তারিখ: সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

শাহেদ মিজান; টানা ভারি বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত লোকজনের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে পাহাড় ধ্বসে টেকনাফে দুই জন নিহত ও মেরিন ড্রাইভ সড়কে ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসে ১৮ জন আহত হয়েছে। এসব ঘটনার পর আতঙ্ক আরো বেড়েছে। তবে টেকনাফে পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত বেশ কিছু পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একইভাবে অন্যান্য এলাকার পাহাড়ে বসবাসকারীদেরও সতর্ক করেছে প্রশাসন।

জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা এই বৃষ্টি ছয়দিন অতিবাহিত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে কক্সবাজার কক্সবাজার শহর, টেকনাফ, মহেশখালী, উখিয়া ও রামুর বেশ কিছু এলাকার পাহাড় বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে ওই সব এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বাস করা বিপুল পরিমাণ লোকজন চরম পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। এরই মধ্যে টেকনাফ ও কক্সবাজার মেরিনড্রাইভ সড়কে এক ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এই দুই ঘটনায় দুই জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য এলাকায়ও পাহাড় ধ্বসে পড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরো ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাস করা লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে। টেকনাফসহ আরো কয়েকটি এলাকা থেকে অনেক লোকজনকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্যদের সরে যেতে বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে মাইকিং করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুল আবছার বলেন, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই ঝুঁকিভাবে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করা লোকজনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে।

এদিকে ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, উপসড়কের মারাত্মক ভঙ্গুর দশা সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচলে বেশ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ও মহেশখালীর গোরকঘাটা-জনতাবাজার সড়কটি সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।

Share: