মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় কলেজে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আসামী মাছ ব্যবসায়ী!

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১৬, ২০১৯ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১৬, ২০১৯ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া ::

পেকুয়ায় কলেজে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আসামী হয়েছে মাছ ব্যবসায়ী। পেকুয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান উপকুলীয় কলেজে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্টান চলছিল।

এ সময় তিন ছাত্রের মধ্যে বিরোধের সুত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত এক ছাত্র এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত চালায়।

এ সময় সায়েদ মোহাম্মদ লিয়ন (১৮) ও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নামক ২ ছাত্র ছুরিকাঘাতে জখম হয়েছে। পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় পুলিশ হামলাকারীকে আটক করে। তার নাম আরমানুল হক প্রিন্স। বাড়ি উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের আমিলাপাড়ায়।

সুত্র জানায়, আরমান জিয়া কলেজের এইচ,এস,সি ১ম বর্ষের ছাত্র। ওই দিন কলেজে এইচ,এস,সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়। ছুরিকাঘাতে জখমী সাইফুল ইসলাম ওই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। লিয়ন ও সাইফুল ওই দিন অনুষ্টান প্রত্যক্ষ করতে কলেজে গিয়েছিল।

গত মাসের ২৮ মার্চ দুপুর ১২ টার দিকে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকুলীয় কলেজে এ ঘটনা ঘটে। এ দিকে ঘটনার পরদিন পেকুয়া থানায় মামলা রুজু হয়েছে। জখমী সাইফুল ইসলামের মা পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনা গ্রামের মাষ্টার নুরুল ইসলামের স্ত্রী রুকসানা মমতাজ বাদী হয়ে ওই মামলা পেকুয়া থানায় রেকর্ড হয়। যার নং ২৪/১৯। মামলায় আরমানুল হক প্রিন্সকে ১ নং আসামী করে।

অপরদিকে পেকুয়া থানায় দায়েরকৃত ওই মামলায় প্রিন্স ছাড়াও তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করে। নাজিম উদ্দিন নামক এক ব্যক্তি ওই মামলায় ২ নং আসামী হয়েছে। তিনি উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কুতুবপাড়ার তমিজুর রহমানের ছেলে।

সুত্র জানায়, নাজিম উদ্দিন পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। মগনামা জেটিঘাটে তার মাছের আড়ত আছে। কুতুবদিয়া চ্যানেলের ওই পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন সাগর থেকে আহরিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মগনামা জেটি দিয়ে উঠানামা করে। ওই স্থানে নাজিম উদ্দিন মৎস্য প্রক্রিয়াকরনের মাধ্যমে কাঁচা মাছ পাইকারী বাজারে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, মগনামা জেটিঘাটে জখমী সায়েদ মোহাম্মদ লিয়নের মা বুলবুল আক্তারের একটি দোকানঘর রয়েছে। মাসিক ভাড়া ও সালামী নিয়ে নাজিম উদ্দিন দোকানটি ভাড়া নেয়।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে মালিক বুলবুল জন্নাত ও ভাড়াটিয়া নাজিম উদ্দিনের মধ্যে লিখিত চুক্তিনামা হয়। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারী দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে দোকান নিয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

এ দিকে ওই দোকান নিয়ে গ্রহীতা ও দাতার মধ্যে বনিবনা চলছিল। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে। নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে একই অভিযোগে মালিক বুলবুল আক্তারসহ তার স্বামীকে অভিযুক্ত করে। ওই সময় থেকে জেটিঘাটের দোকানটি তালা ঝুলিয়ে দেয়। নাজিম উদ্দিনের মাছের আড়ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই ব্যক্তি বর্তমানে বেকার হয়েছেন।

নাজিম উদ্দিন জানায়, আমি তিনহাজার পাঁচশ টাকা মাসিক ভাড়ায় দোকানটি নিয়েছি। সালামী দিয়েছি ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া সেটিকে আড়ত করতে আরও লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছি। মালিক ও আমার মধ্যে লিখিত চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তারা গিয়ে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আমার সালামীর টাকা ও এদের পকেটে। এ সব বিষয়ে আমি আইনী প্রতিকার চেয়েছিলাম। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম।

মুলত ওই বিষয়টি মাথায় এনে তারা আমাকে কলেজের ঘটনায় আসামী করেছে। আমি শতভাগ নির্দোষ। নিরাপরাধ একজন ব্যবসায়ীকে ছাত্রদের মারপিটের ঘটনায় আসামী করেছে।

আসলে আমি অবিচারের শিকার হয়েছি। জীবনে অন্যায় ও অপরাধ করিনি। মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য রাস্ট্রপক্ষ ও প্রশাসন যন্ত্রকে আমাকে আইনী সহায়তার জন্য আহবান করছি।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::