তারিখ: রবিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

এম.জিয়াবুল হক :

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাহাড় দখলে নিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে স্কেভেটর দিয়ে মাটি লুটের অসম প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পাহাড় কাটার ঘটনা জানতে পেরে ইতোমধ্যে স্থানীয় বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রভাবশালী চক্রকে বাঁধা দিলেও পাহাড় কাটা বন্ধ করতে পারেনি। এ অবস্থায় বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নির্দেশে সোমবার বিকালে ঘটনাস্থল চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ করে দিয়েছে বনবিভাগ। তবে ওইসময় অভিযান টের পেয়ে অভিযুক্ত পাহাড় খেকোরা পালিয়ে যায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) পদুয়া রেঞ্জ ফাহিম মাসুদ। তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনভূমির পাহাড় কাটা আইনত অপরাধ। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ে পাহাড় কাটা শুরু করে। শুরুতে স্থানীয় বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রভাবশালী চক্রকে বাঁধা দিলেও তাঁরা বনবিভাগের লোকজনকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে পাহাড় কাটা অব্যাহত রাখতে রাখে।

তিনি বলেন, এ অবস্থার প্রেক্ষিতে সর্বশেষ গতকাল বিকালে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু পাহাড় কাটায় জড়িতরা অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তবে পাহাড় কেটে মাটি পাচারের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, হারবাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমির একটি পাহাড় কেটে মাটি পাচার করা হচ্ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের নেতৃত্বে ইসমাইল মেম্বার, ইলিয়াস, রিপন সওদাগর, রাশেদ, মাসুদ, ওসমান, জিয়াবুল, আব্দুল­াহ ও বদন নামের ব্যক্তি কাউকে তোয়াক্কা না করে দিবালোকে পাহাড় কাটা শুরু করে।

এলাকার লোকজন অভিযোগ তুলেছেন, চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ঘটনাস্থল চেয়ারম্যানপাড়ার অন্তত তিনশতাধিক পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটা সহসা বন্ধ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে সেখানে বড়ধরণের পাহাড় ধসে প্রানহাণির ঘটনা ঘটতে পারে।

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!