শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় যৌতুকের জন্য প্রেম করে বিয়ে করা স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা, মাদকাসক্ত স্বামী আটক

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০১৯ ৮:১০ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১৮, ২০১৯ ৮:১০ অপরাহ্ণ

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া ::

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে না দেয়ায় স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাদকাসক্ত স্বামী মিজানুর রহমানকে (২৬) স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আটক করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার মগবাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটেছে এ ঘটনা। নিহত ফাতেমা বেগম রুম্পা (২০) মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার বাহাদুর আলমের মেয়ে। আটক মিজানুর রহমান চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সোয়াজানিয়া এলাকার মৃত ছাবের আহমদের ছেলে।

নিহতের ছোট বোন আশরফা বিলকিস বলেন, চকরিয়া মহিলা কলেজে লেখাপড়া করতে এসে একবছর পূর্বে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সোয়াজানিয়া এলাকার মৃত ছাবের আহমদের ছেলে মিজানুর রহমানের সাথে আমার বড় বোন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরে তাঁরা পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়েও করেন। এখনো তাদের সংসারে কোন সন্তান হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় ভালো থাকলেও কয়েকমাস পর স্বামী মিজান মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে। এরই জেরে সে প্রায় সময় মাদকের টাকা জোগাড় করতে যৌতুকের বাহানা তুলে আমাদের পরিবার থেকে টাকা দাবি করে আসছে। প্রতিদিনের মতো টাকা চেয়ে না পেয়ে সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আমার বড় বোন ফাতেমাকে মারধর করে স্বামী মিজান। একপর্যায়ে ভাড়া বাসার ভেতরে অভিযুক্ত মিজান গলা টিপে হত্যা করে আমার বোন ফাতেমা বেগম রুম্পাকে।
গতকাল বিকালে চকরিয়া থানায় নিহতের মাতা মোবারেকা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে ফাতেমা বেগম রুম্পাকে বিয়ের পর থেকে স্বামী মিজান ও শ্বাশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের টাকার নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এমনকি যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তাদেরকে বাড়িতেও জায়গা দেয়নি। সেই কারনে তাঁরা চকরিয়া সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
তিনি দাবি করেন, প্রেমের সম্পর্কে প্রেমের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকার জন্য অভিযুক্ত স্বামী মারধর করতো আমার মেয়েকে। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। এতসব নির্যাতনের পরও সংসারের পাশাপাশি ফাতেমা চকরিয়া মহিলা কলেজে লেখাপড়া চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু যৌতুকের জন্য আজ তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই। জড়িতদের কঠিন চাই।
চকরিয়া থানার এসআই চম্পক বড়ুয়া বলেন, থানার ওসির নির্দেশে ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতাল এলাকা থেকে জনতার সহায়তায় অভিযুক্ত স্বামী মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর মিজান প্রাথমিক তদন্তে স্বীকার করেছে কথা কাটাকাটির সময় রাগের বসে স্ত্রীকে সে গলাটিপে ধরে। ওইসময় অচেতন হয়ে পড়লে নিজেই স্ত্রীকে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুম্পাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।
চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তামিমুল হাসান বলেন, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন যুবক ফাতেমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা শাররীক পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখি ফাতেমা হাসপাতালের আনার আগেই মারা গেছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। লাশটি উদ্ধারের পর প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোট তৈরী শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। #

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::