শিরোনাম ::
উখিয়ার রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্পের দুর্গোৎসবে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে কোস্ট ফাউন্ডেশন। উখিয়ায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত কোটবাজার সিএনজি মালিক-চালক সমিতির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও উপজেলা সমবায় অফিসারের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন উখিয়ায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সামাজিক সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত উখিয়ার রাজা পালং মাদ্রসা দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নানা অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠিত মুক্তি কক্সবাজারের উদ্যোগে উখিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডশিপের প্রশিক্ষণে চ্যাম্পিয়ন ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের নারী ফুটবল টিমকে সংবর্ধনা উখিয়ায় মাদক প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত একসঙ্গে ৪ সন্তান জন্ম দিলেন মহেশখালীর এক গৃহবধূ!
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..

নারী পর্যটক ধর্ষণ, ঘটনা ঘোলাটে করার অপপ্রয়াস

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১

এম.এ আজিজ রাসেল:

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘোলাটে করার অপপ্রয়াস করছে মহল বিশেষ। উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে ওই নারীর চরিত্র নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে মহলটি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে—বিপক্ষে নিন্দার ঝড় বইছে। ক্ষোভ বিরাজ করেছে সুশীল মহল।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষিত নারীকে শুরুতে বিতর্কিত না করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত ছিল অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা। একজন পর্যটক মাসে কতবার আসল কোথায় থাকল এসব নিয়ে কিছু কিছু মিডিয়া সংবাদ প্রকাশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার বক্তব্য শুনে মনে হল কক্সবাজারে বার বার আসা অপরাধ। পর্যটন শিল্পের স্বার্থে সকলের উচিত অপরাধীদের প্রথমে আটক করে সত্যটা উদঘাটন করা। ধর্ষিত নারীকে নিয়ে বিতর্কিত সংবাদ প্রচার করার মতো এখনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তারপরও বলব সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্যতা বের হোক, এতে যদি নারীটি অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হোক। তবে কোন নিরপরাধ কোন ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটিও দেখতে হবে।
এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম (এইচআরডিএফ) ও আসক এর আহবায়ক এডভোকেট অরূপ বড়–য়া তপুু বলেন, বিষয়টি খুবই ন্যাক্কারজনক। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদি তাদের কঠোর শাস্তি না হলে এমন ঘটনার পুনরায় পুনরাবৃত্তি হবে। মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে চিহ্নিত অপরাধীরা।
কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, বিষয়টি এখনো ধোয়াশা। তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে। তবে এই ঘটনা কক্সবাজারের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। কোনভাবেই এই ঘটনার দায় এড়ানো সম্ভব না। দাগী আসামীদের শাস্তি হতেই হবে।

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সভাপতি ও জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, এই ঘটনা কক্সবাজারের জন্য অশনিসংকেত। পর্যটকদের প্রতি আমাদের সংবেদনশীল হতে হবে। সবার আগে পর্যটকের নিরাপত্তা, তারপর ব্যবসা—বাণিজ্য। পর্যটক না এলে ব্যবসা জমবে না। কারণ, এটি পর্যটন এলাকা। ধর্ষণের ঘটনায় যাঁরা জড়িত, যাঁদের নামে মামলা হয়েছে, সবাই সন্ত্রাসী। তাঁরা যদি বাইরে থাকেন, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবেই। পর্যটন এলাকায় কিছু ঘটলে সারা দেশে হইচই পড়ে যায়। ব্যবসা—বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই পর্যটন এলাকার জন্য আলাদা বিশেষ আইন থাকা দরকার। যেখানে জামিনযোগ্য অপরাধ হলেও সন্ত্রাসীদের জেলে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরিবার—পরিজন নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে এসে কেউ যেন বিরূপ পরিস্থিতির শিকার না হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও সীমাবদ্ধতা আছে। লাখ লাখ পর্যটকের নিরাপত্তায় আছেন মাত্র ২১১ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ। হিমছড়ি, রামু, সোনাদিয়া, সাবরাং, টেকনাফসহ বহু স্থানে পর্যটকের নিরাপত্তায় কেউ নেই। পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও বখাটেদের নজরদারিতে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৬ মামলার আসামি বীরদর্পে ঘোরাফেরার সুযোগ পান বলেই ধর্ষণের সাহস পান। বারবার অপরাধ করার শক্তি পান। আইনের ফাঁকফোকরে এসব সন্ত্রাসী কীভাবে জামিন পান, কারা তাঁদের আশ্রয়—প্রশ্রয়দাতা, খুঁজে বের করা উচিত। হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্রসহ ১৬ মামলার এই আসামি সম্প্রতি কারাগার থেকে বেরিয়েই ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা সবাইকে অবাক করেছে। পর্যটন এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা মানা যায় না। দেশের অন্য স্থানে ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ হয়, কিন্তু কক্সবাজারের মতো এত বেশি হইচই হয় না। এ ক্ষেত্রে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।
সুজন’র উদ্বেগঃ
কক্সবাজারে নারীর পর্যটক ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে বলা হয়, দেশে আরেকটি সামাজিক মহামারীর মত পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণ। বিশেষ করে কক্সবাজারের মত একটি বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রে নারী পর্যটককে গণধর্ষণের ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে। সারাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং দলীয় রাজনীতির যে অপচর্চা চলেছে— তারই জের ধরে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী। আমরা নাগরিক সংগঠন সুজন—এর পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টামূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত বুধবার রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী। স্বামী—সন্তানকে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তিন যুবক। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নোয়াখালি জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় নারী ধর্ষণ ও ভিডিও তৈরি, সিলেটে বেড়াতে গিয়ে গৃহবধূর ধর্ষিত হওয়া— মাত্র কিছুকাল আগের ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলো আমরা বিস্মৃত হইনি। সুজন মনে করে, এখন পর্যন্ত অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। ফলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে। বিবৃতিতে সুজন নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা সরকারের প্রতি কঠোর হস্তে ধর্ষকদের বিচারীক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা এবং তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আইন—শৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সচেতন মানুষদেরকে সদাসতর্ক থেকে এই অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুঁখে দাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।


আরো খবর: