তারিখ: মঙ্গলবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এম,এস রানা উখিয়া ::
পবিত্র ঈদুল আযহা ও সাপ্তাহিক মিলিয়ে টানা ৫ দিনের ছুটিতে পর্যটক পর্যটকে মূখরিত হয়ে উঠেছে সাগরকন্যা ইনানীসী-বীচ। এবারের ঈদের ছুটিতে বিদেশী পর্যটকের উপস্থিতি অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম হলেও দেশের দুর দুরান্ত থেকে আসা কোলাহলে নবজাগরন সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমূদ্র সৈকতের লীলা ভূমি ইনানী সী-বীচে। তবে যাথায়ত বিড়ম্বনা সহ হয়রানীরও কমতি নেই এ আনন্দ ভ্রমন কে ঘিরে। বিপুল সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি কে পুঁজি করে এক শ্রেনীর দুর্লোভী গাড়ি চালক দ্বিগুন ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নই হোটেল মোটেল সহ বিভিন্ন কটেজের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বলে একাধিক পর্যটক অভিযোগ করে বলেন, তাছাড়াও খাদ্যের দোকান সহ মৌসুমী দোকানদার রা বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর দাম দ্বিগুন হাকিয়ে আদায় করে নিচ্ছে।
প্রকৃতি নিজ খেয়ালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে অসংখ্য কোরাল। এসব কোরালের রহস্যময়ী
অবস্থান অবলোকন করতে এই বীচে কিছুটা সময় কাটাতে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক চলে আসে মন মাতানো হৃদয় নিংড়ানো এই অপরুপ সাগরকন্যা ইনানী সী-বীচে।। ইনানী বীচের অদুরেই রয়েছে আরো মন মাতানো প্রশান্তির পাটুয়ারটেক সী-বীচ। পাটুয়ারটেক সী-বিচের একটু পূর্বে পাহাড়ের নিচে রহস্যময়ী কানা রাজার গুহা। কানা রাজার গুহার পাশেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ফইল্লা চাকমার মাচাং ঘর দেখতে আনন্দ লাগে। পশ্চিমে বিস্তৃর্ণ নান্দনিক সমুদ্রের ঢেউ পূর্বে উচু পাহাড় তার মাঝেই ইনানী সী-বীচ।

পৃথিবীর দীর্ঘতম বেলাভূমি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ বীচের উখিয়ার ইনানী সী-বিচ দেখতে ও সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে সাধারণ দর্শনার্থীদের চেয়ে রাজধানী
সহ দূরদুরান্ত থেকে আসা ভিআইপি ট্যুরিষ্টদের পদচারনায় মূখরিত হয়ে উঠেছে ইনানী বীচ।
ইনানী সী-বীচের জলরাশি ও ঢেউয়ের নৃত্য, প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করে সময় কাটাত কিংবা সুর্যান্তের বিরল দৃশ্য অবলোকন করতে অনেক পর্যটক অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে কখন সন্ধা নামবে সেই আশায়। দেখা যায়, দেশী-বিদেশী পর্যটকরা
কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের চেয়ে ইনানী
বিচে অবকাশ যাপন ও দর্শনে অধিকতর সময় ব্যয়
করতে চাইলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা ও আবাসিক
হোটেল-মোটেলে থাকা খাওয়ার ব্যায় অধিকতর হওয়াতে অনেক পর্যটক কে
কক্সবাজারে ফিরে যেতে হয় বলে জানালেন
চট্রগ্রাম মিরশ্বরাই থেকে আগত চাকুরীজীবি কামরুল ইসলাম ও তার বন্ধুরা এসেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ইনানীতে বেড়াতে, তারা বলেন, ইনানী বীচে
কক্সবাজার বীচের চেয়ে স্বচ্ছ নীলাব পানি,
অসংখ্য কোরালের ছড়াছড়ি, সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য ও সমুদ্র ঘেষা পাহাড়। যার কারণে পর্যটকরা বেশি আনন্দ উপভোগ করতে পারে। ঢাকা সাভারের নব দম্পতি সাঈদুল আলম ও আফসানা আক্তার লোনা এই প্রথম এসেছে কক্সবাজার বেড়াতে তারা বলেন, পবিত্র ঈদ আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমরা এখানে বেড়াতে এসেছি।
ইনানী সী-বীচ তথা কক্সবাজারের মনোরম
পরিবেশ দেখে খুব ভালই লেগেছে। আমরা
আগে শুনেছিলাম ইনানী সী-বীচে সূর্যাস্তের
কথা কিন্তু বাস্তবে দেখে নিজেকে গর্বিত মনে
হচ্ছে। তারা বলেন, সমুদ্রের পানিতে নেমে
গোসল, প্রবাল পাথরে বসে ছবি করছি।

ইনানীর ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইনানী বিচের পূর্নাঙ্গ রূপ দেখতে পর্যটকদের কিছু সময় হাতে নিয়ে আসতে হবে। ভাটার সময় এই বিচের পানি যেমন নীলাব দেখায়, তেমনি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোরাল পাথুরের উপর ছোটাছুটি স্মৃতির মানসপটে ফটোসেশন করা, সূর্যাস্ত দর্শন আরও কত কিচ্ছু মনকে আন্দোলিত করে তোলে।

আবার জোয়ারের সময় থেকে কিছুক্ষন অবস্থান
কালে জোয়ারের স্বচ্ছ পানিতে ঢেউয়ের
আছড়ে ক্রমেই ছড়িছিটিয়ে থাকা অসংখ্য
কোরালের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, ইনানীর বড় ও
ছোট খালে জোয়ারের পানিতে টুইটুম্বর হওয়া,
খালে মাছ ধরার নৌকা ও ফিশিং বোটের নড়াচড়া,
ইনানীর পাশেই সবুজ-শ্যামল গ্রামের চিরাচরিত চিত্র,
পাহাড়ের সবুজ গাছ-গাছালি, বীচের লাল কাঁকড়াদের
হুড়োহুড়ি, সাগরে জেলেদের মাছ শিকারের দৃশ্য
দেখতে ভাল লাগে। ইনানীতে তারকা মানের
আবাসিক হোটেল, বনবিভাগের রেষ্ট হাউস,
ব্যক্তিমালিকানাধীন কয়েকটি কটেজ আছে তবে
তা পূর্ব থেকে বুকিং করে না আসলে হয়ত
ইনানীতে রাত যাপনের ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে যায়।
ইনানী সী-বিচে দেশের যেকোন এলাকা
থেকে যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা আছে। ঢাকা,
চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোন অঞ্চল থেকে
কক্সবাজারের সরাসরি বিলাস বহুল গ্রীন লাইন, সৌদিয়া- এস আলম লাক্সারী, সোহাগ, শ্যামলী, সেন্টমাটিন সার্ভিস সহ বেশ কিছু পরিবহন সার্ভিসে কক্সবাজার আসা যায়। মেরিন ড্রাইভ রোড ছাড়াও কক্সবাজার শহরে প্রবেশের পূর্বে লিংরোড হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার কোট বাজার রাস্তা হয়ে ইনানী যাতায়াত করা যায়। উভয় রোড দিয়ে ইনানী পৌঁছতে প্রায় ঘন্টা খানেক সময় লাগে। প্রাইভেট গাড়ী হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এ স্থান দিয়ে ইনানী যাতায়াত সহজ ও সুবিধা হয়। আবার মেরিন ড্র্রাইভ রোড় দিয়ে ইনানী যাতায়াতকারীদের বেশি ভাল লাগতে পারে, কেননা
একদিকে বিশাল সাগর অন্যদিকে পাহাড়ে পাখিদের কোলাহল আপনাকে বারবার ডাক দেয় এসো আমাদের ভূবনে আপনাকে স্বাগতম।

আপনার মতামত প্রদান করুন ::