তারিখ: মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০১৯ ইং, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

কোটি টাকার প্রশ্নই বটে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এসব নিয়ে কম কাটাছেঁড়া হয়নি। সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম সব বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে ২-১টি দল বাদে প্রায় সবারই বিশ্বকাপ জেতার ক্ষমতা আছে। রিকি পন্টিং আবার বলছেন, এ বিশ্বকাপ যে কেউ জিততে পারে।

সৌরভ গাঙ্গুলী মনে করেন, সেমিফাইনালে যাবেÑ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের সব কিছুই আছে। তবে একটি টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি হেরে যাওয়া তাদের অভ্যাস।

২০১৫ সালে তারা বাংলাদেশের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। ভারতকে সবাই সামনে রাখছে। আগের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে হেরে যায় দলটি। অস্ট্রেলিয়া আসলেই ক্রিকেট বিশ্বকাপের দল।

৫ বারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো সহজ কথা না। এবার এ দলটি বেশ ভারসাম্য নিয়ে আসছে। ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ ১ বছর নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন। বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে দীর্ঘদিন টিমের সঙ্গে নেই তারা।

এ দলটির প্রতিটি খেলোয়াড়ই ম্যাচে কিছু না কিছু কন্ট্রিবিউট করে। চিন্তার অবশ্য কারণ রয়েছে। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা স্মিথ ও ওয়ার্নারকে ‘ক্রিকেটের প্রতারক’ হিসেবে দেখছে।

মাঠে চিৎকার করে সে কথা তারা (দুয়ো ধ্বনি) বলেছেও। স্মিথ শুনেছেন সেসব গালমন্দ। তিনি এসবের জবাব পারফরম্যান্স দিয়ে দেবেন। ওপেনার থেকে শুরু করে ফাস্ট বোলিং, এ সামার ক্রিকেট বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া আবারও ফেবারিট।

অফ স্পিনার লায়ন, আবার লেগব্রেক গুগলিকে পারদর্শী অ্যাডাম জাম্পা রয়েছেন এ দলে। উসমান খাজা, ফিঞ্চ, ওয়ার্নার, স্মিথ ও শন মার্শ রানের পাহাড় গড়তে বসে আছেন।

এ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে দেখা যেতেই পারে। ভারতও অস্ট্রেলিয়ার মতোই। চায়নাম্যান বোলার, লেগ স্পিনার, পেসার নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে। পেসাররা ব্যাটিং স্বর্গে সুবিধা করতে পারবে না। তখন এ স্পিনাররাই ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারে।

কোহলি দ্য রান মেশিন, ধাওয়ানÑ শর্মা দুর্দান্ত ওপেনার। এ দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি মহেন্দ্র সিং ধোনি। উইকেটে পেছনে ও সামনে একাই যথেষ্ট। ভারতের শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে এবারও।

মাশরাফির বাংলাদেশকে নিয়ে কথা হচ্ছে অনেক। ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা দলটি শিরোপা জিতবে এমন কথা হরহামেশা শোনা যাচ্ছে। লিটন ও তামিম ওপেনিংয়ে ভালো করছেন।

সাকিবের জন্য তিন নম্বর জায়গাটি বরাদ্দ। তিনি সফল। এর পর মুশফিক বা মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশের শক্তির জায়গা টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। মাশরাফি ও রুবেল পেস বোলিংয়ে অভিজ্ঞ। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন সাইফউদ্দিন।

ব্যাট হাতে বেশ ভালোই তিনি। সময়মতো জ্বলে উঠতে হবে। বাংলাদেশ সেমিফাইনালে যাবে যদি টপ ও মিডলঅর্ডার ভালো করে। তবে স্বপ্ন আরও বড়। সেমিফাইনালের পরেই ফাইনাল। দুটি ম্যাচ জিততে পারলে বিশ্বকাপ।

পাকিস্তান দল নিয়ে বিশ্বকাপের আগে কাটাছেঁড়া করেছে। জুনায়েদ খানকে বাদ দিয়ে তারা মোহাম্মদ আমিরকে নিয়েছে। ফখর জামানের পাশে ওপেনিংয়ে ইমাম উল হক। বাবর আজম প্রতিভাবান তরুণ ব্যাটসম্যান।

এ ছাড়া এই দলটির শক্তি বৈচিত্র্যময় পেস বোলিং এবং হাফিজ-মালিক। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের সাড়ে তিনশ করতে পারলে এ টুর্নামেন্টে তারা ভয়ঙ্কর। ইংল্যান্ড বেশ আশা-জাগানিয়া দল।

অ্যালেক্স হেলস ডোপ পাপে নিষিদ্ধ না হলে তারা সবচেয়ে প্রতিভাবান দল এ বিশ্বকাপে। জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো ওপেনিংয়ে আসবেন। তা ছাড়া জস বাটলার এ দলটির বড় শক্তি।

ফাস্ট বোলিংয়ে ওকস, উড ও কারেন আগুন ঝরাবেন। বেন স্টোকস, মইন আলি দারুণ অলরাউন্ডার। আদিল রশিদ রয়েছেন লেগ স্পিনার। স্বাগতিক হিসেবে কোনো গ্যাপ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ট্র্যাজেডির জন্ম না দিলে এতোদিন বিশ্বকাপ জিতে নিত।

এবার ভালো একটি দল নিয়ে আসছে তারা। আমলা-কক-মিলার-প্লেসিস এ দলটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান। পেস বোলিংয়ে আছেন রাবাদা ও স্টেইন। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও তারা ফেবারিট।

নিউজিল্যান্ড গত বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে। এবারও তারা ভালো করার চেষ্টা করবে। তবে গত আসরে পুরো টুর্নামেন্ট ভালো খেলে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে কোনো চ্যালেঞ্জই দিতে পারেনি তারা। এ দলের ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান মানরো-গাপটিল-উইলিয়ামসন।

ভালো ভালো ব্যাটসম্যান আছেন। মানরো-নিশামও কম নন। টুর্নামেন্ট গড়ালে বোঝা যাবে। মাহেলা ও সাঙ্গাকারা যাওয়ার পর শ্রীলংকা দল এলোমেলো। এ বিশ্বকাপে শ্রীলংকাকে নিয়ে বাজি ধরার লোক কম। তার পরও বিশ্ব মঞ্চে যে কোনো দলের পক্ষেই জ্বলে ওঠা সম্ভব।

আফগানিস্তানের এটা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। বেচারা রশিদ খানকে নিয়ে ইদানীং ভালো ট্রল হয়। এ বিশ্বকাপে দু-একটি অঘটন তারা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে জমে উঠবে বিশ্বকাপ। ২ বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের রাজা তারা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও।

ওয়ানডেতে তারা মোটেও ভালো নয়। সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে অসহায়ভাবে। বাংলাদেশ সামনে থেকে আক্রমণ করেছে। রাসেল-গেইল-শাই হোপে আশা দেখতে পারে ক্যারিবীয়রা।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::