তারিখ: বুধবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, ১০ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share:

হুমাযূন রশিদ,টেকনাফ ::
টেকনাফে স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা অপরাধীদের আস্তানা খ্যাত শালবাগানে এনজিও সংস্থার এক নৈশ প্রহরীকে প্রাণে মারার চেষ্টা চালিয়েছে সংঘবদ্ধ দূবৃর্ত্তচক্র। তাকে উন্নত চিকিৎসার কক্সবাজার হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারী রাত ৮টারদিকে টেকনাফের নয়াপাড়া শালবাগানে এনজিও সংস্থা অধরার ক্যাম্পের ওরিয়ন সিকিউরিটি গার্ড মোচনী পাড়ার গবী সোলতানের পুত্র কামাল হোছন (২৬) কে রোহিঙ্গা ভলান্টিয়ার আলমের ইন্দনে উক্ত এনজিও সংস্থার আগের স্টাফ নয়াপাড়ার কবির আহমদের পুত্র মোঃ ইসমাঈল, মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ মধু মিয়ার পুত্র ফজল আহমদ, মোতালেবের পুত্র রফিক আহমদ, কালা চাঁনের পুত্র রফিক আহমদসহ ৭/৮জনের একটি গ্রুপ এসে মুখ ও হাত-পা বেঁধে বেদম প্রহারের পর মুমূর্ষাবস্থায় ফেলে চলে যায়। কিছুক্ষন পর অপর নাইটগার্ড দেলোয়ার অফিসে ঢুকে কামালের এই অবস্থা দেখে সহায়তার জন্য আনসার ব্যাটালিয়নে ছুটে যান। এরপর বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিকে অবহিত করা হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কামালকে উদ্ধার করে অজ্ঞান অবস্থায় এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে জ্ঞান ফেরানো হয়। তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে কর্মরত বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য জানতে চাইলে আতংকে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
নয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোঃ আব্দুর রব ফরাজী জানান, এই খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে ঐ প্রহরীকে উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য, নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় স্বশস্ত্র ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠী পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সুযোগ বুঝে এসব দূবৃর্ত্ত চক্র ক্যাম্পের শালবাগানে নেমে এসে আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী করে আসছে। এনজিও সংস্থা অধরার অফিসটি এই আস্তানার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে। অফিসে নিয়মিত প্রহরী থাকায় রোহিঙ্গা অপরাধীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা হওয়ায় ফাঁকা গোলাগুলি করে আতংক সৃষ্টির পরও এই অফিসের প্রহরীরা ছেড়ে না যাওয়ায় প্রাণে মারার চেষ্টা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শালবনের ডিব্লকের রোহিঙ্গা আনোয়ার স্থানীয় গ্রামের লোকজন এখানে চাকুরীর বিরোধিতা করে আসছে। এসব ডাকাত চক্রের কারণে কর্মরত এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর অন্যান্য এনজিওতে কর্মরত স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::