তারিখ: মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০১৯ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

এক কিশোরীকে (১৩) অপহরণের ৩৭ দিন পর চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় অপহরণকারী চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ বিল্লাল হোসেন এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ফেনী জেলা সদরের নোয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা এয়াকুব আলী মিন্টু ওরফে মিলন (৩১) ও তার স্ত্রী জেসমিন (২৪)। এ ছাড়া চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার ভাড়াটিয়া বগুড়ার আদমদীঘি থানার চাটমোহর গ্রামের বাসিন্দা আফরোজা আক্তার আশা ওরফে সুমি (৩২) ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার মুনসুরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল মোমিন (৩০)।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, অপহরণের কিছুদিন আগে মিলন চট্টগ্রাম থেকে লাকসামে গিয়ে ওই কিশোরীর পাশের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর ওই কিশোরীকে টার্গেট করে তার পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মিলন ও তার স্ত্রী বেড়াতে যাবেন এবং বিকেলে ফিরে আসবেন-এমন কথা বলে ওই কিশোরীকে তার বাবা-মার কাছ থেকে নিয়ে যান।

পরে কৌশলে নেশা জাতীয় পানীয় পান করে লাকসাম রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয় ওই কিশোরীকে। এরপর তারা ওই কিশোরীর মায়ের মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা ৮ ফেব্রুয়ারি লাকসাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।

অপহরণকারীরা ওই কিশোরীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণ করত বলেও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়।

এএসপি শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওই কিশোরীকে উদ্ধারে আমরা অভিযানে নামি এবং মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীচক্রের অবস্থান নিশ্চিত হই। এরপর অভিযান চালিয়ে বুধবার চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার একটি বাড়ি থেকে ভিকটিমকে উদ্ধারসহ অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে এভাবে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। এ ঘটনায় অপহরণকারী এই চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::