তারিখ: রবিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

কিছুদিন পূর্বে এক বন্ধুর সাথে ফোনে কথোপকথনের এক পর্যায়ে সে বলছিলো বাংলাদেশ কিছুদিনের মধ্যে উন্নত বিশ্বে পদার্পন করবে। আমি উত্তরে কি বলবো খুজে না পেয়ে কেবল মুখ টিপে হাসলাম আর বললাম হ্যা তাইলে তো ভালো আমরা উন্নত বিশ্বের অমানবিক নাগরিক হয়ে যাবো। কথা গুলো খুব মনে পড়ছিলো যখন জাবির হলের মেয়েদের খাটের নিচে ট্রাঙ্কের মধ্য থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে কিন্তু তাকে বাচানো যায়নি। অর্থাৎ শিশুটিকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে। আর এখন যা চলছে তার মোদ্দা কথা হলো শিশুটির মায়ের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার। আচ্ছা তা ও মেনে নিলাম। কারন আপনারা পুরুষ চৌদ্দ কেন??? ষোল গুষ্টি ও উদ্ধার করতে পারেন কারন আপনারা পুরুষ আর আপনাদের লিঙ্গ আছে যা থেকে বীর্‍্য বের হয়না বের হয় নারীর ভ্যাজাইনা থেকে। আচ্ছা তাও মানলাম। কিন্তু আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে অন্য ভাবনা। তাত্ত্বিকদের মতে বর্তমান যুগ অতিউত্তরাধুনিক, লিবারালিজম আর বিশ্বায়নের যুগ। আর বাংলাদেশকে তো পুরোই ডিজিটালাইজেশন করে ফেলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। নারীবাদ,নারী স্বাধীনতা ,নারীর সমতা ,অসাম্প্রদায়িকতা এগুলো নিয়ে নানা লেখালেখি হচ্ছে, না ফোরামে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে কিন্তু মননে,চর্চায় ,ভাবনায় কি আসলেই এতোটা পরিবর্তন এসেছে বা আনতে পেরেছি আমরা?? আমি ত বলবো পারি নাই। পশ্চিমা সংস্কৃতি আর বাঙ্গালী সংস্কৃতি সব মিলিয়ে মিশ্র এক সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুযায়ী অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে এদেশের নারী এবং পুরুষ। কিন্তু উন্নত বিশ্বের নারীরা এবং পুরুষরা এই অবাধ মেলামেশার সময় যে যে পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে তা নিজের সুরক্ষার জন্যই হোক বা সন্তান গ্রহনে অনাগ্রহ থেকেই হউক তারা সেটা করে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই । কিন্তু আমাদের দেশের নারীরা বা পুরুষরা সেটা করছেননা। কারণ তারা ঐ যৌনাকাংক্ষাও মেটাবেন আবার আল্লাহর দোহায় দিয়ে বলবেন একটা জীব হত্যা মহাপাপ। আরে আবাল তাহলে এটা বুঝিস না ব্যভিচার ও মহাপাপ। নারীরা সন্তান না নেয়ার জন্য কন্ট্রাসেপ্টিপ ব্যবহার না করার পেছনের কিছু কারণ আছে বলে আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি

# অনেক পুরুষ বলে যৌনমিলনের সময় কনডমে মজা পাইনা। আর নারী ভালোবাসায় গদ্গদ হয়ে বলে,” ঠিক আছে জান”। কিন্তু আবার ঐ নারী হয়তো নিজে ও জানে জন্মনিরোধক পিল খেলে সে দুইদিন বিছানা থেকে উঠতে পারবেনা। ফলে তার সকালে ক্লাস বা পরীক্ষা মিস হয়ে যাবে। তাই ভাবে ক্লাস বা পরীক্ষা দিয়ে এসেই খাবোনি। কিন্তু আর খাওয়া হয়ে ওঠেনি।
#অনেক নারীর ক্ষেত্রেও এই একই মতামত । একটা গল্প বলিঃ বেশকিছু বছর পূর্বে গাইবান্দা জেলায় একটা গবেষণা কাজে গিয়েছিলাম। দলীয় আলোচনায় এক নারীর উক্তি ছিলো,” আপা,হামার সোয়ামি একবার কনডম আনছিলো। কিছুক্ষণ পর হামি কইছি কি এটা !ফেলে দাও ভালো লাগেনা।“
এখন প্রশ্ন হলো আধুনিকতার এই যুগে আপনার যখন একজন শিশুকে পৃথিবীর আলো দেখাতে এতো ভয়, এতো লজ্জা তাহলে আপনি এতো এতো জন্মনিরোধক পদ্ধতি আছে সেগুলো কেন নিচ্ছেন না? এটার ও কারণ আছে তা হলো শিক্ষিত হউক আর নিরক্ষর হউক অনেক নারীই জানেন না জন্মনিরোধের কতকগুলো পদ্ধতি আছে এবং সেগুলোর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ও তারা অবগত নন। এমনকি এটা ও প্রচলিত ধারনা বিয়ের আগে কেন একজন মেয়ে এসব জানবে? আর তাইএটা উত্তরাধুনিকতার ধ্বজাধারী এই দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে একজন নারীর কিংবা পুরুষের জন্য অন্যের সাথে কিংবা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে সমাধান করা অনেক কঠিন এবং ব্যয়বহুল এবং চেনাজানার প্রয়োজন আছে তো বটেই। কারন ডাক্তারের নার্স থেকে কম্পাউনডার যখন বুঝতে পারবেন এইটা বিবাহবহির্ভূত সন্তান তাহলে তো কথায় নেই পদে পদে টাকা আর হেনস্থা আর তিরস্কার তো আছেই।
তবে আমার প্রশ্ন হলো এটা যদি জাবির মত একজন শিক্ষিত নারী,সাহসী নারী হোন তাহলে কেন তিনি সেটা করতে ব্যর্থ হলেন?? আচ্ছা মেনে নিলাম হয়তো পিল খাইছিলো কিন্তু তারপরো হয়ে গেছে তাহলে কেন তিনি এবরশান করালেন না?? এখানে উত্তর অনেকগুলো হতে পারে (১) হয়তো মেয়েটির এবরশান করাতে ভয় পাইছিলো কিংবা সেরকম কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। মেয়েটি জাবির এবং যে মেয়ে ৯ মাস ১০ দিন একটা সন্তানকে গর্ভে নিয়ে একটু একটু করে বড় করতে পারে। লোকলজ্জার ভয়ে ,সমাজের আড়ালে-আবডালে এক বছর থাকতে পারে তাকে আমি কোনভাবেই ভীতু বলতে পারবোনা,পারিনা আর পারছিনা। আপনি ভাই পুরুষ, যাই বলুন না কেন??? আর এটা ও বলতে পারবো না মেয়েটি এবরশান করাতে ভয় পেয়েছিলো কিংবা তার জন্য কোন সুযোগ-সুবিধা পায়নি এজন্য করাতে পারেনি।
কিন্তু আমি বলবো এই মেয়েটির সন্তানটি একটি দীর্ঘদিনের প্রেমের ফসল। একজন প্রেমিক রূপী পুরুষ তাকে দীর্ঘদিন ভোগ করতে করতে তার গর্ভে এরকম হাজারো বীজ বপন করে দিয়েছে যে বীজ নারী তার ভালোবাসার ফসল হিসেবে রেখে দিতে চেয়েছে। এমন ও হতে পারে মেয়েটি এর পূর্বে অনেকবার এবরশান করিয়েছে। ভাবনাটি একেবারে অমূলক নয়।পুরুষটি কোনভাবেই নারীকে এবরশানে রাজি করাতে পারেননি কিংবা হতে পারে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যা পরবর্তীতে সেই পুরুষ আর রক্ষা করেননি বা করতে পারেননি। আমি শুধু বলবো না বিশ্বাস ও করি একজন শিক্ষিত নারী, জাবির মত বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নিঃসন্দেহে সাহসী তিনি কখনোই তার সন্তানকে পানির ট্রাংকিতে ফেলতে পারেন না। কারণ আমি মা আমি অনুভব করতে পারি মা হওয়ার ৯ মাস ১০ দিনের অনুভূতি আর প্রসবের যন্ত্রনা। যে মা সন্তানকে পৃথিবীর মুখ দেখাতে পারে শতকষ্ট,বাধা মোকাবেলা করে, সে মা কখনোই তার সন্তানকে পানির ট্রাংকিতে ফেলবেন না। অন্তত জাবি পড়ুয়া কোন নারী তো নয়ই। আমি নিশ্চিত ঐ নরপিশাচ পুরুষই যখন দেখছিলো কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না মেয়েটিকে মানানো তখন সন্তানটিকে পানির ট্রাংকিতে ফেলে আসতে বাধ্য করাইছিলো।
বাংলাদেশের মত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ঐ সন্তানের মায়ের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করবে আর ঐ সন্তানের বাবাধারী পুরুষকে আড়ালে আবডালে রেখে তার গুনকীর্তন করবেন এটা খুব স্বাভাবিক। আমার এটা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নাই বরং গা সওয়া হয়ে গেছে। বন্ধুকে আজ বলতে ইচ্ছে করছে শোন বন্ধু,হয়তো উন্নত বিশ্বের নাগরিক হবো,উন্নয়নের জোয়ারে ভাসবে দেশ…… সাথে এমন নবজাতকের লাশ ও ভাসবে দোস্ত। তাই বলি কি মানবিকতা ছাড়া উন্নয়ন সত্যিকার অর্থেই অর্থহীন ।
পরিশেষে আমি বলবো নারী আপনার যদি সেক্স করতে মন চায় তাহলে মিউচিয়াল সম্পর্কের মাধ্যমে সেক্স করুন। যা দুজনেই উপভোগ করুন। এর জন্য জন্মনিরোধক পদ্ধতি অবলম্বন করুন। এর জন্য কোন চাওয়া রাখবেন না মনের কোনে পুষে,কোনভাবেই না।অন্য কোন নিষ্পাপ শিশুকে পৃথিবীতে নিয়ে এসে মেরে ফেলার অধিকার কারো নাই সেটা নারী বা পুরুষ যাই হউক না কেন??? তাই বলবো নারী সচেতনতার দরকার আছে,নারীর নিজের প্রতি ভালোবাসার দরকার আছে। তাহলেই সম্ভব এসব ভুলকে উতরানোর। এছাড়াও বলতে চাই নারী তুমি যদি অবাধ যৌনাচারে বিশ্বাসী হও তাহলে সাথে কনডম রাখো।আর যদি মনে করো আমি অমুকের সাথে প্রেম করছি সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাই তার সাথে সেক্স করেছি। তাহলে ভাই আগে বিয়ে করুন তারপর সেক্স করুন। নারীমুক্তির এই লুতুপুতু সংজ্ঞা থেকে বেরিয়ে আসুন।
নিজেদের (নারী-পুরুষের) ভুলের আর যৌনাকাঙ্ক্ষা ও শখ আহ্লাদের জন্য আর কোন নবজাতকের যেনো বলিদান না হয়।
বাংলাদেশ হয়ে উঠুক নবজাতকের নিরাপদ পরিবেশ।

জিনাত নেছা
উন্নয়নকর্মী ও গবেষক।

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!