শিরোনাম :
জেলে পরিবারে চলছে নিরব দুর্ভিক্ষ কুতুবদিয়া থানার নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করলেন ওমর হায়দার কক্সবাজারে বৃহস্পতিবার ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ায় ৩ পুলিশ পরিদর্শকসহ ১৭ জনের নামে মামলা সৌদিতে কারগাড়ির চাপায় চকরিয়ার যুবক নিহত, বাড়িতে শোকের মাতম চকরিয়ায় যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে টমটম চালক খুন জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝির অবশান, শেষে চকরিয়ায় এমপি জাফর ও লিটুকে গণসংবর্ধনা চকরিয়ায় বনের উপর নির্ভশীল ভিসিএফ সদস্যদের মধ্যে ক্ষুদ্র মূলধনের ২২ লক্ষ টাকা অনুদান বিতরণ টেকনাফে মাদক কারবারীর বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা আটক চকরিয়ায় ২ হাজার ৪শ ইয়াবাসহ পাচারকারী ৩ নারী আটক
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

টেকনাফ বাহারছড়ায় একটি মামলার আসামীর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০১৮ ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১৩, ২০১৮ ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ায় ইউনিয়নের হামজারপাড়া গ্রামে একটি মারামারি মামলার আসামীর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে পাল্টা হত্যা মামলা। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত ৬ এপ্রিল বিকালে গৃহপালিত গরু মরিচ ক্ষেত নষ্টের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ঘটনা নিয়ে হামলা হয়। এব্যাপারে আহতদের পক্ষ থেকে একই এলাকার বয়োবৃদ্ধ নুরুল আমিন বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
জানা গেছে, হামজাপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম আলীর ছেলে হাফেজ আহমদের গৃহে পালিত গরু একই এলাকার মৃত অলি আহম্মদের ছেলে নুরুল আমিনের মরিচ ক্ষেতে ডুকে নষ্ট করে। স্থানীয় শালিসে ২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য্য করে। এক সপ্তাহে পরিশোধের কথা থাকলেও দেয়নি। এনিয়ে কথাকাটা কাটির একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি লোহার রড দিয়ে মেরে নুর নাহার বেগম, রাবেয়া বেগম ও সাদেকুল ইসলাম গুরুতর আহত করা হয়। আহতদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় বয়োবৃদ্ধ নুরুল আমিন বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২২, জিআর-১৭৩। আসামীরা হচ্ছে, মোঃ রেদোয়ান, হাফেজ আহম্মদ, আবদুর রহমান ও ময়না খাতুনসহ অজ্ঞাতনামা ৪ জন।
এই মামলার ২ নং আসামীর স্ত্রী ও ৪নং আসামী ময়না খাতুন একই ঘটনায় আহত হয়েছে বলে পরদিন ৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০ টায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল রেজিষ্ট্রার সুত্রে জানা গেছে, ময়না খাতুনকে গত ৭ এপ্রিল রাত ১০টা ৩৫ মিনিটের সময় জেলা সদর হাসপাতালের মহিলা ও শিশু সার্জারী বিভাগে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হওয়ায় তাকে ১০ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তবে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে, থানায় দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হলেও সে সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুই জানেন না। এমনকি হাসপাতালে মারা গেছে বললেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট দেননি, কারণ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়নি এবং থানা পুলিশকে মরদেহ হস্তান্তর করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি।
ময়না খাতুন ১০ এপ্রিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে উল্লেখ করে টেকনাফ থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-৩০, জিআর-১৮১। মামলার আর্জিতে একই দিন (৬ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টা , একই এলাকায় হামলার ঘটনায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আসামী করা হয় ছৈয়দুল ইসলাম প্রকাশ ছাইদুল, নুরুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম ফারুক , সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমির হোছেন মাস্টার, সেতারা ইয়াছমিন প্রকাশ সেতারা বেগম, মমতাজ মিয়া ও এর আগের মামলার বাদি বয়োবৃদ্ধ নুরুল আমিনকে।
টেকনাফ থানা পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ছায়দুল ইসলাম প্রকাশ ছাইদুল, ফারুকুল ইসলাম ফারুক ও সেতারা ইয়াছমিন প্রকাশ সেতারা বেগমকে আটক করে। ১২ এপ্রিল গ্রেফতার দেখিয়ে ও এসআই মহির উদ্দিন খান আদালতে সোপর্দ করে।
এদিকে, হত্যা ঘটনা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা রহস্য ও ধুম্রজাল। আসলে এটা হত্যা নাকি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা। স্বভাবত হত্যা রহস্য নিয়ে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে জনমনে সহ খোদ আসামীপক্ষ ও এলাকাবাসির মাঝে।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহীন মোঃ আবদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ময়না খাতুন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাননি। তাকে ১০ এপ্রিল হাসপাতাল হতে রিলিজ করা হয়েছে।
অপরদিকে স্থানীয় সুত্র জানায়, উখিয়া পালংখালির ময়না খাতুর ফুফু মেহের খাতুনের বাড়িতে রহস্য জনকভাবে মারা গেলেও থানায় দায়েরকৃত মামলায় জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা গেছে বলে কেনো লেখা হলো। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে কেনো মৃত দেহ টেকনাফ থানায় নিয়ে যায় ১০ এপ্রিল রাতে।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে, কেনো মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে রাতে টেকনাফ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কেনো।
পালংখালীর পাড়াপড়শীরা জানায়, ময়না খাতুনকে সুস্থ দেখেছে। রহস্যজনক ভাবে কেনো মারা গেলো। হাসপাতাল থেকে ডেথরেফারেন্স সাটিফিকেট নেই নিই। ১২ এপ্রিল দুপুর তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয় এবং বিকালে স্থানীয় গোরস্থানে দাফনও করা হয়।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::

সর্বশেষ