তারিখ: মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০১৯ ইং, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন গত বছর খুব জোরদার হয়েছিলো।পেপার,পত্রিকা থেকে ফেইসবুকের পাতা ফটো আর লেখালেখি তে সয়লাব।বেশ কিছু দিন হলো থেমে গিয়েছিলো কারণ হলো কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নাকি শিবির হয়ে গিয়েছিলো।যা আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারা গিয়েছে সে কারণে।

কয়েকদিন আগে নিউজ দেখেছিলাম জবির শিক্ষার্থীর নিকট থেকে হাফ ভাড়া নেয়া হয়নি তিনি দিতে চেয়েছিলেন তাই চলন্ত বাস থেকে হেলপাত ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে।বুঝতে পারছেন আ এর ক্ষমতায় আমরা কতটুকু বলিয়ান।

কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারা গেলে আন্দোলন হয় কিছুদিন, ২-৩ দিনের মাথায় তার মধ্যে শ বি আ ঢুকিয়ে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে সরকার অন্য দিকে মোড় ঘুরানোর প্রচেষ্টা করে।

যাই হোক মানুষ তো আমরা সবাই! অন্য সাধারণ মানুষ, যদু, মধু মরলে আন্দোলন হয়না হয় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরলে। তবে হ্যা যেটাই হউক আন্দোলন তো হচ্ছে???

এখন আসুন এই আন্দোলন কেন সফল হচ্ছেনাঃ

প্রথমত ঃ ছাত্র এমন একটি জিনিস যার তাতপর্য অন্য, তা তিনি যেখানকার ছাত্রই হোন না কেন? তাই ছাত্র আন্দোলন কে রাষ্ট্র খুব ভয় পায়।তা যে ইস্যুতেই হউক না কেন?তাই বানচালের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে।খুব
সাম্প্রতিক উদাহরণ ডাকসু নির্বাচনে একসময়কার শিবির কিভাবে কোন নাটকে ভিপি হলো! তা হয়তো সবারই জানা। তাই সেদিকে আর না যাই।

দ্বিতীয়তঃ আমারা যারা সাধারণ ছাত্র তারা ২-৩ দিন আন্দোলন চালিয়ে যাবার পর বায়াস হয়ে যাই ঠিক তা নয় বরং তাদের বায়াস করানো হয় বা বাধ্য করানো হয়।কারন এমন একধরনের আন্দোলন যা কিনা কেবল শিক্ষার্থীদের সেখানে আস্তে আস্তে আসবে ছাত্রফ্রন্ট, আসবে বি জা শি সবশেষে যখন দেখলো সরকার, এখন তো আর বসে থাকা যাবেনা তখন ‘আ’দের আগমন।এখানে ব্যাপার থাকে দুইটাঃ কিছু আ বি জা শি যোগদান করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে আর কিছু আ বি জা শি আসে আন্দোলন বানচাল করতে।যেমনঃ আমি ভিপি নূরকে এমনই মনে করি।গতকাল যারা তাকে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশে বাধা দিয়েছিলেন তার ঠিক কাজটি করেছেন বলে আমার বিশ্বাস।সাবাস তাদের।এরকম জগাখিচুড়ি এর এক পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অশান্তিপূর্ণ হয়ে যায়।সাধারণ শিক্ষার্থী বলিদান হয়।
# তৃতীয়তঃ সরকার ঠিক এমন সময়ে কোন নতুন নাটক করে যেমনঃসিমলার সাবেক বরের বিমান ছিনতাই কিংবা অন্য কিছু করে মোড় অন্যদিকে ঘোরানোর প্রচেষ্টা।
#অন্যদিকে বি জা শি বলে সবাইকে জেলে ঢুকায়।যার উদাহরণ ভিপি নূর,কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ।দাবার চাল এখন কি করে পাল্টানো হয়েছে নিজের(আ) এর স্বার্থে তা খোলা চোখেই বোঝা যায় এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বা টক শো বিশারদ(কোন দলের চামচা) হতে হয়না।

এখন আসি সাধারণ ছাত্রদের ভুল কোথায়?
#আমার অভিমত ভুল হলো একসময় তারা বায়াস হয়ে যায়।মানুষ তো আমরা আমাদের সাব্জেক্টিভিটিকে ধরে রাখতে পারিনা। এদের মধ্যে কিছু বি আ জা শি এর দোসর ঢুকে আন্দোলন বানচালের প্রচেষ্টা করে।
আর নারী আন্দোলনকারী থাকলে তো কথায় নাই। তাকে নিয়ে ট্রল করে তার চরিত্র ভাংগানো হয়।আমার খুব কষ্ট হয় ,লজ্জা করে, রাগ হয়,সিদ্দিকী নাজমুল আজম ডাকসু নির্বাচনের পর কোন এক প্রেক্ষপটে ফেইসবুকের মত মিডিয়ায় লাকি কে বেশ্যা বলেছে।আমি এখানে বলবো আমি ব্যক্তিগত ভাবে লাকি কে চিনি না যতটুকু চিনি মিডিয়ার মাধ্যমে,যতটুকু জানি লাকি ছাত্র ফ্রন্টের ভালো পোস্টেট ছিলেন বা আছেন তাকে সম্মান দিয়ে অন্তত কথা বলা উচিত ছিলো ওনার।আরে ভাই যদি বলতেই হয় বাংলাদেশে এমন কোন নেতা পাতি থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের তাদের রাতের শয্যাসঙ্গিনী (বউ নয়)নাই।তাদের কেন বলেন না? নারী দেখলেই মাথা ঘোরে,লোভ লাগে তাই না? সবচেয়ে বড় কথা হলো কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ট্রল করে রাজনৈতিক ফায়দা বা অন্য কোন ফায়দা হাসিলের ট্রল বাংলাদেশ থেকে না গেলে আন্দোলন কোন কালেই সাফল্য পাবে না।যেভাবে পায়নি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ।

এবার আসি নিরাপদ সড়ক বা সড়ক দূর্ঘটনাগুলো কেন হচ্ছে তার ফাকফোকরঃ

# এক্ষেত্রে আমি আগে বলবো অধিকাংশ বাস,ট্রাক,সি এনজি ড্রাইভার মদ খায় সারারাত আর দিনে আসেন গাড়ি চালাতে যার ফলাফল একটা বা একাধিক প্রান।

# এই ড্রাইভার বেটা বিনা বেতনে একখান হেল্পার রাখছে এই শর্তে তোরে চালক বানামো।তাই মাঝে মাঝে তারে চালাইতে ও দেয়গাড়ি।যার ফলাফল একাধিক প্রান।

# বাংলাদেশে যত গাড়ি আছে তার মধ্য কম করে হলে ও ৭০% এর মত আন ফিট গাড়ি।যেগুলো ফেলে দেবার যোগ্য হয়ে ওঠে ঐগুলোকে আবার বার্নিশ,ফার্নিশ করে চালিয়ে দেয়া হয় কারন গাড়ির মালিক বেশিরভাগই এম পি মন্ত্রী থেকে পাতি নেতারা। উখিয়া উপজেলায় এরকম আন ফিট গাড়ি সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন উলটে যায় প্রানহানি তো হয়ই জনদূর্ভোগ আর জ্যামের কথা না হয় নাই বললাম।

# এবার আসি এসব এম পি মন্ত্রীদের গাড়ি চালনোর জন্য তো ড্রাইভার লাগবে তাও আবার ফিটনেসবিহীন। তাই ড্রাইভার ও আসে ফিটনেস ব্যতীত।তবে বৈধতা পায় কাগজে কলমে যার ফলাফল একাধিক প্রান।

#বাংলাদেশের সব জায়গায় প্রায় ৭৫% সি এন জি চালকের কোন লাইসেন্স নাই।আমি কম করে হলে ও ২০-৩০ জনের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন লাইসেন্স দরকার হয়না।মাসে মাসে পুলিশদের একটা মাসোয়ারা দিতে হয়।বুঝেন ই তো এইটা কত লম্বা বা কোথায় যায়?এখন আমার প্রশ্ন হলো মানলাম লাইসেন্স লাগে না।কিন্তু একটা লাইসেন্স শুধুই কি একটা লাইসেন্স?? তা অবশ্যই নয়।বরং এটা একটা প্রশিক্ষণ এর ফলাফলস্বরূপ দেয়া হয়।এই নিয়ম কানুন যদি আপনি না জানেন তাহলেই তো ফলাফল একাধিক প্রান!আর জ্যাম।যার উদাহরণ বর্তমান উখিয়া উপজেলা।বোধকরি দেশের সব জায়গায়। এটা শুধু সি এন জি নয়, সকল ছোট যানবাহনের জন্য প্রযোজ্য।

# আর ট্রাক, বাস এসবের ড্রাইভার দের লাইসেন্স কিভাবে আসে তার প্রক্রিয়া বোধকরি সকলেই জানি।
একদিন ঢাকায় কোন এক বাসে ড্রাইভার এর পাশের গরম সিটটাতে বসে মিরপুর টু পুরান ঢাকায় যাচ্ছিলাম।জ্যামে আটকে আছি ফ্রাম গেটে। ড্রাইভার মামার সাথে কথা হচ্ছিলো কোথায় বাড়ি,কতদিন গাড়ি চালান ব্লা ব্লা।তিনি জানালেন,৫ বছর বয়সে হেলপার হয়ে এসেছিলাম এখন আমার বয়স ২৫ আমি ড্রাইভার হয়ে গেছি।চালানো শিখলেন কিভাবে? তিনি স্বগর্বে উত্তর দিলেন, আমার এক বস(ড্রাইভার) আছিল উনি শিখাইছে। আর লাইসেন্স??আরে আপা, “ও তো ট্যাহা হইলেন লওন যায়।আপনার কত লাগবে বলেন আইন্যা দিতাছি।”এই হলো চিত্র।

এবার আসি ট্রাফিক পুলিশ নিয়েঃ
# আসলে এদের জন্য আমার বড্ড মায়া হয় সারাদিন ঠাডা রোদে দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে ডিউটি করতে হয়।বেচারাদের তেমন কিছু করার নাই।কেবল ৫ কিংবা ১০ টাকার বিনিময়ে দিনে যেপথ দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ এমন ট্রাককে চলতে দেয়া।কিন্তু বড় স্যার( সার্জেন্ট বেটা/ বেটির) কিন্তু অনেক কামায়।যার লাইসেন্স আছে তার থেকে ও আর যার নাই তার থেকে তো বটেই।তিন বন্ধু কিংবা সাথে গার্লফ্রেন্ড আছেন দিলেন গাড়ি আটকিয়ে সাথে হেলমেট থাকলেই কি আর না থাকলেই কি তাতে কোন কিছু যাবে আসবেনা।টাকা পেলেই হলো।

এখন আসি নাগরিক অসচেতনতা প্রসংগ ঃ

# ঢাকার অধিকাংশ নাগরিক এতটা যান্ত্রিক সামান্য সময় বাচানোর জন্য জীবনের ঝুকি নিয়ে বিশাল রাস্তা পার হচ্ছেন,কাটাতারের বেড়া টপকাচ্ছেন।কিন্তু পাশেই ফুট ওভারব্রিজ। তা চোখে ও দেখছেন না।আর দেখলে ও না দেখার ভান,হন্তদন্ত না জানি কত কাজের কাজি!
নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ বসে বসে টাকার ধান্দা না করে এইগুলোকে আমলে নিয়ে সচেতনতামূলক কিছু করা যেতেই পারে।যেমনঃ হতে পারে স্ট্রিট ড্রামা, বিলবোর্ডে এ লাইভ শো আরো অনেক কিছু।
# এবার আসি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দের হাফ ভাড়া প্রসংগ।আসলে এটা একটা বিতর্কিত বিষয়।একটা গল্প বললেই পরিস্কার হবেনঃ” আমি তখনএক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম।মিরপুর থেকে ধামরাই যাবো।প্রথমে ইতিহাস এ উঠেছি।দেখলাম সবাই বাসে হাফ ভাড়া দিচ্ছে জাবি এর স্টুডেন্ট হিসেবে।মজার ব্যাপার হলো তারা মিনিমাম ৫কিংবা ৮ বছর আগে জাবি ছেড়েছেন।”আসলে বিতর্ক কোথায় বুঝতে পারছেন?? এরকম কিছু কিপ্টাবাজদের জন্য সাধারণ এবং আসলেই যারা শিক্ষার্থী তারা পোহাচ্ছেন ভোগান্তি।ঢাকায় ম্যাক্সিমাম গার্মেন্টস বা অন্য চাকুরীজীবীর কাছে নকল আইডি কার্ড আছে! এখন ভাবুন সমস্যা কোথায়??

পরিশেষে বলবো নিয়মের ফাক-ফোকর,ব্যক্তিগত স্বার্থ আর অবহেলার জন্য বছর বছর,দিন দিন,ক্ষনে ক্ষনে এতো প্রানের বলি মেনে নেয়া যাবেনা,মেনে নিবোনা।
মাননীয় রাষ্ট্র, এর একটি সুন্দর বিহিত করুন, নিয়মের আওতায় আনুন। শুধু নিয়ম তৈরি করলে হবেনা পালন যেনো হয় তা নিশ্চিত করতে হবে,হবেই।

#জনগনকে সচেতন করার জন্য প্রয়োজনে কোন প্রকল্প হাতে নিন।যারা কিনা ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহারে সহায়তা করবে।

# প্রকল্পের আওতায় ড্রাইভার দের মানবিকতা ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষন দিন বিনামুল্যে। ট্রাফিক পুলিশদের মানবিকতার প্রশিক্ষণ দিন।

দিন পাল্টাবেই
শ্লোগান তুলুন
চলো পাল্টাই।

জিনাত নেছা
উন্নয়নকর্মী ও গবেষক

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::