তারিখ: বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া ::
চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহদ্দার কাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষক জিনাত সোলতানাকে অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে অধ্যায়নত শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ক্লাস বর্জন করে শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এসময় শিক্ষার্থী অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ অবস্থার ফলে গতকাল থেকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনরত বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিনাত সোলতানা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। ক্লাসে পাঠদানও দেয় না। এমনকি তিনি সহকারি শিক্ষকদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলেছেন, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ফাঁকি দেয়ার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক জিনাত সুলতানা নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব কারণে সহকারি শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে তাঁর দুরত্ব তৈরী হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। সেইজন্য আমরা চাই দ্রুত তাকে অপসারণ করে বিদ্যালয়ে একজন নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হোক। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাস্টার নুর মোহাম্মদ ও রফিক উদ্দিন বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ভাবে রেজুলেশন আকারে ২০১৮ সালের ১অক্টোবর প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে জিনাত সোলতানাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শিক্ষকদের প্রতি তার আচার-আচরণ ভিন্ন হয়ে যায়। যেটা আমরা কখনও কাম্য করিনি। এরই ফলে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যথেষ্ট ব্যহত হচ্ছে। যার ফলে আজকে শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন করার সুযোগ পেয়েছে। বিদ্যালয়ে তালা লাগানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য আমরাও লজ্জিত।
জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিনাত সোলতানা বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ও শিক্ষকরা অনৈতিক সুবিধা আদায়ে কোমলমতি শিশুদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছেন। আন্দোলনের উস্কানি দিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ ভুলন্ডিত করছেন। তিনি বলেন, গতকালের অনভিপ্রেত ঘটনাটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলমকে জানানো হয়েছে।
বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যালয়ে তালা লাগানোর ঘটনাটি শোনা মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের থামানোর চেষ্টা করি। পরে এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ ব্যাপারে আশ^াস দিলে তারা তালা খুলে দেন। বিদ্যালয়ে সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল জানান, উপজেলার বহদ্দারকাটা উচ্চ বিদ্যালয়টি বিএমচর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি পদে আছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম। তার সুদক্ষ পরিচালনায় বিদ্যালয়টি বর্তমানে লেখাপড়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত খাতে উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে এ ধরণের ঘটনা সবাইকে হতাশ করেছেন।
এলাকাবাসির দাবি, স্থানীয় কতিপয় মহল ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্ররোচনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অতিউৎসাহি হয়ে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ইস্যু তুলে এ কাজটি করেছে। শিক্ষার্থীদের কাজ হলো লেখাপড়া করা, আন্দোলন করা নয়। আমরা চাই বিদ্যালয়ে আগের মতো লেখাপড়ার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হোক।##

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::