সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

চকরিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির পরও নারী দিয়ে জবরদখল চেষ্টা

মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া::

প্রকাশ: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ ১২:৩১ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: জানুয়ারি ২৬, ২০২১ ১২:৩১ অপরাহ্ণ

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় দু’পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির পরও নারী দিয়ে জবরদখল চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে কয়েকজন নারীকে জখম দেখিয়ে মামলা মোকদ্দমার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

সোমবার (২৫ জানুয়ারী) ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রংমহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ফ্রেশ ক্লাব নামের সামাজিক সংগঠনের অফিসঘর ও জায়গা জবরদখল চেষ্টায় মিথ্যা ঘটনা সাজাতে ঘরের নারী ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, বিরোধীয় আরএসএস খতিয়ান নং- ১, দাগ ৪০২/৪১১ ও বিএস খতিয়ান নং- ২, দাগ নং- ২৭০৪, ১৭০৮ এ-র জায়গাটি ১ জুলাই ২০১১ ইং তারিখে পাকা দলিল মূলে রংমহল ফ্রেশ ক্লাবের নামে ক্রয় করা হয়। গত ১ জুলাই ২০১১ ইং তারিখে একই এলাকার নুরুল কবির নুরুর পুত্র কামাল উদ্দিনকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ৩ বছর চুক্তির ভিত্তিতে বন্ধক দেয়া হয়েছে।

পরে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ক্লাবের জায়গাটি দখল ছাড়তে নারাজ পোষণ করে বন্ধক গ্রহীতা কামাল উদ্দিনের স্বজনরা। লোভের বশিভূত হয়ে ক্লাবের জায়গা ও পাকাঘর চিরস্থায়ী ভোগদখল চেষ্টায় বিভিন্ন পায়তারা শুরু করে।

এরই লক্ষ্যে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২০ ইং তারিখে একই এলাকার নুরুল কবির নুরু, তার স্ত্রী রেজিয়া বেগম, পুত্র বালু ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম সোনা মিয়া, সোনা মিয়ার স্ত্রী জেসমিন আক্তার, তাদের অপর পুত্র আব্দুল হামিদ ও জামাল হোছন পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালায়। তাদের বাধা দিতে গিয়ে ক্লাবের সদস্যরা আহত হয়। এসব বিষয়ের সঠিক তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে ক্লাবের পক্ষ থেকে চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

এটি উভয় পক্ষের সম্মতি নিয়ে উপপরিদর্শক কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি জামাল হোসাইনের কার্যালয়ে বৈঠক বসে।

বৈঠকে সবকিছু যাচাই-বাচাই করে ফ্রেশ ক্লাবকে নগদ নব্বই হাজার এক সপ্তাহ পর এক লাখ সর্বমোট ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এদিন ৯০ হাজার টাকা বুঝে নেয় বন্ধক গ্রহীতা কামাল উদ্দিনের স্বজনরা। এক সপ্তাহ পর অবশিষ্ট ১ লাখ টাকা প্রদান করতে চাইলে, তা না নিয়ে উল্টো নারী দিয়ে ক্লাবঘর জবর দখলের চেষ্টা চালায়। গত ২৫ জানুয়ারী তারিখের এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নুরু’র স্ত্রী রেজিয়া বেগম ক্লাব ঘরে বসে অহেতুক চিল্লাফাল্লা করছে। তারই পাশে ক্লাবের ব্যানার ছিড়ে তার উপর বসে আছে সোনা মিয়ার স্ত্রী জেসমিন আক্তার।

এভাবে কিছুক্ষণ পর এসব মহিলা রংমহল থেকে চকরিয়া পৌর শহরের দিকে চলে যায়। মিথ্যা মামলা সাজাতে এসব মহিলা জন চলাচল সড়কের দ্বারে ক্লাবঘরে এসেছে এবং মারধর ঘটনা সাজাতে নিজেরাই চিল্লাফাল্লা করে অভিনয় করেছে বলে জানায় ক্লাবের সদস্যরা।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়ায় আরো জানায়, বৈঠকে আপোষ-মিমাংসার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আবার নারী দিয়ে জবরদখল চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অভিযুক্ত রংমহলের বালু উত্তোলনকারী আব্দুল হাকিম সোনা মিয়া বলেন, বৈঠকের পর ক্লাবের সদস্যরা হামলা চালিয়েছিল। তাই আমরা এ সিদ্ধান্ত মানব না।

এ ব্যাপারে বৈঠকে উপস্থিত থাকা ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি জামাল হোছাইন ও এসআই কামরুজ্জামান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে উভয়ের সম্মতি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সত্যতা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::