তারিখ: শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

পেকুয়া অফিস:

পেকুয়ায় আ’লীগ ও ক্ষমতাসীন দলের ৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নিল পুলিশ। মামলার বাদী বিএনপি ওয়ার্ড কমিটির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন। নাশকতাসহ ফৌজধারী একাধিক মামলার আসামী। মারপিট সংক্রান্ত বিষয়ে পেকুয়া থানায় সম্প্রতি একটি মামলা রুজু হয়েছে।

ওই মামলায় আ’লীগের তৃণমুল পর্যায়ের ৬ জন নেতা-কর্মীকে আসামীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে। পেকুয়া থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। যার নং ১৪/১৯।

প্রাপ্ত সুত্রে জানায়, উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজারে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারপিট হয়েছে। তবে সৃষ্ট ঘটনায় হতাহত ও বড় ধরনের রক্তপাত হয়নি। স্থানীয়রা ওই স্থানে এসে দু’পক্ষের হাতাহাতিসহ মারপিট নিবৃত করে। এর সুত্র ধরে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট রাত ৮ টার দিকে দু’পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। ২০ আগস্ট পেকুয়া থানায় মামলাটি রুজু হয়েছে। মামলার বাদী মহিউদ্দিন(৪৫) মগনামা ইউনিয়নের চেরাংঘোনা গ্রামের হাজী জাফর আলমের ছেলে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, মহিউদ্দিন বিএনপি মগনামার ৬ নং ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বরত। জোট সরকারের সময় ওই ব্যক্তি ক্ষমতাধর ও প্রতাপশালী ছিল। সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে তার শক্তি অত্যন্ত প্রকট। আ’লীগ বিরোধী যে কোন মিছিল মিটিংয়ে তার তৎপরতা প্রকট। এতে করে পুলিশ এ সল্ট মামলাসহ রাষ্ট্রবিরোধী মামলার আসামীও হয়েছেন ওই মহিউদ্দিন।

সোনালী বাজারের লোকজন জানায়, আ’লীগ ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে একাধিকবার তর্ক বিতর্ক হয়েছে। মহিউদ্দিন আ’লীগকে প্রায় সময় ঘায়েল করতেন। এ নিয়ে দু’দলের অনুসারীদের মধ্যে অনেক আগে থেকে দ্বন্ধ ও ¯œায়ু বিরোধ ছিল। মামলায় আসামী হয়েছেন ৬ জন। এরা সবাই আ’লীগেরই রাজনৈতিক কর্মী। মহিউদ্দিন ও তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে বিরোধের মুল সুত্রপাত রাজনৈতিক কেন্দ্রিক।

আসামীদের মধ্যে রমিজ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ দুলাল, ছাত্রলীগ ৬ নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতিকে প্রধান আসামী করে। এ ছাড়া তার ভাই নুরুল আলমকেও আসামী করে। নুরুল আলম স্বেচ্ছাসেবকলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার নেতা। তাকে মামলায় ৬ নং আসামী করে। একই মামলায় উজানটিয়া ইউনিয়নের ঠান্ডার পাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র দিদার, নুরুল আবছারের পুত্র আমজাদ হোছাইন, তার ভাই মো: আজাদ, দিদারের ভাগিনা ইদ্রিসের ছেলে রাসেলকেও আসামী করে। দিদার সৈনিক লীগ উজানটিয়া শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। সুত্র জানায়, নারী সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামারি হয়েছে এমন এজাহারে উল্লেখ করলেও প্রকৃত ঘটনা তা নয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মামলার বাদী উল্লেখ করেছেন তার মেয়ে সাদিয়া নাসরিন প্রমিকে ইভটিজিং করেছে। এর সুত্র ধরে আসামীরা তাকে পিটিয়ে জখম করে।

মটকাভাঙ্গা ও ঠান্ডারপাড়ার লোকজন জানায়, আজাদ এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক করতেন। মেয়েটির নাম সংগত কারনে প্রকাশ করা হলনা। তবে আজাদ মহিউদ্দিনের সাথে সম্পর্ক করেননি। সম্পর্ক করেছিল মহিউদ্দিনের এক ভাগনির সাথে। মহিউদ্দিন এ সম্পর্কে ঈর্ষান্বিত হয়ে ভাগনি ও আজাদের সম্পর্ককে বিনষ্ট করতে আগে থেকে কু-পরিকল্পনা করছিল। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিজের মেয়েকে ইভটিজিং প্রচার চালিয়ে কাল্পনিক ঘটনা রটায়। আর ওই বিষয়টিকে রং ছিটিয়ে পেকুয়া থানায় তার প্রতিপক্ষ শক্তিকে ঘায়েল করতে এ মামলাটি রুজু করে।

মামলার তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত পেকুয়া থানার এস,আই আতিকুর রহমান জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মধ্যে বেরিয়ে আসবে আসল বিষয়টি। নিরাপরাধ থাকলে তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::

error: কপি করা নিষেধ !!