রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৪০ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

পেকুয়ায় কাল্পনিক ঘটনার মামলায় এবার আসামী সেনা সদস্য

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ২৯, ২০১৮ ১২:০৪ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ২৯, ২০১৮ ১২:০৪ অপরাহ্ণ

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া:
পেকুয়ায় কাল্পনিক ঘটনায় মামলা নিল পুলিশ। ওই মামলায় বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর এক সৈনিক সহ আসামী হয়েছে ১০ জন। ১ জন নারীকেও আসামী করা হয়। বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে সহোদরদের মধ্যে বনিবনা চলছিল। ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে মামলা হয়। এ সময় গ্রাম আদালত জায়গার পরিমাপসহ বিরোধ নিস্পত্তি করে। এমনকি রায় প্রচার করে। এ সময় ভাইদের মধ্যে ২ ভাই পরিমাপ ও রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এর সুত্র ধরে তিন ভাইকে ফাঁসাতে তারা পুলিশের সাথে দেন দরবারে যায়। পুলিশ নেয় এজাহার। কাল্পনিক ঘটনায় দায়েরকৃত ওই এজাহার নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করে। মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সৈনিককেও আসামী করে। ওই সৈনিকের নাম মোহাম্মদ হোসাইন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। গত ২৬ মে ওই মামলা রেকর্ড হয়। সুত্র জানায়, বসতবাড়ির ২৪ শতক জায়গা নিয়ে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের জালিয়াকাটা গ্রামে মৌলভী আবদুল মালেক গং ও নুরুল আবছার গংদের বিরোধ দেখা দেয়। মৌলভী আহমদ রশিদের ৪ পুত্র ২৪ শতক জায়গার হারাহারি মালিক। সানাউল্লাহ নামের এক পুত্র তার প্রাপ্ত অংশ বিক্রি করে দেয়। ওই জায়গা আবদুল মালেক গং তিন ভাইয়ের নামে ক্রয় করে। নন জুড়িশিয়াল ষ্ট্যাম্পমুলে চিরতরে জায়গা বিক্রি করে। এমনকি চুড়ান্ত রেজিস্ট্রি দিতে দেড় লক্ষ টাকা নেয় সানাউল্লাহ। রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে কবলা সম্পাদন না করে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে তুমুল বিরোধ চলছিল। ২১ মে জায়গা পরিমাপসহ বিরোধ নিস্পত্তি হয়। তবে নুরুল আবছার গং এ সবে সন্তুষ্টি ছিলেন না। ২ দিন পর সন্ধ্যার দিকে বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছিলেন। পেকুয়া থানার এস,আই সুমন সরকার ওই আগুনকে শক্রতার আগুন হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। পরিমাপের দিন বাকবিতন্ডা হয়। তবে মারপিট হয়নি। এর সুত্র ধরে নুরুল আবছারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে ভিকটিম দেখায়। তারা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই সুত্র ধরে কাল্পনিক ঘটনা দেখিয়ে মামলা রুজু করে। মামলায় গ্রাম আদালতের বিচারিক প্রতিনিধি একই এলাকার আবুল আহমদের ছেলে আমজাদকে প্রধান আসামী করে। সেনা সদস্য একই এলাকার মৃত আহমদ শাহের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইনকেও আসামী করে। সুত্র জানায়, মোহাম্মদ হোসাইন ১৯ মে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে রওয়ানা দেয়। ২০ মে তিনি চাকুরীতে যোগদান করেন। সুত্র জানায়, সেনাবাহিনীসহ তিন বাহিনীর কোন জওয়ান অপরাধ সংঘটিত করলে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করা বাধ্যতামুলক। মামলা মোকদ্দমাসহ কোন সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজধারী অপরাধ সংঘটিত করে থাকলে অবহিতকরন বাধ্যতামুলক। আন্ত:সংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর সুত্র এ সম্পর্কিত পরিপত্র জারি করে। অথচ ওই সেনা সদস্য এলাকায় ছিলেন না। এরপরও তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক ঘটনায় মামলা। সেনাসদস্য মোহাম্মদ হোসন জানায়, পৈত্রিক সম্পত্তির বিরোধ অপরপক্ষের। এখানে আমার কোন ধরনের সম্পর্ক থাকার প্রশ্ন জটিল। শুনেছি আমাকে আসামী করেছে। আমি আমার স্যারদের জানিয়েছি। উর্ধতন মহল এ সব অবগত। আমজাদ জানায়, আমি বিচারক প্রতিনিধি ছিলাম। এখানে আমাকে ১ নং আসামী করা অবান্তর। আমার উপর অবিচার হয়েছে। মৌলিক অধিকারের খর্ব হয়েছে। পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান জানায়, মামলা পুলিশকে নিতে হয়। কোন ব্যক্তি নিরাপরাধ হয়ে থাকলে তদন্তে তাকে নিস্কৃতি দেয়া হবে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::