শিরোনাম :
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

নিরাপদ পৃথিবী চাই শিশুদের জন্য

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ২৮, ২০১৮ ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ২৮, ২০১৮ ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ

শিশুদের জন্য চাই বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই কবিতা অনেকদিন আগে রচিত হলেও এর আবেদন সর্বকালীন। আমাদের নতুন প্রজন্মর জন্য ব্যাপক চিন্তার খোরাক যোগায় এই কালজয়ী কবিতা। আমাদের গভীরভাবে ভাবনার সময় এসেছে যে, আমরা কি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পারছি? আমরা কি আমাদের এই পৃথিবীকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে পারছি? আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে আমরা মনে হয় আমাদের এই পৃথিবীকে সত্যকার অর্থে আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী হিসেবে রেখে যেতে এবং একে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে পারছিনা। এর পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। অথচ রাষ্ট্র, সমাজ এবং শাসন যন্ত্র পরিচালনার সাথে যারা জড়িত তারা সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে এই পৃথিবীকে একটি সুন্দর, নির্মল এবং বাসযোগ্য পৃথিবী হিসেবে গড়ে তোলা।
শিশু বলতে আমরা কাকে বুঝবো?
বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনে শিশুর বয়স বিভিন্নভাবে বর্ণিত হলেও ২০১৩ সালের শিশু আইনে শিশু বলতে ১৮ বছরের নীচের সকল ব্যক্তিকে শিশু বলা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদেও শিশু বলতে ১৮ বছর বয়সী সকল মানুষকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সনদের অনুচ্ছেদ ১ –এ বলা হয়েছে ‘এই সনদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সী সকল মানুষকে বোঝাবে। সে হিসেবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ ভাগ অর্থ্যাৎ প্রায় ৬ কোটি শিশুকে নিয়ে এই লেখার প্রয়াস। আবশিকভাবেই এই লেখায় বাংলাদেশের আইন, নীতিমালা, বিধি এবং প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রাধান্য পাবে। সুনির্দিষ্টভাবে বললে মূলত শিশুদের নিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যমান মূল আইন-কানুন ইত্যাদি নিয়েই আলোচনা এগিয়ে যাবে এবং প্রসঙ্গক্রমে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা করা হবে।
শিশু অধিকার
একজন প্রকৃত মানব সন্তান হিসেবে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রত্যেক শিশুর কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কোন প্রকার বৈষম্য ছাড়া কিছু মৌলিক মানবাধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, পরিপূর্ণ বিকাশের অধিকার, নিপীড়ন, নির্যাতন থেকে নিরাপদ থাকার অধিকার, শিক্ষার অধিকার ইত্যাদি। এই অধিকারের সমষ্টিকে শিশু অধিকার হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আমাদের শিশুদের জন্য সকল অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদেরকে তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা ভাবতে হবে। তাদের বেঁচে থাকার, বেড়ে ওঠার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্ব পরিমন্ডলে শিশুদের জন্য বিভিন্ন কনভেনশন, চুক্তি প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতিসঙ্গের আওতায় আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল গঠন করা হয়েছে। আমাদের সংবিধান, বিভিন্ন আইনেও শিশুদের বিভিন্ন অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসকল সংস্থা, আইন, কনভেনশন ইত্যাদির সফলতা নির্ভর করছে আমরা কতটুকু আন্তরিকভাবে এসকলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি তার উপর। বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই ভাগে সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদের (১) নং উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না’। একই অনুচ্ছেদের (৪) নং উপ-অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে ‘নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিম্বা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না’। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, রাষ্ট্র শিশুদের অধিকার সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ প্রণয়ন করেছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও শিশুদের জন্য বেশ কিছু আইন, বিধি এবং নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু শুধু এই অধিকার সনদ, আইন, বিধি বা নীতিমালা ততক্ষণ পর্যন্ত কাজে আসবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা এই সকল আইন ও বিধি ইত্যাদি বাস্তবে প্রয়োগ করি বা বাস্তব জীবনে মেনে চলি।

শিশুদের নিয়ে নিত্যদিনের আতঙ্ক
দেশে এবং দেশের বাইরে পিতা মাতা, অভিভাবক এবং আত্মীয়-স্বজন আজকাল সদা সর্বদা তাদের শিশুদের জন্য চিন্তিত থাকে। শিশুরা আজ শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নিরাপত্তাহীন নয়। দেশের গন্ডির বাইরের অনেক ঘটনাও শিশুদের নিরাপত্তাহীন্তার চিত্র তুলে ধরবে। যুদ্ধক্ষেত্রে, শরণার্থী শিবিরে, উত্তাল সমুদ্রে সব স্থানেই যেন শিশুরা বিপদের মুখে আছে। এর দায় আমাদের সকলের।
প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় আমরা নানারকম নেতিবাচক খবর পাচ্ছি। প্রশ্ন জাগছে আমরা ক্রমেই আমাদের মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছি কিনা। আমদের বিবেকবোধ লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কিনা। ভাবতে অবাক লাগছে কি করে নবজাতক সন্তানকে ডাস্টবিনে ফেলে পাষন্ড মা-বাবা পালিয়ে যাচ্ছে। ঝোঁপ জঙ্গলের আড়ালে সদ্যজাত শিশুকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে তার গর্ভধারিণী মা। আর সেই সন্তানকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছে শিয়াল কুকুরের দল। যখন শুনি নবজাতক সন্তানকে নরপশু বাবা গলা টিপে হত্যা করছে, তখন কি আমাদের বিবেক একটুও নাড়া দেয় না? সম্প্রতি মা কর্তৃক দুই ছেলে-মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করার অভিযোগ এসেছে। মা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মর্মে খবর এসেছে। তাছাড়া এধরনের আরো অনেক খবর পত্র পত্রিকায় আসছে যা আমাদের যেকোনও সুস্থ ও বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেবে।
পত্রিকার পাতা অথবা টিভি চ্যানেলে খবর আসে তিন বছরের শিশু সন্তান ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, পুর্ব শত্রুতার খেসারত দিতে জীবন দিতে হয় দুই বছরের শিশু সন্তানকে অথবা সন্তান মেয়ে হওয়ার কারণে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করতে বুক কাঁপছে না বাবার। অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালের জানালা থেকে ফেলে দেয় বাবা এবং দাদী! অতি সম্প্রতি গ্রাম্য মাতবরের নির্দেশে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলাধীন সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ৪ শিশুকে হত্যা করা হয়। শুধুমাত্র গ্রাম্য বিরোধের জের ধরে এই হত্যা। কেন শিশুরা বড়দের বিরোধের নির্মম শিকার হবে? এসকল বিষয় নিয়ে আমাদের সকলকে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে।
শিশুর বিকাশ
শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য যারা রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে জড়িত থেকে, যারা বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে কাজ করছে, যারা বয়োজ্যেষ্ঠ এবং যারা অভিভাবক হিসেবে আছি, তাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে শিশুদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা যাতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সুন্দরভাবে বিকশিত হতে পারে। শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ যেন বাধাগ্রস্থ না হয় সেজন্য আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তাদের জন্য কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একটি কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে যে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য তার শারীরিক এবং মানসিক উভয় ধরনের বিকাশ সুনিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য শিশুদের সাথে সবসময় ভালো আচরণ করতে হবে। তাদের সামনে খারাপ আচরণ করাও যাবেনা। শিশুরা আমাদের কাছ থেকে, তাদের চারপাশের পরিবেশ থেকে সবসময় শেখে এবং অনুকরণ করে। শিশুদেরও মর্যাদাবোধ আছে এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এজন্য তাদের সাথে সম্মানের সাথে আচরণ করতে হবে। শিশুর চার পাশের পরিবেশ তার জন্য স্বস্তিদায়ক হওয়া প্রয়োজন। শিশুদের সাথে কোন প্রকার অবহেলা প্রদর্শন করা যাবে না কারণ শিশুদের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা হলে তা তাদেরকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। শিশুদের সাথে সবসময় সত্য কথা বলা উচিৎ। তাদের সামনেও কখনও মিথ্যা কথা বলা উচিৎ নয়। কারণ তাদের সামনে মিথ্যা কথা বলা হলে তারাও মিথ্যা বলা শিখবে এবং একসময় যারা মিথ্যা কথা বলে তাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ চলে যাবে এবং তারা একসময় আশেপাশের লোকজনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
শিশুর জন্য বিনিয়োগ
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আমরা সকলেই বিনিয়োগের কথা বলি। সরকারি এবং বেসরকারি সকল পর্যায়ে বিনিয়োগের কথা আলোচিত হয়। এর পুরোটাই শিল্প এবং কৃষি এবং অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগের বিষয়কে সামনে রেখে আলোচনা করা হয়। কিন্তু মনে রাখা দরকার একটি দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে সে দেশের শিশুদের জন্য বিনিয়োগ করা। রাষ্ট্র তার ভবিষ্যত কর্ণধরদের সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠার কথা চিন্তায় রেখে বিনিয়োগ করবে। পিতা মাতা তার সন্তানের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে বিনিয়োগ করবে। তার জন্য ভাল পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেওয়া, ভালো থাকার পরিবেশ দেওয়া ইত্যাদি সকলই তার জন্য বিনিয়োগ। শিশুর উন্নতমানের পড়াশোনার জন্য ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা, শিশুর সুন্দর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য উন্নত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, উন্নত সেবা দেওয়া শিশুর জন্য ভালো বিনিয়োগ। শিশুদের জন্য বিনোদন পার্ক স্থাপন, খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠা শিশুর জন্য ভালো বিনিয়োগ। সুতরাং শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভ লোকসানের ভিত্তিতে বিনিয়োগের লাভ ক্ষতির কথা ভাবলে হবেনা। এজন্য সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

শিশুর জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ
শিশু্র জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন। একথা ভুলে গেলে চলবেনা যে আজকের শিশুর সুন্দর আগামীর মাঝেই লুকিয়ে আছে আমাদের আগামীর পৃথিবী। আমরা আমাদের আশেপাশের পরিবেশটা যদি ঠিক রাখতে পারি, তাহলে পথ হারাবেনা আমাদের ভবিষ্যত পথ চলা। আমরা যারা ক্রমান্বয়ে জীবন সায়াহ্নের দিকে পা বাড়াচ্ছি তারা যদি আমাদের বর্তমানকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই তাহলে, তা আমাদের শিশুদের মাধ্যমেই সম্ভব। আমাদের শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। আমরা যদি শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে পারি তাহলেই সফল হবে আমাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড। আমাদের শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে তাদের বেঁচে থাকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুন্দর পরিবেশ ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরিবারে, সমাজে এবং রাষ্ট্রের প্রত্যেককেই যার যার অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

শিশুরা ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়
আমরা আজ আমাদের শিশুদের নিয়ে সর্বদা আতংকে থাকি। সমাজের কোথাও যেন তারা আজ নিরাপদ নয়। আজকাল প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অশুভ সংবাদ আমাদেরকে সব সময় আতংকিত করে রাখে। প্রায়ই দেখা যায়, ভুল চিকিৎসার কারণে হাসপাতালে শিশু মৃত্যু অহরহ হচ্ছে। খাদ্যে ভেজালের কারণে আমাদের সকলের অজান্তে আমাদের কোমলমতি বাচ্চারা গভীর সন্তর্পণে মারাত্বক রোগের শিকার হচ্ছে। খেলতে গিয়ে যখন পরিত্যাক্ত পানির পাইপে পড়ে মারা যায় জিহাদের মত নিষ্পাপ শিশুরা তখন আমাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক।
ঘরের কাজে যে শিশুটি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করছে তাকে আমরা নিষ্ঠুরভাবে মারছি, অমানুষিক নির্যাতন করছি। সামান্য খাবার অথবা কয়েকটি টাকা চুরির অপরাধে অবলীলায় কাউকে মেরে ফেলা হচ্ছে। নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ধারণ করে কেউ কেউ নারকীয় উল্লাস করছে! আরও যে কতরকম খারাপ সংবাদ আমাদেরকে শুনতে হয় বা জানতে হয়!
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও আমরা অনেক দুঃসংবাদ শুনতে পাই। অন্যায় যুদ্ধের শিকার হচ্ছে আয়নালের মত শিশুরা! নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে চলা শিশুরা আশ্রয় পায়না তথাকথিত উন্নত দেশে! খাদ্যের অভাবে না খেয়ে মার যায় শত সহস্র নিরপরাধ মানব সন্তান!

উপসংহার
শিশুদের নিয়ে যখনই কোনও খারাপ খবর শুনতে পাই, আমার নিষ্পাপ শিশুর অজানা অমঙ্গল আশংকায় বুকটা কেঁপে ওঠে। আমাদের এই পৃথিবী কি আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর আবাসভূমি হিসেবে চিহ্নিত হবেনা? আমাদের শিশুরা এই পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে পথ চলবে এই বিশ্বাস নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা কি পারিনা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার শপথ নিতে ?

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::