বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

করোনার মাঝেও দেশজুড়ে আলোচনায় সিনহা হত্যা!

বলরাম দাশ অনুপম::

প্রকাশ: ডিসেম্বর ৩০, ২০২০ ১১:২১ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: ডিসেম্বর ৩০, ২০২০ ১১:২১ অপরাহ্ণ

চিরচারিত নিয়মে বিদায় নিচ্ছে আরো একটি বছর-২০২০ইং। আসছে নতুন বছর। শুক্রবার পুরো জাতি বরণ করবে নতুন বছর ২০২১ সালকে। বিদায়ী ২০২০ সালের প্রায় পুরো সময় জুড়ে ছিল করোনার মহামারি নিয়ে আতংক, মৃত্যুর মিছিল ও থমথমে অবস্থা। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেও অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনা, আলোচনা-সমালোচনার বছর হিসেবে ছিল ২০২০। কক্সবাজার জেলায় ২০২০ সালের কয়েকটি আলোচিত ঘটনার মধ্যে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল অন্যতম। এঘটনায় কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে কনষ্টেবল পর্যন্ত সবাইকে একযোগে বদলী করার ঘটনাও ছিল দেশের ইতিহাসে প্রথম। এছাড়াও করোনার কারণে পর্যটন শিল্পে বিরাট ক্ষতির সম্মুখিন হয়। পাশাপাশি বছরের শেষ প্রান্তে এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন সমালোচিত সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি। এই সাবেক সাংসাদকে পিতা দাবী করে এক যুবকের আদালতে মামলার বিষয়টিও ছিল জেলার গন্ডি পেরিয়ে সারা দেশের আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়। তবে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা নাড়া দিয়েছে পুরো দেশজুড়ে।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা ঃ
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে টেকনাফ শামলাপুর এপিবিএন পুলিশের চেকপোষ্টে পুলিশে গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৫ আগস্ট নিহত মেজর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে ১নং ও টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২নং আসামি করে মোট ৯ জন পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্ত করার আদেশ দেন র‌্যাবকে। মামলা দায়েরের পরের দিন অর্থ্যা ৬ আগস্ট প্রধান মিসামী লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
পরবর্তীতে সিনহা হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে পুলিশের দায়ের মামলার ৩ জন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া একই অভিযোগে পরে গ্রেফতার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক সদস্য কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও। গ্রেফতার ১৪ আসামিকে আলোচিত এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ খায়রুল ইসলাম বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদের মধ্যে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ আসামি আদালতে ঘটনার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে চার্জশীট ঃ
এদিকে দীর্ঘ ৪ মাস তদন্ত শেষে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে র‌্যাবের মামলা তদন্তকারি কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ খায়রুল ইসলাম গত ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন। এর মধ্যে সিনহা হত্যা মামলায় ১৪ জন জেল হাজতে আছে। আরেকজন পলাতক রয়েছে। আদালত ইতিমধ্যে উক্ত চার্জশিটটি গ্রহন করেছেন। একই ঘটনায় পুলিশের দায়েরকরা ৩টি মামলার চুড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত দুই মামলা থেকে সিনহার সহযোগি সিফাতকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আরেক মামলায় সিফ্রা অব্যাহতি চাইলে তদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি দেন পুলিশ। পরে আদালত বিষয়টি শুনানীর জন্য পরবর্তী দিন ধায্য করেছেন। সারা বছর জুড়ে সিনহা ও করোনা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইলেও বছরের শেষ প্রান্তে এসে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনায় আসেন উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি।
সাবেক এমপি বদিকে পিতা দাবি করে যুবকের মামলা ঃ
২০২০ সালের শেষের দিকে এসে সমালোচিত সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিকে পিতা দাবী করে এক যুবকের আদালতে মামলা করার ঘটনাটিও বছরের আলোচিত ঘটনার জন্ম দেয়। জানা যায়-গত ১৩ ডিসেম্বর উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে পিতা দাবি করে আদালতে মামলা করেন ইসহাক নামের এক যুবক। পাশাপাশি সাবেক এই এমপিকে পিতা প্রমাণে আদালতের কাছে ডিএনএ টেস্টের দাবিও করেন ওই যুবক। ১৩ ডিসেম্বর (রোববার) টেকনাফ সহকারী জজ জিয়াউল হকের আদালতে আবেদনটি করেন মো. ইসহাক (২৬) নামে ওই যুবক। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত বদির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দীন বলেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। পাশাপাশি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সমনের জবাব দিতে বিবাদী আবদুর রহমান বদিকে বলা হয়েছে। মামলার বাদীপক্ষের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দীনও মামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আদালতে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালের ৫ এপ্রিল মামলার বাদী ইসহাকের মা সুফিয়া খাতুনকে কালেমা পড়ে বিয়ে করেন আবদুর রহমান বদি। ওই সময়ে বিয়ে পড়ানোর আয়োজন হয় বদির পারিবারিক আবাসিক হোটেল নিরিবিলিতে। তখন বিয়ে পড়ান কর্মরত মৌলভী আবদুস সালাম। বিয়ের সাক্ষী ছিলেন ওই হোটেলের দারোয়ান এখলাছ।
মো. ইসহাক জানান, ছোটবেলা থেকে তিনি মায়ের কাছে শুনে এসেছেন তার বাবা আবদুর রহমান বদি। কিন্তু কখনও তিনি বাবার স্নেহ-ভালোবাসা পাননি। বাবার স্বীকৃতির দাবিতে মায়ের সঙ্গে তিনি অসংখ্যবার আবদুর রহমান বদির কাছে যান। কিন্তু আবদুর রহমান বদি তার রাজনৈতিক শত্রু ও সামাজিক অবস্থানসহ নানা সমীকরণ দেখিয়ে তাকে এবং তার মাকে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। এ কারণে তার মা স্বামীর (আবদুর রহমান বদি) কথার অবাধ্য হননি। তাই তার মা সুফিয়া খাতুন এতদিন চুপ ছিলেন। কিন্তু দিনের পর দিন স্বীকৃতি দেয়ার আশ্বাসে কালক্ষেপণ করায় আদালত পর্যন্ত এসেছেন বলে জানান মামলার বাদী মো. ইসহাক।
ইসহাক আরও জানান, দীর্ঘ এ সময় ধরে মা-ছেলে মৌলভী আবদুস সালামের কাছে আশ্রিত আছেন। অভাব-অনটনে চলছে তাদের জীবন। তবুও নিষ্ঠুর বাবার মন গলছে না। ইসহাকের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা মা-ছেলে আবদুর রহমান বদির ছোটবোন শামসুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা ঘরোয়াভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু বদি কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
ইসহাক জানান, সম্প্রতি দুদকের মামলায় হাজিরা দিয়ে টেকনাফে ফুলেল সংবর্ধনা গ্রহণকালে বদি তার একমাত্র ছেলে শাওন ছাড়া আর কোনো ছেলে নেই দাবি করে বক্তব্য দেন। এরপর ইসহাক সিদ্ধান্ত নেন তিনি আর চুপ থাকবেন না। তাই তিনি আদালতের আশ্রয় নেন। এছাড়া এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
করোনা পরিস্থিতি :
কক্সবাজারে করোনায় ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৬৮৪ জন। আর করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৩ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কক্সবাজারের প্রবীন আইনজীবি ছালামত উল্লাহ রানা, সাংবাদিক আবদুর মোনায়েম খান, পর্যটন ব্যবসায়ী আবু সায়েম ডালিমসহ অনেক ব্যবসায়ী, সমাজপতি।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::