তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

ঢাকা, ০২ ডিসেম্বর- পাঁচ শতাংশ পুলিশের জন্য পুরো বাহিনীর বদনাম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। ভুক্তভোগী এক ব্যাংক কর্মকর্তার রিট আবেদনের শুনানিকালে সোমবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

দুই ব্যাংকারকে অবৈধভাবে আটক করে টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য, এক এসআইসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ১৫ দিন পর এ বিষয়ে হাইকোর্টে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতেও ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, পুলিশ অপরাধ করলে কিছু হয় না। পাঁচ শতাংশ পুলিশের জন্য পুরো বাহিনীর বদনাম হচ্ছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ জুন রাত ১১টায় মতিঝিল শাখার সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল তার এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে উত্তরার ভূতের আড্ডা রেস্টুরেন্ট থেকে রাতের খাবার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় নামপ্লেটহীন এক পুুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম খলিলকে উত্তরা পূর্ব থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা ইব্রাহিমকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে এএসআই মোস্তাফিজ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন ইব্রাহিমের কাছে। তখন আহত ইব্রাহিম ছয় হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পান। পরে তাকে বাকি ১৪ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছিল। এরপর তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এর কিছুদিন পর পুলিশের ওই এএসআই ইব্রাহিমের নারী সহকর্মীকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে বলেন।

তিনি বলেন, ওই সহকর্মী দেখা করলে অবশিষ্ট ১৪ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে না। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ইব্রাহিম। সঙ্গে নারী সহকর্মীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার কলরেকর্ডিং, মেডিকেল সার্টিফিকেটও দাখিল করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২৫ জুলাই ইব্রাহিম হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবুল কালাম ও ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

সূত্র : সমকাল
এন কে / ০২ ডিসেম্বর


Share:
error: কপি করা নিষেধ !!