শিরোনাম :
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যোগদানে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগত সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টাইগারদের সম্ভাব্য একাদশ দেশের প্রতিটি সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ২৩৪২৫ টাকা চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এই প্রথম প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দ পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে শেড নির্মাণ ক্ষতিগ্রস্ত দুইশত ব্যবসায়ীকে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা মহেশখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু সদর-রামুতে পানি সংকটে কৃষকদের হাহাকার, বাঁধ নির্মাণে নানা অনিয়ম দুদকের মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর কারাগারে
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

নাইট কোচে ডাকাতি: গ্রেপ্তারকৃত বাস চালক সহ তিনজনকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: নভেম্বর ২৮, ২০২০ ১১:২১ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: নভেম্বর ২৮, ২০২০ ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফগামী সৌদিয়া পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পুলিশেরও সন্দেহের তীর ওই বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের দিকে। চাঞ্চল্যকর এই বাস ডাকাতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারেও বাদী বাস সংশ্লিষ্ট এই তিনজনের নাম উল্লেখ করে তারাও এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে মর্মে সন্দেহ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন এই তিনজনকে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একইসাথে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য আদালতে সাতদিনের রিমাণ্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরেখোদা সিদ্দিকী।

আদালতে সোপর্দকৃতরা হলেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পদুয়া গ্রামের মো. আমির হামজার ছেলে সৌদিয়া বাসচালক মো.
কামাল (৬০), কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁন্দেরপাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে সুপারভাইজার শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন
(৩৮) ও পদুয়া গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে হেলপার সাহাদুল ইসলাম (১৯)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নুরেখোদা সিদ্দিকী কক্সবাজার ভয়েসকে জানান, চাঞ্চল্যকর এই ডাকাতির ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন, কারা এই ডাকাতি সংঘটিত করেছে এবং মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী বাস যাত্রীদের সন্দেহ অনুযায়ী বাস সংশ্লিষ্টরা এই ডাকাতিতে সম্পৃক্ত রয়েছে কী-না তা বের করা অত্যাবশ্যক।

তাই সন্দেহভাজন তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাতদিনের রিমাণ্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী ধার্যতারিখে রিমাণ্ড আবেদনের ওপর শুনানী হবে। বাদী বিল্লাল হোসেন জনির রুজুকৃত মামলার এজাহারেও বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে সন্দেহ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, তাদের সহায়তায় বাকলিয়া এলাকা থেকে সাতজন অজ্ঞাতনামা ডাকাত একই বাসে (চট্টমেট্টো-ব-১১-১১২৫) উঠে। পথিমধ্যে ডাকাতদলের সদস্যরা
নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু করে। তখন বাস যাত্রীরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে মারধর শুরু হয় এবং যাত্রীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে সশস্ত্র ডাকাতেরা। এমনকি দুই যাত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সরাসরি গুলিও করে
তারা। এছাড়াও ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন কায়দায় মারধরে কমবেশি আহত হন বাসের আরো অন্তত ১৫ যাত্রী। এ সময় সশস্ত্র ডাকাতদল বাসটির ৩৩ জন যাত্রীর কাছ থেকে অন্তত ২০টি মোবাইল, নগদ কয়েক লাখ টাকা ও চার নারী যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার কেড়ে নেয়। এই পরিস্থিতিতে বাসের চালক গাড়ি না থামিয়ে চালাতেই থাকেন। এ সময় বাসের চালক, সুপারভাইজার, হেলপারও যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন এবং ডাকাতদলের পক্ষাবলম্বণ করেন।
পুলিশ বলছে, বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে চার নারীসহ ৩৩ জন যাত্রীভর্তি করে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বাসটিতে বাকলিয়া থেকে যাত্রীবেশে যে সাতজন ডাকাত একই বাসে উঠে তারাও একই কাউন্টার থেকে এক টিকেটে সাতটি সিট বরাদ্দ নেয়। সেই সিট বরাদ্দ কী অজ্ঞাত ডাকাতদলের কেউ নিয়েছেন, না-কী বাস সংশ্লিষ্ট কেউ ডাকাতদের জন্য আগে থেকেই
সিট বরাদ্দ রেখেছেন। সেটি বের করা গেলেই পুরো ডাকাতির আদ্যোপান্ত এবং দুর্ধর্ষ ডাকাতিতে কারা অংশ নিয়েছিল সবকিছুই সহসা বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে চলন্ত অবস্থায় বাসের ভেতর ডাকাতের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত দুইজন এখনো কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তন্মধ্যে পেটে
গুলিবিদ্ধ টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি গ্রামের এজাহার আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ আল মামুনের (২৭) অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক এবং গতকাল রাতে
তার অস্ত্রেপচার হওয়ার কথা। হাতে গুলিবিদ্ধ রাকিব উদ্দিন নামের আরেক যাত্রীও ভর্তি রয়েছে একই হাসপাতালে। এসব তথ্য গতকাল শনিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফ হোসাইন বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই ডাকাতির ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হচ্ছে। যাতে আসল সত্যটি বেরিয়ে আসে এবং কারা কারা এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে তাও বের করার প্রক্রিয়া চলছে।’

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::