শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

কথায় কথায় চিকিৎসা বন্ধ, ফুঁসছে জনগণ

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১০, ২০১৯ ৭:০০ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১০, ২০১৯ ৭:০০ অপরাহ্ণ

আজিম নিহাদ, দৈনিক কক্সবাজার ::

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কথায় কথায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চিকিৎসা বন্ধের নামে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। সামাজিক ও অধিকার আদায়ের সংগঠনগুলো চিকিৎসকদের এ অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
সামাজিক আন্দোলনের নেতাদের দাবী, ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা সব সময় উগ্র মেজাজে থাকে। একটা কিছু হলেই আন্দোলনের নামে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয়। এরফলে অসহায়-দরিদ্র মানুষগুলো চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক সময় চিকিৎসা না পেয়ে রোগি মারাও যায়। ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের এই ধরণের নৈরাজ্য আর চলতে দেয়া যায় না। এর স্থায়ী সমাধান দরকার।
এদিকে আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের একের পর এক নৈরাজ্যের স্থায়ী সমাধানের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে অধিকার আদায়ের সংগঠন ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’।
এর আগে সোমবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ধর্মঘটের কারণে বিনা চিকিৎসায় রোগির মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করার হুঁশিয়ারী দেয় কক্সবাজার উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ।
ওই সংগঠনের সভাপতি রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ৪ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ধর্মঘটে সাতজন রোগি চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। তাদের পরিবারের পক্ষ হয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করা হবে। একটা সরকারি হাসপাতালে এই ধরণের নৈরাজ্য সহ্য করা যায় না।
‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ সংগঠনের সমন্বয়ক নাজিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং কথায় কথায় ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের মানুষ মারার ধর্মঘটের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ধর্মঘটের কারণে বিনা চিকিৎসায় যেসব রোগি মারা গেছে সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেতা কলিম উল্লাহ বলেন, হাসপাতালে একজন রোগির সাথে ভুল বুঝাবুঝি হতেই পারে। কিন্তু এটার জের ধরে কোন অবস্থায় জরুরি চিকিৎসা বন্ধ করা উচিত নয়। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। প্রত্যেকটি সরকারী হাসপাতালে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম না মেনে কথায় কথায় ধর্মঘট হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার বিএমএ’র এক শীর্ষ নেতার ইন্ধনে বার বার এসব ঘটনা ঘটছে। কারণ নৈপথ্যে তিনি প্রত্যেকটি বেসরকারী হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি চান, রোগিরা সরকারি হাসপাতাল বিমুখ হয়ে বেসরকারী হাসপাতালমুখী হোক। যাতে করে তার বেসরকারী হাসপাতালগুলো রমরমা ব্যবসা করতে পারে।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন পরে সরকারি-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত চিকিৎসা পাওয়া যাওয়া বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রোগিরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু বিএমএ’র শীর্ষ নেতা ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের ব্যবহার করে অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি করে হাসপাতালকে ধ্বংসের মিশনে নেমেছেন।
তিনি আরও বলেন, জেলার আট উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠির একমাত্র বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র সদর হাসপাতাল। তার উপর আবার অতিরিক্ত ১২ লক্ষ রোহিঙ্গার চাপ। একারণে সদর হাসপাতালে রোগির চাপ বেশি। কিন্তু সেই তুলনায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা অনেক সময় যারা পরিচালনায় থাকে তাদেরকে তোয়াক্কা করে না। একারণে একটি শক্ত ব্যবস্থাপনা দরকার।
৪ এপ্রিল সদর হাসপাতালে হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগি মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চিকিৎসককে মারধর করে রোগির স্বজনেরা। এঘটনায় কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা। ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসকদেরকেও কাজে যোগ দিতে বাঁধা দেয়। এরফলে ৬ এপ্রিল রাত পর্যন্ত চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পরে ৭ এপ্রিল চিকিৎসাসেবা মোটামুটি চালু হয়।
এরপর ৯ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় আবারও রোগির স্বজনেরা চিকিৎসককে লাঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা। ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগের গেইট পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে অনেক রোগি চিকিৎসা না পেয়ে অন্যত্র চলে যায়। এক অগ্নিদগ্ধ শিশুর কান্নায় হাসপাতালের পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে উঠলেও বরফ গলেনি ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের মনে। পরে অনেক চেষ্টার পর দুপুর দেড়টার দিকে চিকিৎসাসেবা চালু হয়।
এদিকে বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক দেখা যায়। কয়েকটি ওয়ার্ডে বরাদ্দ শয্যার চেয়ে বেশি রোগি দেখা যায়। আউটডোরেও রোগিদের প্রচ- ভীড় দেখা যায়।
সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের ৫ম তলার পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা রয়েছে ৩০টি। কিন্তু সেখানে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি ছিল ৪২ জন রোগি। একইভাবে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডেও আসনের চেয়ে অতিরিক্ত রোগি দেখা যায়। ওয়ার্ডগুলোতে সরকারি চিকিৎসকদের পাশাপাশি সেবা দিচ্ছেন ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন আব্দুর রহমান বলেন, এখন চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। পুরোদমে সেবা চলছে। রোগিরা আসছেন। ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরাও কাজে যোগ দিয়েছেন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::