সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

নববর্ষ বরণে বর্ণিল সাজে সেজেছে কক্সবাজার

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০১৯ ১০:০০ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১৩, ২০১৯ ১০:০০ অপরাহ্ণ

পুরনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। ইংরেজি নববর্ষের মতো বাংলা এ বর্ষকে বরণ করতে জেলার পর্যটন স্পটগুলোয় রঙ-তুলির আঁচড় লেগেছে। বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজারে আয়োজন করা হচ্ছে মেলাসহ লোকজ নানা সাংস্কৃতিক উৎসবের। রঙিন পরশের মাঝে গ্রামবাংলার নানা আলপনায় সাজানো হচ্ছে হোটেল-মোটেল জোনের তারকা হোটেলগুলো। অনেক হোটেল ঘোষণা করেছে অতিথিদের জন্য সাশ্রয়ী নানা প্যাকেজ। বৈশাখ বরণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

এদিকে বৈশাখ উপলক্ষে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।

পর্যটন খাত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে নববর্ষ মিলিয়ে তিনদিনের ছুটি পড়েছে। এ কারণে অন্যবারের চেয়ে জমবে বাংলা বর্ষবরণ। তাই বাংলা বর্ষবরণে কক্সবাজারে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এ লক্ষ্যে তারকা হোটেলসহ গেস্ট হাউজ ও কটেজ এবং আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

অনেক ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী পরিবার-পরিজন নিয়ে গত বৃহস্পতিবারই কক্সবাজার এসে পৌঁছেছেন। চৈত্রের কাঠফাটা রোদের মাঝেও মেঘ-রোদ্দুর খেলায় সৈকতের ঢেউ ছুঁয়ে আনন্দ উপভোগ করছেন তারা।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া বলেন, বর্ষ হিসেবে এখন পর্যটন মৌসুম শেষ। এ সময়ে চৈত্র-বৈশাখের দাবদাহে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম কমই থাকে। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষ সময় থেকে পুরো বছর কক্সবাজারে কমবেশি পর্যটকের উপস্থিতি রয়েছে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু জানান, ওশান প্যারাডাইস হোটেলই কক্সবাজারে বেসরকারিভাবে সর্বপ্রথম বাংলা নববর্ষ নিয়ে পৃথক অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিল। অর্ধযুগ আগের সেই ধারাবাহিকতায় এবারো আলাদা আয়োজন থাকছে। অন্য বছরের মতো পহেলা বৈশাখের পরিবর্তে চৈত্রসংক্রান্তির দিন থেকে ২ বৈশাখ পর্যন্ত তিনদিন বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

তারকা হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্টের ফুডস অ্যান্ড বেভারেজের (এফঅ্যান্ডবি) ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেন বলেন, গত বছরগুলোর ন্যায় বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে এবারো হোটেল প্রাঙ্গণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সঙ্গে সাশ্রয়ী দামে থাকছে বৈশাখী খাবারের বিশেষ আয়োজন।

এছাড়া পৃথক আয়োজন করছে তারকা হোটেল কক্স-টু-ডে, সি-গাল, লংবিচ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন, মারমেডসহ সব কয়টি বড় হোটেল-মোটেল। তারকা হোটেলগুলো ইনডোরে নিজেদের মতো উৎসব আয়োজন করলেও অন্যান্য হোটেল গেস্ট হাউজগুলো প্রশাসন আয়োজিত র্যালি ও অনুষ্ঠানে যোগ দেবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

টুয়াক সভাপতি কিবরিয়া বলেন, নববর্ষে সাপ্তাহিক মিলিয়ে তিনদিনের ছুটি পড়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শহর ও সাগরপাড়ের প্রায় হোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে কিছু কক্ষ হাতে রেখে শেষে আসা পর্যটকদের সঙ্গে দরদামে একটু ভালো ব্যবসা করার চেষ্টা করবে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, শহরের আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ, কটেজ ও সরকারি রেস্ট হাউজে লক্ষাধিক মানুষের রাতযাপনের সুবিধা রয়েছে। বৈশাখী ছুটিতেও কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় থাকবে বলে আশা করা যায়। সমুদ্রসৈকত ছাড়াও সেন্ট মার্টিন, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, সাফারি পার্ক ও মহেশখালীর আদিনাথে পর্যটকদের পদচারণা পড়বে বলে আশা করছেন এ হোটেল মালিক।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় শিল্প। পর্যটন বিকাশে এবারো বৈশাখের বৈচিত্র্যময় আয়োজন থাকছে কক্সবাজারে। জেলা প্রশাসন বৈশাখ বরণে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করবে। এরপর শহীদ দৌলত ময়দানে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::