শিরোনাম :
পেকুয়ায় নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির দায়ে ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মাতামুহুরী নদীর রাবারড্যাম পয়েন্টে মাছধরার নৌকা ডুবি: জেলে নিখোঁজ ঈদগাঁও এখন কক্সবাজারের ৯ম থানা কক্সবাজার শহরের যেসব এলাকায় বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবেনা উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কলেজ ছাত্রের নামাজের জানাজা সম্পন্ন বিজিবির অভিযানে বহু মামলার আসামী আশিক্ব্যা ইয়াবাসহ আটক কুতুবদিয়াকে হতাশায় ডুবিয়ে ফাইনালে সদর উপজেলা মুজিব শতবর্ষে চকরিয়ায় ভূমিহীন ১৮০টি পরিবার খাসজমিতে পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার নতুন ঘর দেশ নাটকের ইশরাত নিশাতকে স্মরণ ‌‘প্যাট্রিয়ট পার্টি’ রাজনৈতিক দল গঠন করছেন ট্রাম্প
বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে আলোচিত তিন হত্যাকাণ্ড: দৌড়ের ওপর পুলিশ

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ৮, ২০১৮ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ৮, ২০১৮ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া তিন তিনটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেসামাল পুলিশ প্রশাসন। বলা যায় অনেকটা দৌড়ের ওপর তারা। প্রতিটি খুনের রহস্য উদঘাটনে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। যদিও এর মধ্যে একটি হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা পুলিশ।

গেল ২৭ এপ্রিল ক্যাবল ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুন হয় যুবলীগ নেতা ফরিদুল ইসলাম (৩৫)। নগরীর ডিসি রোডের কালাম কলোনির মুখে দিনে দুপুরে অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে তারই শিষ্য যুবলীগ সন্ত্রাসী ফয়সাল। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ফরিদ।

ঘটনার দিন রাতেই ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে ফয়সালকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করা হয় এই মামলায়।

তবে ঘটনার ১১দিন পার হয়ে গেলেও এখনো কোন কুলকিনারা পায়নি পুলিশ। এমনকি মামলার প্রধান আসামি যুবলীগ সন্ত্রাসী ফয়সাল প্রকাশ্যে ঘুরলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল হুদা সিভয়েসকে জানান, ঘটনায় দেলোয়ার নামে একজনকে গ্রেফতার করেছি আমরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফরিদ খুনের ঘটনা ঘটতে না ঘটতেই তার পাঁচদিন পর বুধবার (২ মে) নগরীর পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ব্রিজের পাশে পাওয়া যায় তাসফিয়ার মরদেহ। যা গেল কয়েকদিনের টক অফ দ্য কান্ট্রি। তবে স্কুলছাত্রী তাসফিয়ার মৃত্যু রহস্য নিয়ে খোদ পুলিশই রয়েছে রহস্যের বেড়াজালে। এই ঘটনা নিয়ে তাদের ভূমিকা অনেকটাই রহস্যজনক।

গেল ৬ মে রোববার পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার রহস্য উন্মোচনের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কথা রাখতে পারেনি তারা। কারণ ওইদিনই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি আদনানকে পুলিশের রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা নামঞ্জুর করে টঙ্গীর কিশোর সংশোধনাগারে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় আদালত। আর জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিবেদন ১০ দিনের মধ্যে লিখিত আকারে আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে তাসফিয়ার ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট অধিকতর তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। তাই অনেকটা স্পষ্ট খুব সহসাই জট খুলছেনা তাসফিয়ার মৃত্যু রহস্যের।

তবে ফরিদ কিংবা তাসফিয়ার ঘটনায় বেসামাল হলেও গেল ৪ মে রাঙ্গুনিয়ায় আরেক যুবলীগ নেতা হাশেম হত্যার রহস্য পুলিশ উন্মোচন করেছে খুব দ্রুত।

রোববার (৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা এ হত্যা রহস্য তুলে ধরেন।

নুরে আলম মিনা জানান, আবুল হাশেম ওরফে বাচা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি তিন বছর আগে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছাখালী জাকিরাবাদ এলাকার আইয়ুব আলীর স্ত্রী জিফু বেগমের (৪০) সাথে আবুল হাশেম বাচার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের বেশ কিছু আপত্তিকর ছবি বাচার মোবাইলে ধারণ করা ছিল। এছাড়া জিফু বেগমকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ পাইয়ে দিয়েছিলেন বাচা। জিফু বেগমকে বিয়ের চাপ ও মোবাইল ফোনের আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিলেন বাচা। এতে দুজনের মাঝে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। জিফু বেগম পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, ম্যাংগো জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রথমে বাচাকে নিস্তেজ করেন। পরে শরীরে কাপড় জড়িয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত ঘটে না। জিফু বেগম পুলিশের কাছে সব স্বীকার করেছে। মোবাইল ট্র্যাকিং করে শনিবার (৫ মে) রাত আটটার দিকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় জিফু বেগমকে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পোমরা খাঁ মসজিদের পুকুর থেকে বাচার ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে জিফু বেগমকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::