তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

রায়হান সিকদার, লোহাগাড়া::

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন বলেছেন, কার্যকর ও সক্রিয় গ্রাম আদালত গ্রামীন ছোট খাট বিরোধ-বিবাদ নিস্পত্তির মাধ্যমে সমাজে স্থায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং উচ্চ আদালতের মামলার জট কমাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, গ্রাম আদালত আইন অনুযয়ী বর্তমানে দেশের সকল ইউনিয়নে এই আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালত চলমান রয়েছে কিন্তু অবকাঠামোগত দূর্বলতা, দক্ষতার ঘাটতি, প্রয়োজনীয় তদারকী ও সচেতনতামূলক কর্যক্রমের অভাব সকল ইউনিয়নে এ আদালতের কাজ সন্তোষজনক ভাবে চলছেনা।

বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ উপন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আর্থিক ও কারিগরী সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগ বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (2য় পর্যায়) প্রকল্প দেশের ১০৮০ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করেছে।

চট্টগ্রাম জেলার পাঁচটি উপজেলার (সীতাকুন্ড, সন্দীপ, ফটিকছড়ী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া) ৪৬টি ইউনিয়ন এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও গ্রাম আদালত সহকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আয়োজিত ২ দিন ব্যাপি গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইয়াছমিন পারভীন তিবরীতি, উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপ-পরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম, ইউএনডিপি’র ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর, উজ্জল কুমদার দাস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে এজলাস স্থাপন করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ফার্ণিচার, উপকরণ ও সহায়ক সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। প্রকল্পভুক্ত ইউনিয়নে আদালত সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ/কর্মশালা পরিচালনা করা হয়েছে।

উদ্ধুদ্ধকরণ কার্যক্রম চলমান আছে। সপ্তাহে এক/দুই দিন গ্রাম আদালতের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এখন গ্রামীণ জনগণের জন্য এ সেবা সম্প্রসারণ ও সহজলভ্য করা জরুরী।

এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও গ্রাম আদালত সহকারীগণ নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা, মামলার নথিপত্র প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিকরণ, গ্রাম আদালতকে নারী বান্ধবকরণ ও নিয়মিত প্রতিবেদন প্রেরণে ভূমিকা রাখবেন। তিনি আইন ও বিধি মোতাবেক গ্রাম আদালত পরিচালনা হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে যাচাই করার জন্য উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রামকে নির্দেশ দেন।

উপ-পরিচারক,স্থানীয় সরকার ইয়াছমিন পারভীন তিবরীতি বলেন, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক জেলা পর্যায়ে প্রকল্পভুক্ত ৪৬ টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও গ্রাম আদালত সহকারীদের দুইদিন ব্যাপি আবাসিক রিফ্রশার্ষ প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করা হয়েছে।

পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের জন্য দুইদিন ব্যাপি রিফ্রের্সাশ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। প্রশিক্ষন কোর্সে রিসোর্স পারসন হিসাবে সেশণ পরিচারনা করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ, ফারহানা ইয়াছমিন, উপ-পরিচারক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মোঃ সালেহ আহম্মেদ চৌধুরী, উপ-পরিচালক সমাজ সেবা অধিদপ্তর মোঃ সহিদুল ইসলাম, ইউ.এন.ডিপি’র ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর উজ্জল কুমার দাস চৌধুরী, সহযোগী সংস্থা ব্লাস্ট- এর জেলা সমন্বয়কারী মোঃ সাজেদুল আনোয়ার ভূঞা এবং উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ জানে আলম। উক্ত প্রশিক্ষণে ১ম ধাপে সাতকানিয়া উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের সচিব এবং গ্রাম আদালত সহকারী অংশগ্রহণ করেন।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::