মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

পাহাড়ে দুই লাখ মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০১৮ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: জুলাই ৫, ২০১৮ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারে বন উজাড় ও পাহাড় কেটে বসতঘর তৈরী সহ নানা কারণে প্রতি বর্ষায় ঘটছে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা। গেল ৮ বছরে পাহাড় ধ্বসে সেনা সদস্য সহ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকে। এই মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদস্থানে সরানো, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলেও লোকজন জীবনের ঝুকি নিয়ে বরাবরেই পাহাড়ে অবস্থান করছে। বরাবরেই কাটছে পাহাড়। এমনটাই জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজারের ৮ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড় চূড়া ও ঢালুতে অন্তত ৩০ হাজারের অধিক ঘরবাড়ি রয়েছে। এসব ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষ। আর প্রতি বষার্য় শহরের বৈদ্যঘোনা, পাহাড়তলী, ঘোনারপাড়া, সার্কিট হাউজ, হিমছড়ি সহ মহেশখালী উপজেলা ও সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফ-উখিয়ায় পাহাড় ধ্বস হচ্ছে। মারা যাচ্ছে বহু মানুষ।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১০ সালের জুন মাসে কক্সবাজারে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসে সাত সেনা সদস্য সহ ৫৬ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে শহরের বাহারছড়ায় ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসে একই পরিবারের ৩ জন সহ নিহত হয় ৫ জন। আর এই মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানী ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং সহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে থাকা ঝুকিপূর্ণ মানুষদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ে। পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে যারা পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধে। এর পরেও লোকজন সরতে চাইছেনা। তারা বলছে পাহাড় ছেড়ে কোথায় যাবে?
শহরের ঘোনারপাড়া এলাকার পাহাড়ে বসবাসরত রাবেয়া খাতুন নামে এক নারী জানান, তারা সমুদ্রের পাড়স্থ শহরের নাজিরারটেক এলাকায় বসবাস করতো। ওখানে জোয়ার-ভাটার পানি উঠার কারনে পাহাড়ে জায়গা নিয়ে ঘর করেছে। এখন এই জায়গাটাই তাদের বসবাসের জন্য শেষ সম্বল। তাই পাহাড় ছেড়ে কোথাও যাবেনা।
পাহাড়ে থাকলে মৃত্যু’র ঝুঁকি রয়েছে এমন প্রশ্নে শহরের পাহাড়তলীতে বসবাসরত সৈয়দ নুর নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও কিছু করার নাই। সরকার মাইকিং করে আমাদের কয়েকদিনের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেলেও স্থায়ীভাবে আমাদের কোন জায়গা দিচ্ছেনা। যার ফলে এই পাহাড়েই আমাদের থাকতে হচ্ছে।’
এই পরিস্থিতির জন্য পাহাড় খেকোদের দুষিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব জানান, যারা পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাহাড় কাটার অভিযোগে এই পর্যন্ত ১৪১ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভ্রাম্যামান আদালতের মাধ্যমে অনেককে আর্থিক জরিমানা ও কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান চললেও পাহাড় কাটা লোকজনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় হিমসীম খেতে হচ্ছে।
জেলা জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, শহরে পাহাড় ধ্বসের আশংকায় থাকা ৬ টি ওয়ার্ডে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে জনপ্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা লোকজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। আর এসব লোকজনকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেওয়ার সার্বিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সচেতন মহল বলছেন, প্রতি বর্ষায় পাহাড় ধ্বস হয়। মানুষের মুত্যু হয়। আর প্রশাসনের দৌড়ঝাপ চলে লোকজনকে নিরাপদস্থানে সরাতে। কিন্তু স্থায়ীভাবে কোন সমাধান এখনও পর্যন্ত হয়নি।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::