তারিখ: মঙ্গলবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া::
পেকুয়ায় সেই বাবুল মাষ্টারকে নিয়ে এতো অবহেলা কেন? রাষ্ট্র, সমাজ ও বিবেকের প্রতি এ প্রশ্ন থেকে যায়। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে একটি সম্ভাবনা আজ নিভূ নিভূ অব¯’ায় জীবন প্রদীপ। মানুষ বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। তিনি রাজনীতি করেছেন। সমাজনীতি ও অধ্যবসায় তার মধ্যে অত্যন্ত প্রবল। এক সময় প্রচন্ড নাম ছিল তার। ছাত্র রাজনীতিতে নিজকে মেলে ধরেছিলেন। পাশাপাশি মুরব্বী সংগঠনেও তার অবদান ও ত্যাগ প্রশংসনীয়। সংগ্রাম ও উত্তাল আন্দোলনে এ মানুষটি সব সময় অগ্রভাগে থাকতেন। মিছিলে শ্লোগান ধরতেন। স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক ৯০ দশকের এ শ্লোগানে বাবুল মাষ্টার অকুতোভয় সংগ্রামের নাম। ৮৮ সালের দিকে স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম জোরালো হয়। সেই সময় বাবুল মাষ্টার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দায়িত্বে ছিলেন। ৮৭ সালের দিকে দৌলত খান শহীদ হয়েছিলেন। তার বাড়িতে আ’লীগের প্রয়াত নেতা আবদু রাজ্জাক এসেছিলেন। সে সময় কোনাখালী বাংলাবাজারে এক শোক সমাবেশ হয়েছিল। এ সমাবেশকে সফল ও সার্থক করতে পেকুয়ায় মাইকিং হয়েছিল। রিক্সায় চড়ে প্রচারনা চালায় এ বাবুল মাষ্টার। এলাকায় তাকে বাবুল মাষ্টার হিসেবে চিনে। তার নাম ওমর ফারুক বাবুল। পিতার নাম মরহুম নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু মিয়া। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। অর্থ ও টাকা পয়সা নেই বলে ১ জন মহৎ ব্যক্তির জীবন প্রদীপ অভাবের তাড়নায় নিভে যাবে এ কেমন করে হয়। বাবুল মাষ্টার গরীব। নেই তার অর্থ, বিত্ত ও সহায় সম্পত্তি। তবুও বেঁচে থাকার এ অধিকার তার আছে। প্রেরনা ও সহায়তা পেলে তিনিও চিকিৎসা পেতে পারে। অর্থাভাবে পেকুয়ায় একটি নাম ঝরে পড়ছে সুন্দর এ পৃথিবী থেকে। পৃথিবীর আলো, বাতাস ও মায়ামমতা ত্যাগ করে একটি নাম কি চিরতর মুছে যাবে। তা কেমন করে হয়? আমরা কি পারি না তাকে বাঁচাতে চিকিৎসায় ব্যয়িত অর্থের যোগান দিতে। অবশ্যই পারা যাবে। তবে সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার অভাবে আজ একটি মেধার পতন ঘটছে এ পৃথিবী থেকে। মানুষ প্রশ্ন ছুটছে বাবুল মাস্টার মৃত্যু শয্যায়। তার পাশে দাড়ানোর কি নেই কেউ। তার সহপাঠী ও প্রচুর সহমর্মী লোকজন ছিল। সহপাঠীর অভাব ছিল না কখনো। প্রায় সময় বন্ধু বান্ধব ও নিকট লোকজন নিয়ে সরব দিন কাটাতেন। এ মানুষটি গত ৩ মাস ধরে মৃত্যু শয্যায়। হঠাৎ শরীরে অসুখ বেড়ে যায় তার। বক্ষব্যাধি রোগে তাকে গ্রাস করে। সে সাথে শরীরে অন্যান্য রোগের বাসা বাঁধে। গত ২ মাস আগে পায়ে ক্ষত দেখা দেয়। সে ক্ষত¯’ানটিতে পচঁন ধরে। প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। ছটপট যন্ত্রনায় ভোগছিলেন। ক্ষত¯’ানটি অধিক সম্প্রসারিত হয়। এ সময় তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অব¯’া আরও অবনতি ঘটে। পরিবার তাকে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেন ওই ক্ষত¯’ানটিতে ক্যান্সার হয়েছে। সেটিতে অস্ত্রোপাচার করতে হবে। প্রথমে পায়ে সার্জারি হয়। ক্রমান্বয়ে ক্ষত¯’ানটি আরও তীব্রতর হয়। এ সময় দ্বিতীয়বার অপারেশনের পরামর্শ দেয় চিকিৎসক। গত ১ মাস আগে তার একটি পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত অস্ত্রোপাচার হয়েছে। এরপর থেকে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসায় চট্রগ্রাম শহরে ছিলেন। বর্তমানে বাবুল মাষ্টার বাড়িতে অব¯’ান করছেন। চিকিৎসকরা জানায়, তার শরীরের অব¯’া দিন দিন অবনতির দিকে। তিনি জটিল রোগে ভোগছিলেন। বাবুল মাষ্টারের পরিবার জানায়, বর্তমানে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেমে গেছে। রক্ত স্বল্পতায় ভোগছেন। পাশাপাশি ডায়াবেটিস এর মাত্রা বেড়েছে। যে টুুকু অর্থ ছিল সব তার চিকিৎসা ব্যয়ে বহন হয়েছে। বর্তমানে এ পরিবারে নেই টাকা পয়সা। তার কয়েক ভাই মিলে অর্থের যোগান দিয়েছিলেন। তারা কম বেতনে চাকুরী করে। সবাই সংসারিক। স্ত্রী সন্তান নিয়ে দরিদ্রতায় সংসার চালায়। এ দিকে ওমর ফারুক বাবুলের অব¯’া অবনতির দিকে। দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, মুহুরীপাড়ায় নিজ বাড়িতে পঙ্গুত্ব অব¯’ায় বিছানায় দিনাতিপাত করছেন। এ ব্যক্তি এলাকায় প্রচন্ড সুনামধারী। এলাকার লোকজন এর কাছে তিনি একজন প্রশংসনীয় ব্যক্তি। শিক্ষকতা করে সংসার চালাতেন। তবে তার শিক্ষকতার পরিধি ছিল বেসরকারী পর্যায়ে। টিউশনি ও প্রাইভেট পড়াতেন ছাত্রদের। কোন এমপিওভূক্ত প্রতিষ্টানে চাকুরী মেলেনি তার। কিন্ডার গার্টেন ও এনজিও সং¯’ার পরিচালিত প্রতিষ্টানে শ্ক্ষিকতা করেছেন। বেতন ছিল অপ্রতুল। মগনামা উ”চ বিদ্যালয়ে শত শত ছাত্রকে পড়াতেন প্রাইভেট। একইভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শত শত শিক্ষার্থী এ শিক্ষকের কাছে ছুটে আসতেন পড়তে। অংক, ইংরেজী বিষয়ে পাঠদান করতেন শিক্ষার্থীদের। গত ২০ বছর ধরে বাবুল মাস্টার এলাকায় নিবিড় শিক্ষাদানে ব্যস্ত। তার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এমন ছাত্র বাংলাদেশের সর্বত্রে রয়েছে। তবে কঠিন মুহুর্তে এ মানুষটি আজ চরম বিপর্যস্ত। মানুষ মানুষের জন্য। বিবেক ও মানবতা তার জন্য কি ছুটে আসতে পারে না। ওমর ফারুক বাবুল এক সময় অবিভক্ত মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। যুবলীগও করেছেন। মগনামা ইউনিয়ন আ’লীগের বর্তমান ও সাবেক কমিটিতে তার প্রচন্ড মুল্যায়ন হয়েছে। পর পর দুটি কমিটিতে প্রথমে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমান ইউনিয়ন আ’লীগ কমিটিতে তিনি যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে আসীন। ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির অন্যতম নিবেদিত প্রান। স্বার্থের জন্য রাজনীতি করেন। রাজনীতি পরিচয় দিয়ে সম্পদ ও টাকা আয়ের দিকে তার দৃষ্টি ছিল না। দলের কঠিন সময়ে সব সময় উজ্জীবিত ছিলেন এ প্রতিভা। তবে বর্তমানে তার এ কঠিন অব¯’ায় পেতে পারেন না একটু সহানুভূতি। তার ছোট ভাই বেলাল উদ্দিন জানায়, বড় ভাইকে নিয়ে আমরা চিন্তায় পড়েছি। যে মানুষটি পরের জন্য কাজ করেছেন রাজনীতি করেছেন সমাজ নীতি করেছেন, অন্যায় ও নিপীড়নের প্রতিবাদ করেছেন সে মানুষটি আজ বিপর্যস্ত। একটি তাজ প্রাণ ও প্রাণের স্পন্দন বেঁেচ থাকার স্বপ্ন দেখে। অর্থ ও টাকার অভাবে এ ভাবে দু:সময় হবে আমাদের কল্পনাও ছিল না। তার চিকিৎসার জন্য বিপুল টাকার প্রয়োজন। এ টাকা নেই আমাদের।

আপনার মতামত প্রদান করুন ::