শিরোনাম :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল ব্রীজ এখন পর্যটন ও উন্নয়নের অপার সম্ভবনা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০১৮ ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: জুলাই ৯, ২০১৮ ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

এম.আবুহেনা সাগর,ঈদগাঁও ::

ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুলের দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ হওয়ার ফলে পর্যটন ও উন্নয়নের অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। ফলে ভ্রমণ পিপাসু দর্শনার্থীদের ভিড় যেন চোখে পড়ার মত। এমন কি দিগন্তরেখায় মহেশখালী চ্যানেলের সৌম্য সুনীলস্বচ্চ জলরাশি,অদূরে বাঁকখালী ও বঙ্গোপসাগরের মিলনমুখ,উপকণ্ঠে সমুদ্র শহর,একটু তুফাতে জোয়ার ভাঁটার অরণ্য ও বৈচিত্রময় জলজীবনের আনন্দ বেদনার দৃশ্যকাব্য, বিস্তীর্ণ লবণক্ষেতের রূপালী শস্যসহ সব মিলিয়ে সমস্ত সম্ভাবনা ও সৌন্দর্য্যর হেলেনিক নান্দনিকতায় আবর্তন করছে চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুলের উপকূলঘেরা সাগর নদী চ্যানেলের মোহনা থেকে খোসাডাঙ্গা দিগন্তের অবারিত জলভূমি। প্রাপ্ত তথ্য মতে,কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বহুলাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ব্রীজটি। কালের খেয়াঘাট, মালকাবানু-মনুমিয়ার প্রেমের লোকজপুরাণ ও পদচারণাধন্য পূণ্যতীর্থ ওই জনপদে লুকিয়ে রয়েছিল প্রেম-প্রমোদ-পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। নির্মিত ব্রীজের উভয় পাশের বৈচিত্রময় জীবন ও জীবিকা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অস্থিত্বের লড়াই, জীববৈচিত্র,বিস্তৃত জল প্রান্তের সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে দিয়েছে। নির্মিত এই ব্রীজের দু’পাশে যুক্ত হয়েছে জল নির্ভর পর্যটনের আরেক নতুন মাত্রা। চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল ব্রীজের ফলে সুবিধাবঞ্চিত বৃহত্তর জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকা ও অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও থেকে জেলা শহরের দুরত্ব অনেক কমে গেছে। এছাড়া কমে গেছে উপকূলীয় এলাকা চৌফলদন্ডী, পোকখালী, ইসলামাবাদ, ইসলামপুর ও ভারুয়াখালীসহ অপরাপর এলাকার গণমানুষের দীর্ঘপথ পরিভ্রমণ করে জেলা শহরে যাতায়াত করার ঝক্কি-ঝামেলা এবং লবণ, কাঠ, চিংড়ি, নাপ্পি ও নানা জাতের মাছের পোনাসহ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় অর্জিত হবে যুগান্তকারী সাফল্য। ব্রীজের পার্শ্ববর্তী মহেশখালী চ্যানেল,বাঁকখালী ও বঙ্গোসাগরের মিলনমুখ অবধি এবং পূর্বে খুরুস্কুল থেকে চৌফলদন্ডী হয়ে ইসলামপুর পর্যন্ত উপকূলীয় খোসাভাঙ্গা দিগন্তের বিকশিত হবে পর্যটন শিল্প। পর্যটন শিল্পখাতে বৈদেশিক বিপুল বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ উপকূলীয় জনপদের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং চৌফলদন্ডী ব্রীজটি যেন ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটি খোরাক বলে আজকের ককসবাজারের প্রতিনিধিকে মত প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। ছৌফলদন্ডীর বেশ কজন সচেতন মহলের মতে, ছৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল ব্রীজটি নির্মানের ফলে বৃহত্তর ঈদগাঁও বাসীর ভাগ্যের উন্নয়ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রেসহ মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্বি ও সর্বোপরি সুযোগ সুবিধা সহজলভ্য হয়েছে। অপরদিকে ব্রীজ দেখতে আসা রাজশাহীর আরেক ভদ্রলোক জানান – নাপ্পি, শুটকি,লবনশিল্প আর নান্দনিক ব্রীজকে ঘিরে পর্যটন এলাকা হিসেবে রুপ নিচ্ছে। ভ্রমণে আসা লোহাগাড়ার কয়েকজন যুবকের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, পূথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নোনাজল খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সন্নিকটে সৌন্দর্য্যের আরেকটি মনোমুগ্ধকর স্পট ব্রীজটিও ভ্রমণ পিপাসুদের মাঝে আনন্দ দায়ক খোরাক বটে। এটি দেখে সত্যি মনজুড়িয়ে যায়। ব্রীজের দু’পাশের চিত্র যেন অতুলনীয়। এ বহুল প্রত্যাশিত চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল সংযোগ ব্রীজের এক পাশে গেঁথে আছে স্বপ্নময় পর্যটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা আর অন্যপাশে গ্রামীন জনপদের ও নাগরিক মান উন্নয়ন। যা বদলে দিচ্ছে এতদঅঞ্চলের সমৃদ্ধির মানচিত্রও অর্থ-বাণিজ্যের। গ্রামীন জনপথের একাধিক দর্শনার্থীরা জানান, কম খরছে চৌফলদন্ডী ব্রীজসহ আশপাশের দৃষ্টিনন্দন জায়গায় ঘুরে ঘুরে কিছুটা হলেও ভ্রমন করে তৃপ্তি মেটাচ্ছে বৃহত্তর এলাকার প্রত্যান্ত গ্রামগন্জের লোকজন সহ দুরদুরান্ত থেকে আগত ভ্রমন পিপাসুরা। তবে সচেতন মহল জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি ব্রীজের উপর রাত্রীকালীন সময়ে লাইটিং ব্যবস্থা সহ আরো ব্যাপক পরিসরে উদ্যোগ নেয় তাহলে এই ব্রীজ এলাকাটি হতে পারে মিনি পর্যটনের আরেক ঐতিহ্যময় ষ্পট।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::