সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩২ অপরাহ্ন

পেকুয়ায় এবার পুলিশ সহায়তায় বসতবাড়ি ভাংচুর করল দুবৃর্ত্তরা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুন ৭, ২০১৮ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: জুন ৭, ২০১৮ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া ::
পেকুয়ায় বসতবাড়ি ভাংচুরসহ ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। এ সময় দিন দুপুরে কৃষকের বসতবাড়িতে হানা দেয় ২০/৩০ জনের স্বশস্ত্র দুবৃর্ত্তরা। এ সময় বসতবাড়ি গুড়িয়ে দেয় তারা। মালামাল লুটপাটসহ ব্যাপক ভীতি ছড়ায়। প্রচন্ড বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই সুবাদে একদল দুবৃর্ত্তরা দেশীয় তৈরী অস্ত্র স্বস্ত্র,লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে বাড়িতে হানা দেয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন সদ্য নির্মিত ছনের ছালের ওই বসতবাড়ি গুড়িয়ে দেয়। ঘরের ছাল ও বেড়া তারা নিয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় প্রচন্ড ভীতিসহ লাঠি সোটা ও ধারালো অস্ত্র তাক করে জনগনকে ধাওয়া দিতে ধেয়ে যায়। এতে স্থানীয়রা পিছুনের দিকে হটছিলেন। এ সুবাদে তারা বসতবাড়ি সম্পূর্ন মিশিয়ে দেয়। ঘটনার জের ধরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী বটতলীয়াপাড়া গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ৭ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে বটতলীয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পেকুয়া থানা পুলিশ এর আগে দু’দফা ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। বিরোধীয় জায়গায় পুলিশের পক্ষপাতমুলক আচরনকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৬০ শতক জমি ক্রয় করে মনোয়ারা বেগম নামের এক গৃহবধূ সদর ইউনিয়নের বটতলীয়াপাড়া গ্রামে বসতবাড়ি তৈরী করছিলেন। ওই জমি নিয়ে একই ইউনিয়নের মগকাটা গ্রামের আমির হোসেন এর বিরোধ দেখা দেয়। আমির হোসেন তার স্ত্রীর নামে জায়গা কবলা সম্পাদন করে। অপরদিকে মনোয়ারা বেগমের স্বামী আনোয়ার হোসেন ৬০ শতক জমি স্ত্রীর নামে ক্রয় করে। জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। আনোয়ার আজিমের ছেলে জয়নাল আবদীন ওই জমি আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে বিক্রি করে। যার পৃথক দলিল নং ৭৩০ ও ৪৫৩২। ২০০৯ সালে এ জমি কিনে। মালিক জমির জমাভাগ সৃজন করে। গত ৬ মাস আগে ওই স্থানে মনোয়ারা বেগম বসতবাড়ি নির্মাণ করে। পরিবার পরিজন নিয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন। অপরদিকে বুলবুল আক্তার আনোয়ার আজিমের অপর ছেলে জামাল উদ্দিনের কাছ থেকে জায়গা ক্রয় করে। তবে দাগ ও খতিয়ান একই অংশ। তবে চৌহর্দ্দি ও দখল চিহ্নিত ভিন্ন। মনোয়ারা বেগম ওই জায়গায় দুটি জাবেদা চুড়ান্ত প্রচার করে। সম্প্রতি বুলবুল আক্তার জায়গা দখলে নিতে প্রচেষ্টা চালায়। মনোয়ারা বেগম ও বুলবুল আক্তার একই জায়গা নিয়ে দোদুল্যমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বুলবুল আক্তার জায়গা জবরদখলের চেষ্টা করছিলেন। এতে মনোয়ারা বেগম জবরদখল ঠেকাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এমআর মামলা করে। যার নং ১৫৯/১৮। ১৪৪ ধারা বলবৎ চেয়ে এম আর মামলা করে। সহকারী কমিশন ভূমি পেকুয়াকে সরেজমিন যাচাইসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করতে দায়িত্বভার অর্পন করে। কাগজপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন দখলসহ মনোয়ারা বেগম ওই জায়গার বৈধ মালিক। সে হিসেবে এসিল্যান্ড পেকুয়া প্রতিবেদন আদালতে প্রেরন করে। এ দিকে ওই জমি দখলে নিতে বুলবুল আক্তার গং পেশী শক্তির বলয় তৈরী করে। একদিকে থানা পুলিশ অপরদিকে পেশীশক্তি। এ দুয়ের সমন্বয়ে গত কয়েকদিন ধরে জায়গা দখলের প্রচেষ্টা হয়। পেকুয়া থানা পুলিশ তৃতীয় দফা ওই স্থানে যায়। পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ওই দিন পেকুয়া থানায় বৈঠকের কথা ছিল। আদালতে মামলা চলমান। এমনকি বাদী মনোয়ারা বেগম জবর দখল ঠেকাতে আদালতে স্মরনাপন্ন হন। তবে পুলিশ এ সব থাকা স্বত্তেও মনোয়ারা বেগমকে থানায় হাজির থাকতে সমন দেয়। গত দুই দিন আগে পুলিশ ওই স্থানে গিয়ে মনোয়ারা বেগমকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করে। ওই মহিলার ছেলে কক্সবাজার সিটি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র ইমতিয়াজ মোহাম্মদ রাশেদকে ও পুলিশ হাকাবকাসহ ধমকি দেয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রকে ধরে নিয়ে আসতে টানা হেচড়া চালায়। ঘটনার দিন সকালে মনোয়ারা বেগমকে থানায় হাজির করায় পুলিশ। এ সময় আইনজীবিসহ বিষয়টি থানায় বৈঠকের দিনক্ষন ছিল। মনোয়ারা বেগম জানায়, পুলিশ আমাকে থানায় হাজির থাকার কথা বলে এক প্রকার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকিয়ে রাখে। এ সময় প্রতিপক্ষের ভাড়াটে লোকজনকে আমার বসতবাড়িতে পৌছায়। আমার অনুপস্থিতিতে তারা বসতবাড়ি ভাংচুর করে। একদিন আগে পেকুয়া থানার এস,আই বিপুল চন্দ্র রায় আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে অহেতুক বকাঝকা করে। প্রচন্ড গালমন্দসহ ধমক দিচ্ছিলেন। ওসি বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন। বিপুল ও আমাকে নিচে যেতে বলেন। ওই দিন বৃষ্টি হচ্ছিল। ভারী বর্ষনের মধ্যে আমাকে থানায় আটকিয়ে তারা বসতবাড়ি গুড়িয়ে দেয়। বাড়ির আসবাবপত্রসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। ছেলেমেয়েদের পাঠ্যপুস্তকসহ শিক্ষা উপকরন কাঁদায় ছুটে মারে। মৃত ছিদ্দিক আহমদের পুত্র আমির হোসেনের নেতৃত্বে রাসেল, জহিরুল ইসলাম, তৈয়ব, জসিম উদ্দিন, সাদ্দামসহ ২০/৩০ জনের লোকজন ভাংচুরে জড়িত ছিল। এদের মধ্যে জহির ও আমির হোসেনসহ সকলের হাতে অস্ত্র ও দেশীয় ধারালো কিরিচ ছিল। লোকজন ধারে কাছে পৌছতে পারেনি। এস,আই বিপুল ধমক দিয়ে বলেন, এ বেটি আমি এ সব কিছু বুঝি না। কোর্ট ও এসিল্যান্ড এ সব পুলিশের জন্য কিছুই না। আমি এ সব মানি না। আমি যেটি বলি সেটি মানবি। পেকুয়া থানার এস,আই বিপুল চন্দ্র রায় জানায়, আমরা কারও পক্ষপাতিত্ব করেনি। শান্তিশৃংখলা বজায় রাখা পুলিশের কাজ। থানায় আটকিয়ে রাখা হয়নি। বাড়ি ভাংচর হয়ে থাকলে পুলিশ খতিয়ে দেখবে। এ বিষয়ে জানতে পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার(সার্কেল) কাজী মতিউল ইসলাম জানায়, বিষয়টি ওসিকে জানান। ভাংচুরের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::