকুয়ায় কোন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অস্তিত্ব নেই।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::