বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

‘তাসফিয়াকে হত্যার আগে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে’

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ৪, ২০১৮ ২:২০ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ৪, ২০১৮ ২:২০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাসফিয়াকে হত্যার আগে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। তার সারা শরীরে মারধরের চিহ্ন, উপড়ে ফেলা হয়েছে চোখ। নাক, ঠোঁট ও মুখমণ্ডল ছিল থেঁতলানো ও রক্তাক্ত। হত্যার আগে তাকে টানা-হেঁচড়াও করা হয়েছে। দুই পায়ের নখও উপড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে আদনানকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, তাসফিয়া হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে তার বাবা মো. আমিন পতেঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৬ জন নাম না জানা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আদনানকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হল- সোহাইল (১৬), শওকত মিরাজ (১৬), আসিফ মিজান (২৩), ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম (২৪) ও ফিরোজ (৩০)। তাদের মধ্যে ফিরোজ নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী।

তার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েক মাস আগে সে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে শেভরন নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাকাতি মামলা রয়েছে।

পতেঙ্গা থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার রাতে জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির একটি ভবন থেকে আদনানকে গ্রেফতার করা হয়। আদনানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে।

আদনান পুলিশকে জানায়, তাসফিয়াকে বাসা থেকে ফোনে ডেকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল। আবার বাসায় ফেরার জন্য তাকে সে অটোরিকশাও ঠিক করে দিয়েছিল। এরপর কি হয়েছে তা সে জানে না।

কিন্তু পুলিশ আদনানের এমন বক্তব্য বিশ্বাস করতে পারছে না। বিশ্বাস করতে পারছে না তাসফিয়ার পরিবারও। পরিবারের অভিযোগ, বন্ধুত্ব ও প্রেমের নামে তাসফিয়ার সঙ্গে প্রতারণা করেছে আদনান। পরিকল্পিতভাবে তাকে সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যার পর লাশ পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

সিএমপির কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার জাহেদুল ইসলাম জানান, আদনানের কাছ থেকে জানা গেছে, তার সঙ্গে তাসফিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

ঘটনার দিন অনেক রাত পর্যন্ত তাসফিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিল আদনান । এছাড়াও সমুদ্র সৈকত এলাকায় তাসফিয়াকে একা পাথরের ওপর বসা দেখেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এসব তথ্য এখন আমরা ‘ক্রস চেক’ করে দেখছি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে বৃহস্পতিবার সকালে তাসফিয়ার লাশের ময়নাতদন্ত হয়। চমেক হাসপাতাল মর্গের সামনে তাসফিয়ার বাবা মো. আমিন বলেন, ‘আমার ফুটফুটে মেয়েকে আদনান পূর্বপরিকল্পনা করে খুন করেছে। আমার মেয়ের কোনো দোষ নেই। আদনানের সঙ্গে নগরীর একাধিক অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে সে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, বুধবার রাতে আদনানের কয়েকজন বন্ধু তাকে থানায় যেতে বাধা দেয়। এ সময় তারা ফিরোজ নামে তাদের এক ‘বড়ভাইয়ের’ কাছে নিয়ে যায়। ফিরোজ তাকে জানায়, আপনার মেয়ে ১ ঘণ্টার মধ্যে আপনার বাসায় চলে যাবে। আপনি বাসায় চলে যান। তখন তিনি থানায় না গিয়ে বাসায় চলে যান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, তারাই আমার মেয়েকে খুন করেছে।

আদনান-তাসফিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ভালোভাবে নেয়নি তাসফিয়ার পরিবার। তাই আদনানকে ডেকে শাসায় তারা। আর এটাকে ভালোভাবে নেয়নি আদনানও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, শাসানোর ‘প্রতিশোধ’ নিতেই তাসফিয়াকে নিজের গ্রুপের সদস্যদের হাতে তুলে দেয় আদনান। নগরীর গোলপাহাড় আশপাশ এলাকার ধনী বাসিন্দাদের সন্তানদের সংগঠন ‘রিচ কিডস গ্রুপ’। এর নেতৃত্বে রয়েছে আদনান।

সূত্রটি আরও জানায়, তাসফিয়াকে যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেয় আদনান সেই অটোরিকশার পেছনেই ছিল দুটি মোটরসাইকেলে চার যুবক। এ চার যুবক আদনানের পরিচালিত ‘রিচ কিডস গ্রুপ’র সদস্য।

পরে নিজেকে আড়াল করতে তাসফিয়াকে তার পরিবারের সঙ্গে আদনানও খুঁজতে বের হয়। আদনান চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ইসকান্দর মির্জার ছেলে। আদনান নগরীর এলিমেন্টারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র। মাস খানেক আগে আদনানের সঙ্গে তাসফিয়ার ফেসবুকে পরিচয় হয়।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে টেকনাফ কলেজের মাঠে হাজার হাজার মানুষ তাসপিয়ার জানাজায় অংশ নেন। পরে পৌরসভার ৫নং ডেইলপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এরই মধ্যে আদনানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিএমপি পতেঙ্গা থানা পুলিশ আদালতে ১০ দিন রিমান্ড প্রার্থনা করে। আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আদনান মির্জাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এই আদেশ দেন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::