শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৫ অপরাহ্ন

পেকুয়ায় আশ্রয়ণে ভাঙাচোরা ঘরে ১৫শ’ মানুষের মানবেতর জীবন

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০১৯ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১৩, ২০১৯ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

চকরিয়া প্রতিনিধি ::

পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় দেড় হাজার মানুষের মাথার উপর ছাউনি নেই। এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০ পরিবারের সবগুলো ঘরের চালার ঢেউটিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর দিন কাটছে এসব মানুষের। আগামী বর্ষার আগে এসব মানুষের মাথার উপর ছাউনির ব্যবস্থা করা না হলে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়; বিগত ২০০৪ সালের ১০ জুলাই সরকারী অর্থায়ণে এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে ঠাঁই হয় দুইশত হতদরিদ্র পরিবারের। এরা সবাই ভূমিহীন, গৃহহীন। নারী পূরুষ সবাই আছে।

মহিলাদের মধ্যে কেউ বিধবা, কেউবা স্বামী পরিত্যক্ত, হয়তো স্বামী কর্তৃক নির্যাতিতা। কারো কারো স্বামী প্রতারণা করেই পালিয়ে গেছে অন্যত্র। বর্তমানে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাথার উপর সেই ছাউনির ঢেউটিন গুলো একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি আসলে সবাইকে ঘরের ভেতরে পলিথিন মুড়িয়ে এক জায়গায় বসে থাকতে হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়; আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে এক সারিতে ১০ ব্যারাকে ১শত করে দুই সারিতে ২০০ ঘর রয়েছে। প্রকল্পের উত্তর পাশে দুইটি স্কুল ঘর, দক্ষিণে আরও একটি স্কুল ঘর, পূর্ব সারিতে একটি মসজিদ। রয়েছে ২০টি গোসল খানা ও ৮০টি সেনিটারী ল্যাট্রিন। ২০০ ঘরের সবগুলো চালা এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

এক সময়ের সাদা টিনের ছাউনি এখন দেখা যায়না। সব ঘরের চালার উপরে খড়কুটো নয়তো কালো পলিথিন তুলে দিয়ে রোদ বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া প্রাণান্ত প্রচেষ্টা। ২০০৪ সালের ধবধবে সাদা এসব টিনের ঘরগুলো ২০১৯ সালে এসে একবারে কালো মিলন হয়ে ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। সূর্যের আলো সরসরি ঘরের ভেতরে চলে যাওয়ায় বাইর থেকে ঘরের সকল জিনিসপত্র দেখা যায়। স্কুল ঘরগুলোর টিনও নষ্ট হয়ে প্রায় ঝরে গেছে।

এতে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্কুলগামী শিশুদের পড়া লেখা বন্ধ হয়ে গেছে। রোদ বৃষ্টিতে ২০০ পরিবারের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে প্রতি ঘরে থালা বাসন পাতিল বসিয়ে দিতে হয়। রাতের বৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এ অবস্থায় দিন কাটছে এসব হতদরিদ্র মানুষের।

পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম জানান; বর্ষার আগে যদি এসব ঘরগুলো নতুন করে মেরামত করে ছাইনি দেয়া না যায় তাহলে আগামী বর্ষায় আমাদের বৃষ্টিতে ভেজা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তিনি আগামী বর্ষার আগে ঘরগুলো মেরামত করে দেয়ার দাবী জানায়।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেছেন, আমি আশ্রয়ণ প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা দেখেছি। খুবই নাজুক অবস্থা। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটির ২০০ ঘরের চালার টিন, কাঠামোর সামগ্রী প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তৈরী ও চাহিদা তৈরী করে জরুরী মেরামতের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়ার) সাংসদ জাফর আলম জানান; ‘আমি আশ্রয়ণ প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থার কথা শুনেছি। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের সবঘর আবার মেরামত করে মানষের বসবাস উপযোগী করে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। বর্ষার আগেই এ মেরামত কাজ শেষ করতে চাই।’

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::