বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় কবরস্থান কেটে ফেলল প্রধান শিক্ষক ; রাস্তায় নামল গ্রামবাসী

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০১৯ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১৯, ২০১৯ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া::

পেকুয়ায় কবরস্থান দখলের মহোৎসব চলছে। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে তার নিকটাত্মীয় ও অনুগত লোকজন শত বছরের পুরানো ওই কবরস্থান দখলের উৎসবে মেতেছে।

জবর দখলকারীরা গ্রামের সর্বজন মানুষের পারিবারিক কবরস্থানটিতে মাটি কেটে সাবাড় করেছেন। ওই স্থানে কবরস্থান কেটে তৈরী করেছেন ফসলী জমি ও সবজির মাঠ।

এ দিকে শত বছরের কবরস্থানের বিপুল অংশ বেহাত হওয়ায় ভূমিদস্যু চক্র ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রামে বিক্ষোভ হয়েছে। গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে কবরস্থানটি রক্ষা করার জন্য রাস্তায় নেমেছেন।

অবিলম্বে কবরস্থান জবর দখলমুক্তকরন ও জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনী প্রতিকার দাবীতে মহল্লা কমিটিসহ সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। উত্তেজনা প্রশমিত করতে চেয়ারম্যান কবরস্থানটির ভূমি উদ্ধারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বস্থ করেছেন।

এ সময় গ্রামবাসীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেন ইউপির চেয়ারম্যান। উপজেলার টইটং ইউনিয়নের হিরাবুনিয়া গ্রামে কবরস্থান দখলের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ হয়েছে।

১৯ এপ্রিল (শুক্রবার) বেলা ১১ টার দিকে সোনাইছড়ি হিরাবুনিয়া গ্রামে কবরস্থান রক্ষার দাবীতে মিছিল হয়েছে। এ সময় প্রায় ৩শতাধিক গ্রামবাসী একত্রিত হন। তারা হিরাবুনিয়া কাজী মাহামুদুল হকের বাড়ি সংলগ্ন স্থান থেকে মিছিল বের করে। হাজী বাজার হিরাবুনিয়া সড়কের কিছু অংশ মিছিলটি অভিমুখ হয়।

মিছিলে কবরস্থানটির জমি দাতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, শিক্ষার্থী ও কৃষক, দিনমজুরসহ সর্ব পেশার মানুষ ওই মিছিলে উপস্থিত থেকে এর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। সুত্র জানায়, টইটং ইউনিয়নের হিরাবুনিয়াপাড়ায় দিলকুশা জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে একটি কবরস্থান আছে। বিগত প্রায় দেড়শ বছর আগে কবরস্থানটির অস্তিত্ব বিদ্যমান। সোনাইছড়িতে ওই কবরস্থানটি গ্রামবাসীর পারিবারিক কবরস্থান। পশ্চিম সোনাইছড়ির আমিন শরিফ মিয়া, এমদাদ মিয়া, একরাম মিয়া গং পৈত্রিক অংশ কবরস্থানের জন্য দান করেন। পশ্চিম ও মধ্য টইটংয়ের লাশ দাফনে ওই কবরস্থানের অবদান সুদুরপ্রসারী। গ্রামবাসীরা জানায়, প্রাচীন ও পুরানো ওই কবরস্থানে হাজার হাজার কবর রয়েছে।

১৯৬২ সনের দিকে কলেরা নামক এক মহামারী রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় হাজার হাজার কলেরা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে ওই কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।

হিরাবুনিয়া এলাকার লোকজন জানায়, প্রায় দেড় একর আয়তনের ওই কবরস্থানটি ভূমিদস্যু চক্রের লোলুপ দৃষ্টিতে পরিনত হয়েছে। সম্প্রতি কবরস্থানটির অস্তিস্থ বিলীনের অবস্থা বিরাজ করছে। আট থেকে দশ জন ব্যক্তি ওই কবরস্থানটি জবর দখলের তৎপরতায় লিপ্ত। হিরাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ও নাপিতখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওসমান গনির নেতৃত্বে এ সব লোকজন কবরস্থানের শ্রেনী পরিবর্তনে জড়িত রয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, হিরাবুনিয়াপাড়ায় দেড়শ বছরের পুরানো কবরস্থানটির বিস্তৃতি হ্রাস পেয়েছে। দেড় একরের মধ্যে বর্তমানে আয়তন অর্ধেকে এসেছে। কবরস্থানটির মাঝখানে বুক চিরে ফসলী জমি তৈরী হয়েছে। মধ্যখানে ফসলি জমি দক্ষিন দিকে কবরস্থান এর উত্তরদিকে জবরদখলকারীদের বসতভিটা।

দেখা গেছে, তারা সেখানে ঘিরাবেড়া দিয়েছেন। বিভিন্ন বৃক্ষ সৃজিত করেছেন। তবে বসতভিটায় এখনো পাকা দেয়ালের কবর কালের স্বাক্ষী হিসেবে আছে। যে স্থানে ফসলী জমি হয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এটি ২/১ বছরের মধ্যে মাটি খনন করা হয়েছে। এ সব স্থানে এখনো শত শত কবর আছে। জবরদখলকারীরা কবরস্থানটিতে একাধিক প্লট করেছেন। এ সব প্লট তারা ভাগাভাগি করে ভোগ করছেন। সবজির ক্ষেত হয়েছে কবরস্থান অংশে। অনেকে গাছের চারা রোপন করে কবরস্থানটি ঘর ভিটায় রুপান্তর করেন।

হিরাবুনিয়া গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর পুত্র ৮০ বছরের বৃদ্ধ আশরাফ আলী জানায়, আমি কবর তৈরী করি। ২৫ টি কবর কুঁড়েছি। এখন ওসমানসহ জবরদখলকারীরা বলছে, এখানে নাকি কবর নেই। আমরা কবরস্থানটি বাঁচাতে চাই।

ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুুুরু, সিএনজি চালক জমির, পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী ইউনুছ, গ্রামবাসী আবু ছিদ্দিক, নুরুল আবছার, আবু তাহেরসহ লোকজন জানায়, আমরা কবরস্থান রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। তারা কা-পুরুষ। কবরস্থান কেনার অধিকার ওদের নেই। পৃথিবীর শেষ ঠিকানা হচ্ছে কবর। যেখানে অনন্তকাল কোটি কোটি বছর থাকতে হবে। সেটিকে নিয়ে কেন তারা এমন বাড়াবাড়ি করবে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি জানায়, আমরা জায়গা ক্রয় করেছি। কাগজপত্র উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানায়, ইউএনওর ওখানে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। স্যার আমাকে এর ন্যস্তভার অর্পন করে। আমি সরেজমিনে গিয়েছি। বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত গ্রামবাসীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছি।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::