শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২২ অপরাহ্ন

তাসফিয়া হত্যাকান্ড : ছেলেকে বাঁচাতে মরিয়া আদনানের বিত্তশালী বাবা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ১৮, ২০১৮ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ১৮, ২০১৮ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নগরীর আলোচিত তাসফিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি আদনান মির্জাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে আছে তার বাবা ইস্কান্দার মির্জা। পুলিশের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তিনি। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আদনানকে নির্দোষ দাবি করছেন। একদিকে তিনি ছেলেকে নির্দোষ দাবি করলেও অন্যদিকে বলছেন আদনান আমার অবাধ্য ছেলে।

ইস্কান্দার মির্জা বলেন, বন্ধুদের সাথে মিশে অবাধ্য হয়ে গেছে আমার ছেলে। ছেলেটি এতো নষ্ট হয়ে যাবে আামি ভাবিনি। বন্ধু সোহেলের সাথে মেলামেশার কারণেই আজকে আমার ছেলেকে কারাগারে যেতে হয়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছে আমার ছেলে।

তাসফিয়া নিখোঁজের দিন আদনানকে বন্দি করে রেখেছিল তাসাফিয়ার বাবা-চাচারা। তাদের থেকে আদনানকে ছড়িয়ে নিয়ে গেছে এক রাজনৈতিক বড় ভাই। এতো ঘটনা হয়ে যাওয়ার পরও আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি টেলিফোন করলে আদনান বলেছিল গাড়ি নষ্ট হয়েছে, ঠিক করা হচ্ছে তাই সময় লাগছে। পরদিন দেখি আদনান পুলিশের হাতে গ্রেফতার। তিনি আফসোস করে বলেন, আমার ছেলে হলেও ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ করছে অন্য কেউ। ভুল পথে পা দিয়েই আজ তাকে বিপদে পড়তে হলো।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলের তেমন বয়স হয়নি। তাই তাকে কিশোর কারাগারে রাখা হয়েছে। আমি পুলিশকে বারবার বলেছি আমার ছোট ছেলেটা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত নয়। জড়িত থাকলে সে তাসফিয়ার মৃত্যুর কথা শুনে ঘর থেকে দৌড়ে তাসফিয়াদের বাসায় যেত না।

খবর নিয়ে জানা গেছে, আদনানের বাবা একজন সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি সৌদি আরবের মক্কায় পারিবারিক দোকান আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি’র দেখাশোনা করতেন। ২০১৬ সালে তিনি বিদেশ থেকে একেবারেই বাড়ি চলে আসেন। নগরীর পশ্চিম খুলশী জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির নিজস্ব ভবন রয়েল পার্ক এ পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি।

এদিকে তাসফিয়ার বাবার দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাই তিনি পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আটক রয়েছে আদনান মির্জা। ২ মে বুধবার নগরীর পতেঙ্গা সৈকত থেকে তাসফিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন আটক করা হয় আদনানকে।

তবে আদনানের বাবা নিজ ছেলেকে বাঁচানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ করলেও এদিক থেকে অনেকটাই কোণঠাসা তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ ওঠায় খুব একটা সহযোগিতা পাচ্ছে না পুলিশের পক্ষ থেকে। এমনকি মামলার তারিখে আদালতে যেতেও সংশয়ে ভুগছেন তিনি।

এ ব্যাপারে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন সিভয়েসকে জানান, মেয়েকে হারিয়ে মনে হচ্ছে উল্টো আমরাই অপরাধী। পুলিশকে চারবার ফোন দিলে রিসিভ করে একবার। রিসিভ করলেও তেমন কোন সদুত্তর পাই না।

এই মামলার ক্ষেত্রে বিগত দিনে ইয়াবা ব্যাবসায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কোন প্রভাব ফেলছে কিনা প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আমিন বলেন, আমি মসজিদে যাচ্ছি , পরে কথা বলবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাসফিয়ার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরীর পতেঙ্গা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, আদনানের বাবা বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু তাসফিয়া হত্যায় আদনানের জড়িত থাকার সন্দেহ থেকেই তাকে রিমান্ডে আনার আবেদন করেছি। তাসফিয়া মৃত্যু রহস্য জানতে ইতোমধ্যেই আদনানকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এতে কোন ধরনের উত্তর খুঁজে না পাওয়ায় আবার রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে আনা হলে জানা যাবে আসল রহস্য।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::