শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

ঘুমধুমে পাহাড় ধ্বসে হতাহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ২৩, ২০১৮ ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ২৩, ২০১৮ ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ

আব্দুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধম ইউনিয়নের মঞ্জয়পাড়ায় পাহাড় কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় তিন শ্রমিক নিহতের ঘটনায়- প্রজেক্ট মালিক রাজেন্দ্র বড়–য়ার ছেলে সুপায়েন বড়–য়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ প্রধান ছৈয়দ আলম বাদি হয়ে মঙ্গলবার নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় দন্ডবিধি ৩০৪(ক)/১১৪ তথসহ ভূমি ইমারত আইনের ১২(১১) ধারায় মামলাটি রুজু করেন। মামলার বাকি তিনজন আসামি হলেন- সুপায়েন বড়–য়ার ভাই রিটন বড়–য়া, ভুট্টো বড়–য়া ও প্রতিয়া বড়–য়া। তবে এ পর্যন্ত তাঁদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
হতাহতের ঘটনা তদন্তে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মফিদুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসিন আরফাত, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল, বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের এডি ইকবাল হোসেন ও স্থানীয় ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গির আজিজ। তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলে যান।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি শেখ আলমগীর বলেন, মাটিচাপায় তিন শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, আমরা ঘটনাটি অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবো।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও হতাহতের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান :
বুধবার সকাল ১০ টায় পাহাড় ধ্বসে হতাহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। এসময় তিনি নিহত এবং আহত পরিবারের সদস্যদেরকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং মন্ত্রণালয় থেকেও প্রত্যেককে আরো ২৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদানে আশ^স্থ করেন। এছাড়া বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত পরিবারের মাঝে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে বেলা ১১টায় মনজয়পাড়া গ্রামে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক আলমগীর হোসেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষীপদ দাশ, আ লিক পরিষদ সদস্য কাজল কান্তি দাশ, জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর শেখ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা খাইরুল বশর, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যাপক শফিউল্লাহ, সাধারন সম্পাদক মোঃ ইমরান মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতা আবু তাহের কোম্পানী, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঘুমধুম ইউনিয়নের মনজয়পাড়া এলাকায় পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে পাঁচ শ্রমিক নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা নুর মোহাম্মদ (২৫) নামে একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজারে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন। ঘটনার সাত ঘন্টা পর সন্ধ্যায় নুরুল হাকিমকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন পুলিশ, বিজিবি ও দমকলবাহিনীর সদস্যরা। দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতা শেষে রাত সাড়ে আটটায় বাকি তিন শ্রমিক- মো. আবু (৩০), সোনা মেহের (৩৫) ও জসীম উদ্দিনের (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সুপায়েন বড়–য়ার পরিবার অবৈধভাবে দখল করে পাহাড়টি কাটছিল। ওই সময় ঘটনাস্থলে ৩ শ্রমিক নিহত হন এবং ২ শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::