তারিখ: বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

পেকুয়া অফিস:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় অপহৃত জেলেকে মূমুর্ষবস্থায় উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

জখমী ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ সাগর (২৭)। পেশায় একজন জেলে। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বকসু চৌকিদারপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

১৯ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালী একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন রাত ১২ টার দিকে জেলে মোহাম্মদ সাগর বিহিন্দীজাল পাতাতে নিজ বাড়ি থেকে কাটাফাঁড়ি নদীতে যায়। এ সময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা ৫/৬ জনের দুবৃর্ত্তরা তাকে জিম্মী করে ফেলে। এক পর্যায়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই জেলেকে সেখান থেকে টানা হেঁচড়া করে বেড়িবাঁধের দক্ষিন দিকে সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালী নিয়ে যায়।

জকির আহমদের দোকানে তাকে আটকিয়ে ইলেকট্রিকের টর্চ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। দোকানটিতে তারা ওই জেলেকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। চুরির অপবাদে তাকে এ ঘটনা ঘটানো হয়। একটি বিহিন্দী জাল চুরি হয়েছে। তাকে ওই চুরির দায় স্বীকার করাতে এ নির্যাতন চালানো হয়েছে। জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি মুঠোফোনে ধারণ করতে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে দেয়ার ভয় দেখানো হয়।

সাগর জানায়, আমি নদীতে যাওয়ার পথে তারা উৎপেতে থাকে। জালিয়াখালী এলাকার আলতাফ উদ্দিন, জকির, আবদুল করিম, রফিকসহ ৬/৭ জন মিলে আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে জকিরের দোকানে আটকিয়ে রাখে। আমি জাল চুরি করিনি।

এরপরও তারা মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আমাকে অমানুসিক নির্যাতন চালায়। অস্ত্র দিয়ে পুলিশে দিবে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করে। আমার কাছ থেকে তারা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে। ইউপি সদস্য নুরুল হক সাদ্দামও আমাকে দ্বিতীয় দফায় লাটি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী নন্না মিয়া, মানিক, জাহেদ উল্লাহ, ছৈয়দ নুর, মিজান জানায়, খবর পেয়ে আমরা জালিয়াখালী গিয়েছিলাম। রাত ৩ টার দিকে জকিরের দোকান থেকে তাকে মূমুর্ষবস্থায় উদ্ধার করে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে নিয়ে আসি।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানায়, আমাকে কেউ বিষয়টি বলেনি। অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!